Published : 02 Aug 2025, 09:23 PM
দীর্ঘ ২২ বছর ধরে বন্ধ থাকা বরেন্দ্র রাজশাহী টেক্সটাইল মিল পুনরায় চালু করে ছয় মাসে দুই হাজার কর্মসংস্থান তৈরির তথ্য দিয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ।
আরও ১০ হাজার কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে টেলি মার্কেটিং, তৈরি পোশাকসহ নতুন খাতে বিনিয়োগের লক্ষ্যে কাজ করছে শিল্পগ্রুপটি।
শনিবার জেলার সপুরায় বরেন্দ্র রাজশাহী টেক্সটাইল লিমিটেড কারখানাতে ‘দুই হাজার কর্মসংস্থান উদযাপন, লক্ষ্য ১২ হাজার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য দেওয়া হয় বলে প্রাণ-আরএফএলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা একটি রাষ্ট্রায়ত্ত মিল পুনরায় চালু করে এত স্বল্প সময়ে দুই হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি সত্যিই প্রশংসনীয়। এটি শুধু একটি শিল্প কারখানা চালু হওয়া নয়, এটি একটি অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের সূচনা।
“বর্তমান সময়ে যখন দেশের গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনপদের মানুষ কর্মসংস্থানের অভাবে শহরমুখী হচ্ছে, তখন প্রাণ-আরএফএল-এর মত প্রতিষ্ঠান স্থানীয় পর্যায়ে শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে, যা টেকসই উন্নয়নের অন্যতম মূল ভিত্তি।”
অনুষ্ঠানে কয়েকজন নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন তিনি।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী আহসান খান চৌধুরী বলেন, “আমরা মনে করি, কাজের জন্য ঢাকায় যাওয়ার দিন ফুরিয়ে আসছে। বরং আমরা আগামী দিনে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে শিল্প স্থাপন করে চাকরির অফার লেটার নিয়ে ঘুরব। আমরা রাজশাহীতে শ্রমঘন শিল্পে বিনিয়োগ করছি এবং প্রচুর লোকের কাজের সুযোগ তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছি।
“এই কারখানাটি হবে সম্পূর্ণ টেকসই সবুজ শিল্পপার্ক। এ কারখানার পণ্য শতভাগ রপ্তানিমুখী হবে। আমরা এখানে নারীদের কর্মসংস্থান তৈরির জন্য নতুন নতুন ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করছি। আমরা এখানে টেলি মার্কেটিং প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছি যেখানে আগামী দিনে প্রচুর নারীর কর্মসংস্থান তৈরি হবে।”
রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল করপোরেশনের (বিটিএমসি) সঙ্গে প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপের ভিত্তিতে প্রাণ-আরএফএল গত ২২ বছর ধরে বন্ধ থাকা রাজশাহী টেক্সটাইল মিল পুনরায় চালু করতে গত অক্টোবরে চুক্তি করে।
গত ডিসেম্বরে বিটিএমসি’র কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে পাওয়ার পরপরই জীর্ন কারখানাটি ইতোমধ্যে সচল করতে সক্ষম হয়েছে শিল্পগ্রুপটি। কারখানাতে থাকা পরিত্যক্ত একমাত্র শেডকে মেরামত করে বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ ও জুতা উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
ব্জ্ঞিপ্তিতে বলা হয়, অনুষ্ঠানে দুই হাজার কর্মসংস্থান তৈরির মাইলফলক উদযাপনের কেক কাটা হয়।
অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান, রাজশাহীর পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল করপোরেশনের ম্যানেজার নুরুল আলমসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।