পণ্যের মত সেবা আমদানি-রপ্তানিও আইনের আওতায় আসছে

“এ আইনে আগে সেবা কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল না। শুধু পণ্য ছিল। এখন সেবাকে অন্তর্ভুক্ত করা হল।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 April 2024, 01:23 PM
Updated : 1 April 2024, 01:23 PM

পণ্য আমদানি-রপ্তানির মত সেবাকেও বৈদেশিক বাণিজ্যের নীতিমালার আওতায় এনে নতুন আইন করার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে সরকার।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘আমদানি ও রপ্তানি আইন-২০২৪’ এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, এতদিন আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করার কাজটি করা হত ১৯৫০ সালের ‘দ্য ইমপোর্টস অ্যান্ড এক্সপোর্টস কনট্রোল অ্যাক্ট’ এর মাধ্যমে।

“পুরোনো আইনগুলো পর্যায়ক্রমে যুগোপযোগী করার নির্দেশনা আছে। সেই নির্দেশনার আলোকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই আইন নিয়ে এসেছে। আগের আইনটাতে ছোটখাটো সংযুক্তি আছে।

“এ আইনে আগে সেবা কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল না। শুধু পণ্য ছিল। এখন সেবাকে অন্তর্ভুক্ত করা হল। আগের আইনের সবকিছু এখানে আনা হয়েছে। (আইনটি) বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে আর সেবাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”

উদাহরণ দিয়ে সচিব বলেন, “আগে ছিল কেবল পণ্য আমদানি রপ্তানির প্রসঙ্গ। এবার বাণিজ্যকভাবে সেবা আমদানি ও রপ্তানির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেবা বলতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ‘জেনারেল এগ্রিমেন্ট অন ট্রেড ইন সার্ভিস এগ্রিমেন্টে’ সেবার সজ্ঞায় বর্ণিত শর্তগুলোকে বিবেচনা করা হয়েছে।”

নতুন আইন পাস হলে, পণ্যের মত সেবার আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করতে পারবে সরকার। এ সংক্রান্ত আদেশ ও বিধিনিষেধ প্রণয়ন করতে পারবে; নীতি প্রণয়ন করতে পারবে।

এ আইনে মাত্র ১৬টি ধারা থাকছে জানিয়ে সচিব বলেন, বিধিতে আরো বিস্তারিত থাকবে।

বিধবা ভাতা নীতিমালা

এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৪ এর খসড়াও অনুমোদন করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের একটা বড় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি হচ্ছে বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতার ভাড়া কর্মসূচি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৮/৯৯ সালে এটা শুরু করে গিয়েছিলেন।

“সে সময় প্রতি ওয়ার্ডে ১০ জন করে বিধবাকে ভাতা দেওয়া হত। চলতি ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ২৫ লাখ ৭৫ হাজার বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত নারীকে প্রতিমাসে ৫৫০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এই নীতিমালায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।”

আগের নীতিমালায় ভাতা পাওয়ার যোগ্যতার ক্ষেত্রে বলা ছিল, ভাতাভোগীর বার্ষিক আয় ১২ হাজার টাকার নিচে হতে হবে। তা বাড়িয়ে ১৫ হাজার টাকা করা হচ্ছে।

এই ভাতা এখন এমএফএসের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। নীতিমালায় এ পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে ভাতাভোগীদের বাছাইয়ের যে প্রক্রিয়া এখন চলছে, সেটাও নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিগত সংসদে পাস করার জন্য অনুমোদন দেওয়া তিনটি আইনকে নিয়ম অনুযায়ী আবারও অনুমোদন দেওয়া হয় সোমবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে।

সচিব বলেন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়ে আগের সংসদে গিয়েছে এমন বেশ কিছু আইন পাস হওয়ার আগেই সংসদের মেয়াদ শেষ হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ধাপে ধাপে মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিয়ে সেগুলো আবার সংসদে পরবর্তী অধিবেশনের জন্য পাঠানো হচ্ছে।

এর অংশ হিসেবে পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন ২০২৪ এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

একইভাবে বিদেশি সেচ্ছাসেবী সংস্থা (স্থাবর সম্পত্তি অর্জন নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০২৪ এবং বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (সংশোধন) আইন ২০২৪ এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

এ আইনগুলো মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিয়ে গত সংসদে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পাস হওয়ার আগেই সংসদের মেয়াদ শেষ হয়।