Published : 20 Nov 2025, 02:02 AM
চট্টগ্রামের লালদিয়ার চরে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার ভার ডেনিশ কোম্পানিকে দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকার ইতিবাচক বিনিয়োগ হিসেবে দেখলেও বাদ-প্রতিবাদ আর সমালোচনাও পিছু ছাড়ছে না।
দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের অদূরেই আরেকটি টার্মিনালে পশ্চিমা কোম্পানিকে যুক্ত করাকে গুরুত্বপূর্ণ ‘অবকাঠামো ছেড়ে দেওয়া’ হিসেবে দেখছেন অনেকে। ভবিষ্যতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার পাশাপাশি বিদেশি শক্তির ‘ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের’ কৌশলের অংশ হওয়ার শঙ্কার বিষয়টিও আলোচনা আসছে।
অবস্থানগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে কর্ণফুলী নদীর ডান তীরের এ চরে নির্মাণ হতে যাওয়া টার্মিনালটি মূল বন্দরের ‘বড়’ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে কি না সেই শঙ্কার কথাও বলছেন বন্দর সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ।
তবে ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারীদের অনেকে এ বন্দরে লাভই দেখছেন বেশি। দীর্ঘদিন থেকে বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকা এ টার্মিনালের কাজের সঙ্গে ইউরোপের একটি কোম্পানি যুক্ত হওয়া বিদেশি বিনিয়োগের জন্য ভালো বার্তা বলে মনে করছেন তারা।
পণ্য খালাস হবে দ্রুত, বন্দরের কাজে ফিরবে গতি এমন মন্তব্য করে তারা বলছেন, এতে ব্যবসা-বাণিজ্য গতিশীল হবে। ব্যবসার খরচ কমবে আর বছরের পর বছর ধরে দেশের বন্দরে জাহাজ বসে থাকা কিংবা খালাসের জন্য পণ্য পড়ে থাকার দুর্নাম ঘুচবে বলে আশা তাদের।
লালদিয়ার টার্মিনালে বিদেশি কোম্পানি যুক্ত করার পক্ষে বিপক্ষে এমন যুক্তি তর্কের মধ্যে ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তিকে ‘জাতির জন্য বড় অবদান’ এর মত সাফল্য হিসেবে দেখছে অন্তর্বর্তী সরকার।
এর বিপরীতে নির্মাণ হতে যাওয়া এ টার্মিনালসহ বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশিদের দেওয়ার বিরোধীতাকারী রাজনৈতিক দল, সংগঠন, অ্যাক্টিভিস্ট ও বিশ্লেষকদের তরফে এটি অন্তর্বর্তী সরকারের এখতিয়ারের বাইরে বলে দাবি করেছেন। সংসদবিহীন এই সময়ে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আসা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন এ সরকারের এমন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করার অধিকার আছে কি না- সেই প্রশ্নও তুলছেন তারা।
তবে ডেনিশ কোম্পানিকে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল দেওয়ার আলোচনা এবারই প্রথম এমনটা নয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে এ টার্মিনাল নির্মাণে ডেনিশ একটি কোম্পানিকে যুক্তের বিষয়টি ২০২১ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সরকার চালু রাখে। পরে তা খুব বেশি এগোয়নি।
এবার ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালসের প্রস্তাব দাখিলের পর থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে চুক্তি করে ফেলায় তড়িঘড়ি করার প্রশ্ন উঠেছে; সরকারের ‘ভিন্ন কোনো’ মনোভাব আছে কি না সেই সমালোচনাও জোরালো হচ্ছে।
যে কারণে বিশ্বব্যাপী বন্দর ও টার্মিনাল পরিচালনায় কোম্পানিটির পরিচিতি থাকলেও তা বাংলাদেশে ওঠা সমালোচনাকে বন্ধ করতে পারছে না। সরকারের তরফে বারবার কোম্পানিটির সক্ষমতা ও বড় অঙ্কের বিদেশি বিনিয়োগের তথ্যকে সামনে এনেও বাদ-প্রতিবাদ থামছে না। ‘গোপন চুক্তি’ করে ‘বিশ্বাসঘাতক’ এর অভিযোগের তকমাও শুনতে হচ্ছে কারও কারও কাছ থেকে।

এর সঙ্গে সমালোচনায় যুক্ত হয়েছে চুক্তির দিন বেছে নেওয়ার বিষয়টি। চব্বিশের অভ্যুত্থান দমনের মানবতাবাদী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের প্রথম রায় আসার দিন সোমবারকে বেছে নেওয়া হয়েছে চুক্তির দিন হিসেবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীনও বিষয়টিকে ভিন্ন চোখেই দেখছেন। তিনি বলেন, সবাই যখন হাসিনার রায় কী হবে তা নিয়ে অপেক্ষারত তখন ঢাকার একটি হোটেলে এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে চুক্তি করে ফেলাকে ভূ-রাজনীতির পাঠ থেকে দেখতে হবে।
তার ভাষ্য, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের কথা আমরা বারবার শুনেছি কিংবা এর আগে আমরা দেখেছি, যে সরকার পরিবর্তনে আমেরিকার ভূমিকার কথা বিভিন্ন জায়গা থেকে বলা হয়েছে। এবং বারবার আওয়ামী লীগও বলেছে যে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র দ্বারা তাদেরকে উত্খাত করা হয়েছে।
“এবং এখনো আমরা দেখেছি যে ‘একটা চুক্তি খুবই গোপনে’ স্বাক্ষরিত হল। যেটি হল সেটি- আন্তর্জাতিক একটা প্রক্রিয়ারই অংশ, আন্তর্জাতিক আগ্রহের একটা অংশ। বন্দরগুলোকে বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া।”
ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে নৌপরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “এ চুক্তি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জাতির জন্য বড় অবদান। যাদের মধ্যে এ নিয়ে সন্দেহ ছিল, আশা করি, আজ তা দূর হবে।”
এর বিপরীতে অবস্থান নিয়ে ‘যারা চুক্তি করেছে’ তাদের কঠোর সমালোচনা করেছেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও বন্দরের মত জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে সোচ্চার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এ অধ্যাপক বলেন, “গোপনীয়তা, অস্বচ্ছতা আর মাত্রাতিরিক্ত তাড়াহুড়ার মধ্য দিয়ে এই সরকার বিদেশি কোম্পানি আর তাদের দেশি হিটম্যানদের স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে যেভাবে চুক্তি করছে তাতে ‘ইতিহাসে এরা বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবেই চিহ্নিত থাকবে।
“আর যেসব রাজনৈতিক দল দিনরাত সরকারের সঙ্গে দেনদরবার, হাসিঠাট্টা আর ফটোসেশনে সময় দিয়েছে কিন্তু এসব জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি ও তার অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে টু শব্দ করেনি তাদেরকেও এই বিশ্বাসঘাতকতার দায় বহন করতে হবে।”
লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে ডেনিশ এ কোম্পানির সঙ্গে ‘পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ’ প্রকল্প আকারে চুক্তি হয়েছে। যেখানে সম্পূর্ণ বিনিয়োগ করবে কোম্পানিটি।
২০৩০ সালের মধ্যে তিন বছরে নির্মাণ কাজ সমাপ্ত ও এরপর পরিচালনার জন্য ৩০ বছরের চুক্তি হয়েছে কোম্পানিটির সঙ্গে। সেক্ষেত্রে ‘সাইনিং মানি’ হিসেবে ২৫০ কোটি টাকা এবং নির্মাণকালে সব মিলিয়ে প্রায় ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার কথা বলেছে এপিএম। সরকার থেকে কোনো অর্থায়ন বা গ্যারান্টি প্রদান করা হচ্ছে না।

চুক্তিতে ভীষণ তাড়া
অন্তর্বর্তী সরকার মাস কয়েক ধরে বিভিন্ন বন্দর ও টার্মিনাল সচল এবং সক্ষমতা বাড়াতে বিদেশি কোম্পানির বিনিয়োগ নেওয়ার কাজ জোরেশোরে শুরু করে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং লালদিয়ার কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনার কাজ বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার ঘোষণা আসে সরকারের তরফে।
এরপর আন্দোলনে নামে বিভিন্ন বামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি এসব দলের শ্রমিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গড়ে বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে তারা।
প্রতিবাদ-আন্দোলনের মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে ৩৩ বছরের লালদিয়ার চরে টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনায় চুক্তি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
প্রস্তাব আসা থেকে তা চূড়ান্ত করে খুবই দ্রুততার সঙ্গে চুক্তি সই হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে কাজ দিতে সরকারি ছুটির দিনও কাজ করার তথ্য মিলেছে। চলতি মাসের ৪ তারিখে এপিএম টার্মিনালস প্রস্তাব দাখিলের পর ১৭ নভেম্বর চুক্তি হয়েছে। কারিগরি প্রস্তাব মূল্যায়ন, আর্থিক প্রস্তাব মূল্যায়ন, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নেগোসিয়েশন, বন্দর সভায় অনুমোদন, নৌপরিবহন ও আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনসহ অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভায় অনুমোদনের সুপারিশ ও চূড়ান্ত অনুমোদন মেলে প্রধান উপদেষ্টার তরফে।
এর বাইরে কর সংক্রান্ত বিষয় থাকায় অনুমোদন মিলেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডেরও।
এর আগে লালদিয়ায় কন্টেইনার টার্মিনাল প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে। ২০২১ সালের জুনে ডেনমার্ক সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের ‘জি টু জি’ সমঝোতা হয়। আড়াই বছর পর ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দুই দেশের যৌথ সভায় লালদিয়া প্রকল্প নির্বাচন করা হয়।
আগের সরকারের আড়াই বছরেও তা আলোর মুখ না দেখলেও এ সরকার আসার পর প্রাথমিক আলোচনার পালে হাওয়া লাগে; দাপ্তরিক বা অফিসিয়াল কাগুজে হিসাবনিকাশ মেলে দু’সপ্তাহের মত সময়ে।
এ নিয়ে সরব আন্দোলনরত স্কপ নেতারা। তাদের অভিযোগ দেশের ‘স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে’ সরকার ‘দেশবিরোধী এ চুক্তি’ করেছে। জোটের অন্যতম শ্রমিক সংগঠন ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি তপন দত্ত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, জনগণকে ‘ঠকিয়ে’ এ চুক্তি করা হয়েছে।
“অর্ন্তবর্তী সরকারের এ চুক্তি করার কোনো অধিকার নেই। দেশের র্স্বাথ সংশ্লিষ্ট কোন চুক্তি যখন হবে তার আগে সংসদে তুলতে হয়। সেখানে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত আসবে।
“দেশের মানুষকে অন্ধকারে রেখে তাড়াহুড়ো করে এ চুক্তি কেনো? নিশ্চয় কোনো সমস্যা আছে।”
লালদিয়ার চর টার্মিনালের স্থানের আশপাশে বিমানবন্দর, নৌবাহিনীর ঘাঁটিসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসবের কাছেই বিদেশি একটি প্রতিষ্ঠানকে টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে ‘জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে’ ফেলা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনা করে লাভের মুখ দেখছে সরকার। একইসঙ্গে বন্দরের বিদ্যমান টার্মিনাল দেশি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেও মুনাফা আসছে। সেখানে বন্দরের বিনিয়োগে তৈরি পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনার ভার সৌদি আরবের একটি কোম্পানিকে দিয়েও কাঙ্খিত লাভ হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন এই শ্রমিক নেতা।
এ প্রেক্ষিত্রে লালদিয়ার চরে বিদেশি প্রতিষ্ঠান আনা ‘কতটুকু কাজের হবে’ সে প্রশ্ন রাখেন তিনি।
এছাড়া নির্মাণের পর লালদিয়ার চর পুরোপুরি অপারেশনাল কার্যক্রমে গেলে বর্তমানে লাভজনক টার্মিনাল এনসিটি তখন ‘বসে যেতে পারে’ বলেও শঙ্কা তপন দত্তের।
তাড়াতাড়ি করা নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে বিডার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বিস্ময় প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “আশ্চর্য! সারাজীবন শুনলাম সরকারি অফিস ঢিলা। ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট সময়মতো করতে পারলে আমাদের দেশ নাকি কোথায় চলে যেতো!
“এখন যখন সরকারের কিছু অন্তপ্রাণ অফিসার লেজার ফোকাস নিয়ে দিনরাত খেটে একটা বড় কাজ এগিয়ে নিয়ে গেলো, তখনতো সবার বলা উচিত, "দে মেড আস ফ্লাই!!" কারো সাথে মিল খুঁজবেন না। ঐটা কাকতাল।”

ব্যবসায়ীরা ইতিবাচক, প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
এপিএম টার্মিনালস বিশ্বখ্যাত এপি মোলার-মেয়ার্স্ক গ্রুপের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন কোম্পানি। বিশ্বের শীর্ষ ২০টি বন্দরের ১০টি পরিচালনা করে এটি। এখন ৩৩টি দেশে মোট ৬০টির বেশি টার্মিনাল পরিচালনার কাছ করছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, ও চীনে পরিচালনা করছে তারা।
ভারতেও টার্মিনাল পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে কোম্পানিটির। মুম্বাইয়ে নভসেবা জওহরলাল নেহেরু বন্দরের একটি টার্মিনাল পরিচালনা করে আসছে এপিএম টার্মিনালস। পিপাভাব কার্গো বন্দরটিও পরিচালনা করে আসছে এ কোম্পানি।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ লালদিয়ার চরের টার্মিনালটি বিদেশিদের দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘ভালো’ ও ‘সময়োপযোগী পদক্ষেপ’ বলে মনে করেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “এ টার্মিনাল হলে এখনকার চেয়ে দৈর্ঘ্যে এবং আরও বেশি ড্রাফটের জাহাজ সেখানে ভিড়তে পারবে। এসব জাহাজে করে অনেক বেশি পরিমাণে কন্টেইনার পরিবহন হবে। এতে করে সময় ও অর্থ দুটোই বাঁচবে।
“নতুন এ বন্দরে যন্ত্রপাতিও আসবে সর্বাধুনিক। বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের বর্তমান পদ্ধতিটাই তারা বদলে দেবে।”
লালদিয়ার চর বিদেশিদের পরিচালনার চুক্তিতে ‘নেগেটিভ’ কিছুই দেখেন না মন্তব্য করে তিনি বলেন, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর এবং বে-টার্মিনালের ক্ষেত্রেও কারা পরিচালনা করতে পারে বা সেভাবে পরিকল্পনা নিয়ে এগুনো দরকার।
দ্রুত চুক্তি করার বিষয়ে তিনি বলেন, “কিন্তু তাড়াহুড়ো করে চুক্তি যেহেতু হয়েছে সেকারণে প্রশ্ন উঠছে। কীভাবে হবে সেটা প্রকাশ করলে হয়ত তেমন প্রশ্ন উঠত না। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিশ্চয় চিন্তাভাবনা করেই ডেনিশ কোম্পানিকে এ কাজ দিয়েছে।”
তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি এস এম আবু
তৈয়ব লালদিয়ার চর টার্মিনালে বিদেশি অপারেটরের বিরোধিতার কারণ দেখেন না। বলেন, “বন্দরের নতুন একটা টার্মিনাল বিদেশি বিনিয়োগে হওয়াই যৌক্তিক বলে মনে করি।
“এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। নতুন টার্মিনল হলে বন্দরের ক্যাপাসিটি বাড়বে,
সময় কম লাগবে, নতুন প্রযুক্তি আসবে।”
তবে এনসিটির ব্যাপারে তাদের মূল্যায়ন থাকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “একটা চালু কন্দর কেন আমরা বিদেশিদের দেব। সেটা ভাবতে হবে।”

নেদারল্যান্ডস ‘সফট স্টেট’
এপিএম টার্মিনালস ডেনিশ কোম্পানি হলেও এটির নিবন্ধন নেদারল্যান্ডসে। দেশটির রাজধানী হেগে কোম্পানিটির প্রধান কার্যালয়। সেখানে নিবন্ধিত হওয়ায় দেশটির নিয়ম মেনে চলতে হয় কোম্পানিটিকে।
পরিবেশ-প্রতিবেশের প্রতি নেদারল্যান্ডসের আলাদা সচেতনতা থাকার সুনাম রয়েছে বিশ্বজুড়ে। পরিবেশের ক্ষেত্রে এ দিকটি আমলে নিলে এপিএমের সঙ্গে চুক্তিকে ইতিবাচক নম্বর দিতে চান আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক আমেনা মহসীন।
তার ভাষ্য, “আমরা তো জানি যে আমাদের কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের ব্যাপারগুলোতে বন্দরের সক্ষমতা নিয়ে তো অনেক ধরনের প্রশ্ন আছে, তাই না? এবং আমরা যদি আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যগুলোকে শক্তিশালী করতে চাই সেখানেও আমরা জানি যে আমাদের বন্দরের সুবিধাগুলো ‘কতটা দুর্বল’। সেই জায়গাটা তো আছে।
“আর নেদারল্যান্ডসের এক ধরনের ‘খ্যাতি’ আছে। যেখানে তারা খুব পরিবেশগতভাবে সচেতন থাকে। সেই জায়গাগুলো তারা দেখে। ওদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন নাই। ভারতের সাথেও তারা আছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তারা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক এক্ষেত্রে সবকিছুতে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখার পক্ষে নন।
তিনি বলেন, “যে জায়গাগুলো আমাদের দেখার দরকার হয়, সেগুলা হলো যে- ইকোলজিক্যালি এটা কতটুকু সাউন্ড আছে। আমরা কতটুকু বেনিফিট করছি। তো আমরা যদি পেয়ে থাকি, কারা আমাদের জন্য ভালো। অতীতে তো আমরা দেখেছি অনেক কিছু (চুক্তি) হয়েছে যেখানে আমরা কোন কিছুই পাইনি। তাই না? সো সেটা একটা ব্যাপার আছে।”
‘গ্লোবাল নর্থের’ অন্যান্য দেশের মতও নেদারল্যান্ডসকে দেখতে চান না তিনি। ফলে পশ্চিমা বিশ্বের অন্য দেশগুলো যেভাবে প্রভাব ফেলতে চায় তৃতীয় বিশ্ব বা ‘গ্লোবাল সাউথের’ ওপর, দেশটি এমন নয়। বরং ‘সেইফ স্টেট’ হিসেবে দেখা হয় বলে তিনি তুলে ধরেন।
বাংলাদেশের ‘কানেক্টিভিটি’ গড়ে তোলা প্রয়োজন বলেও তুলে ধরেন তিনি।

বিদেশি কোম্পানি কেন?
লালদিয়া টার্মিনালের তিনটি জেটিতে বছরে আট থেকে ১০ লাখ টিইইউএস (প্রতিটি ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একক হিসেবে) ওঠানো–নামানোর সক্ষমতা থাকবে। এর মধ্যে আট লাখ পর্যন্ত প্রতি একক কনটেইনারে ২১ ডলার করে পাবে সরকার। আর আট লাখের বেশি কনটেইনার ওঠানো–নামানো হলে প্রতি একক কনটেইনারের জন্য পাবে ২৩ ডলার করে।
পিপিপির আওতায় ‘জি টু জি’ ভিত্তিতে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালসকে দেওয়া হয়। এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের পক্ষে মধ্যস্থতা (ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজার) করেছে বিশ্বব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি)। তাদের মধ্যস্থতায় এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এক মাস ধরে আলোচনা চালায়।
ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালসের নতুন এ প্রকল্পে স্থানীয় অংশীদার হিসেবে রয়েছে কিউএনএস কনটেইনার সার্ভিসেস।
চট্টগ্রাম বন্দরের সবশেষ তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি-রপ্তানি মিলিয়ে ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৬৭ টিইইউএস কনটেইনার ওঠানামা হয়েছে। আগের অর্থবছরে (২০২৩-২৪) এর পরিমাণ ছিল ৩১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৯০ টিইইউস।
এ হিসাবে এক বছরে ৪ দশমিক ০২ শতাংশ বেশি কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করেছে চট্টগ্রাম বন্দর।
সাধারণত প্রতি অর্থবছরে এর কমবেশি কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করে থাকে চট্টগ্রাম বন্দর।
২০২৪ সালের জুনে বন্দর কতৃপক্ষের সঙ্গে মিলে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ একটা গবেষণার ফল প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, আমদানি কার্গো আসার পর তা খালাস পর্যন্ত সময় লেগে যায় গড়ে ১১ দিন ৯ ঘন্টা ৪৫ মিনিট। রপ্তানির ক্ষেত্রে এ সময়টা হচ্ছে ৪ দিন ২২ ঘন্টা ৩৮ মিনিট।
এমন প্রেক্ষাপটের কথা তুলে ধরে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে বিদেশি অপারেটরের প্রয়োজনীয়তা দেখছেন চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনা পরিষদের সাবেক সদস্য মো. জাফর আলম।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনায় একমাত্র দেশি অপারেটর ছিল সাইফ পাওয়ার টেক। তারা এনসিটি পরিচালনা করেছে। কিন্তু তাদের কাজের গতি এবং বিদেশি একটি প্রতিষ্ঠানের টার্মিনাল হ্যান্ডলিংয়ের প্রক্রিয়ায় অনেক র্পাথক্য রয়েছে।
নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বলেন, “আমাদের আশপাশের দেশের বন্দরগুলোও বিদেশি অপারেটর দ্বারা পরিাচলিত হয়। মিয়ানমার, ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ডে বিভিন্ন র্পোট এ প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হয়।”
তাদের সঙ্গে তুলনা করলেও চট্টগ্রাম বন্দর ‘অনেক পিছিয়ে’ তুলে ধরে বলেন, “আশপাশে আমাদের অনেক প্রতিযোগী তৈরি হয়ে গেছে। আমরা কেনো পিছিয়ে থাকবো। দেশি প্রতিষ্ঠান দ্বারা এটা সম্ভব নয়।
“বিদেশি প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব নিয়ে ব্যবস্থাপনা হবে অনেক উন্নত। আর বিনিয়োগও বিদেশী প্রতিষ্ঠান করবে। এতে ক্ষতি হবে না।”
লালদিয়ার চর টার্মিনাল হরে বন্দর এবং বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন দাবি করে তিনি বলেন, “বর্তমানে জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে বর্হিনোঙ্গর থেকে জাহাজ বন্দরে প্রবেশ করে। লালদিয়ার চর টার্মিনাল বর্হিনোঙ্গরের অদূরে হওয়ায় দিনে-রাতের যেকোন সময়ে সরাসরি টার্মিনালে আসতে পারবে।
“লম্বায় বড় এবং বেশি গভীরতার জাহাজ তখন সরসারি অনেক বেশি সংখ্যক কন্টেইনার জেটিতে ভিড়তে পারবে। এতে করে জাহাজ মালিকসহ সংশ্লিষ্টরা নানাভাবে উপকৃত হবেন।”
রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
চুক্তির আগে থেকেই বিএনপি নেতারা এ সরকার বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করতে পারেন কি না তা নিয়ে বেশ সরব ছিলেন।
চুক্তির আগের দিন রোববারও পটুয়াখালীতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘বিদেশিদের সঙ্গে গোপনে চুক্তি করার জন্য ক্ষমতায় বসানো হয়নি’ বলে বক্তব্য দেন।
তবে এ বিষয়ে দলীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য চাওয়া হলে তা মেলেনি।
সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্সও এ সরকারের ‘অধিকার’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “এখন ভূরাজনৈতিক দিক থেকে এই অঞ্চলে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ সহ অন্যরা নানাভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে চায়। একই সাথে এই অঞ্চলে অন্যান্য শক্তির সাথে পাল্লা দিতে যেয়ে বাংলাদেশকে অনেক কিছুর ক্রীড়নক বানাইতে চায়।
“এই প্রেক্ষিতে আমাদের বন্দর এটা একটা স্ট্র্যাটেজিক্যাল জায়গা। এবং এইটা এমন এমন জায়গায় অবস্থিত যা অন্যদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের ক্রীড়নক হতে পারে।”
অন্তর্বর্তী সরকারের এমন চুক্তি করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এখন আছে ইন্টেরিম সরকার। এর নামই ইন্টেরিম, অন্তরবর্তীকালীন। তো- তার দায়িত্ব তো এটা না। এটা সে করতেই পারে না। এবং আমাদের মাত্র নির্বাচনের মানে আরও মাত্র দুই মাস আর এর প্লাস কিছু সময় আছে।”
তিনি চুক্তিটি বাতিলের দাবি করে বলেন, তা না হলে অন্য রাজনৈতিক দলের থেকে বাতিলের প্রতিশ্রুতি চান এবং যারা এ চুক্তি করল তাদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি করেন।
বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ চুক্তির প্রতিবাদ এসেছে হেফাজতে ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামীর তরফেও।
হেফাজত বন্দরের নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই বিদেশি সংস্থার হাতে দেওয়া যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
আর জামায়াতে ইসলামী ‘পতিত স্বৈরাচারের’ দোসরদের হাতে বন্দর তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে।
‘অস্বচ্ছ’ ও ‘গোপন চুক্তি’ আখ্যা দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কার্যতঃ বিদেশিদের হাতে তুলে দিয়ে ‘দেশীয় স্বার্থ বিরোধী’ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াতে ইসলামী। বুধবার দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম জোনাল হেড মুহাম্মদ শাহজাহান এক বিবৃতিতে এমন উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর বিষয়ে তাড়াহুড়োপ্রবণ, অস্বচ্ছ ও গোপন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই।”
তবে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিতে সায় রয়েছে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি)।
দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অনেকগুলো চুক্তি এ সরকারের সময় বাতিল হয়েছে ফলে এ সরকারের সময় নতুন চুক্তি করারও ম্যান্ডেট আছে। এছাড়াও এ সরকারের ইনটেনশন নিয়ে কেউ প্রশ্ন ওঠাচ্ছে না। এ সরকার এখন পর্যন্ত দেশবিরোধী কোন চুক্তি করে নাই, বরং ভারতের সাথে থেকে শুরু করে অন্যান্য অনেক দেশের সাথেই অনেক আপনার যেগুলো বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি, সেই চুক্তি বাতিল করেছে। বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করছে।”
এ সরকার যে দুই বন্দর বিদেশি কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা কার্যকর হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি স্বনির্ভরতার পথে একধাপ এগিয়ে যাবে, যোগ করেন তিনি।
এপিএমের সঙ্গে চুক্তির দিন ঢাকার কাছে কেরানীগঞ্জের পানগাঁওয়ে নির্মিত নৌ টার্মিনালের দায়িত্ব সুইজারল্যান্ডের কোম্পানি মেডলগের হাতে ছেড়ে দেওয়ারও চুক্তি হয়।
২২ বছরের জন্য পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব তুলে ধরে সুইস এ কোম্পানির হাতে।
এ চুক্তি নিয়ে নৌ পরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত ১২ বছরে পানগাঁও নৌ টার্মিনালে ৩০০ কোটা টাকা লোকসান হয়েছে। বছরে ২২ কোটি টাকার মতো লোকসান হতো। মোট ১৬৫ কোটি টাকা লোকসান এবং নির্মাণ ব্যয় ১৫৫ কোটি টাকা মিলিয়ে তা ৩০০ কোটি টাকা। অনেকে এটা বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
দ্রুত চুক্তি হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখার কথা তুলে ধরে এনসিপি নেতা আলাউদ্দিন মোহাম্মদ বলেন, উন্নত বিশ্বের কাতারে আসতে ধীরগতির আমলাতন্ত্র দিয়ে হবে না।
“সরকার চেয়েছে, আমলাদের মধ্যে যেটা তিন মাসে করতো এটা তিন দিনে করেছে, এটার মধ্যে কোনো অজুহাত নাই, বরং এটাকে ইতিবাচকভাবে দেখি।”
আরও পড়ুন
লালদিয়ায় কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে চুক্তি
লালদিয়া বন্দর নির্মাণ-পরিচালনার কাজ পাচ্ছে ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালস
বন্দর টার্মিনাল ইজারায় 'তাড়াহুড়ো ও গোপনীয়তা' কেন, প্রশ্ন বাম জোটের