Published : 03 Jul 2026, 07:40 PM
নতুন বাজেটে মশলাসহ অর্ধ শতাধিক নিত্যপণ্যের কর কমলেও বাজারে তেমন প্রভাব পড়েনি। বেশিরভাগ পণ্যের দাম আগের মতো রয়েছে; উল্টো কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে।
ব্যবসায়ীর ভাষ্য, নতুন শুল্ক সুবিধায় মসলা বাজারে আসতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে। এর সুফল পেতে ক্রেতাদের মধ্য জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে পেশ হয় গত ১১ জুন, তাতে ৬৩টি নিত্যপণ্যের কর কমানো হয়েছে। এর মধ্যে আমদানি করা সব ধরনের মশলার ওপর থেকে শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে বাজেট পরবর্তী সংসদ সম্মেলনে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, “সরকার চায় যেসব ক্ষেত্রে কর কমানো হয়েছে, সেসব পণ্যের দামও কমুক।
“৬৩টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কোনও কর বাড়ানো হয়নি; বরং যেখানে ৫ শতাংশ কর ছিল, সেখানে তা কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম কমা উচিত।”
রাজধানীতে মশলা বিক্রির বড় পাইকারি বাজার পুরান ঢাকার মৌলভীবাজার। এ বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দাম আগের মতোই চড়া রয়েছে। এমনকি কিছু মশলার দাম বেড়েছে।
বাজেট ঘোষণার আগে জিরার (আস্ত) দাম ছিল ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা। শুক্রবার ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে তা বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে।

প্রতি কেজি দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে কাজু বাদাম। এক মাসের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত।
লবঙ্গের দাম সামান্য বাড়লেও আগের দামে বিক্রি হচ্ছে এলাচ ও দারুচিনি। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি এলাচ ৪৪০০ থেকে সাড়ে ৫ হাজার ও দারুচিনি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।
মৌলভীবাজারের পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা মোহন মোল্লা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগের দামেই রয়েছে সবকিছু; উল্টা কিছু কিছু বেড়েছে।
“আগের মতোই লবঙ্গের কেজি দেড় হাজার টাকা, দারুচিনি ৫২০, জিরা ৬০০, গোলমরিচ ১ হাজার ৩০০ ও এলাচ সাড়ে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।”
মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে খুচরা মশলা ব্যবসায়ী আতিউল আহসান ভাষ্য, “ছোট দোকানে বেশির ভাগ মশলার দাম উল্টো বেড়ে গেছে। দারুচিনি, জয়ত্রী, পোস্তদানা, কাজুবাদাম—এসব পণ্য বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”
তবে তার পাশের মুদি দোকানদার মাহি স্টোরের মালিক মাহি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কিছু মশলা কমতে শুরু করেছে। আগে যে দাম অনেক বেড়ে গিয়েছিল, এখন তা কিছুটা কমছে।
“তবে বাজার এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, নতুন চালান আসলে দাম কমতে পারে। এখন সেগুলো আছে সব আগের (বাজেট) কেনা।”
এক মাসের ব্যবধানে আমদানি করা রসুনে দাম কমেছে; প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২২০ টাকায়।
এক কেজি দেশি রসুনের কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে মানভেদে ৯০ থেকে ১৪০ টাকায়।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, এক মাসের ব্যবধানে দেশি রসুনের দাম বেড়েছে ১৫ শতাংশ; আমদানির রসুনের দাম কমেছে সাড়ে ৮ শতাংশ।
এদিকে আদার দাম কেজিতে ২০ টাকার মতো কমে বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়।
পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। টাউন হল মার্কেটের বিক্রিতে আমান উল্লাহ বলেন, “পেঁয়াজ ৪০ টাকায় বেচছি। তবে রসুন-আদার ভালগুরোর দাম একটু বেশি। বাইর (বিদেশ) থেকে মাল আইলে হয়তো আরো কমবো।”

মধ্য জুন থেকে শুল্ক সুবিধা পাওয়া পণ্যের দাম কমতে পারে বলে মনে করছেন মোহন মোল্লা।
তিনি বলেন, “নতুন আমদানির চালান আগামী সপ্তাহ থেকে বাজারে আসতে পারে। অর্থাৎ মাসের মাঝিমাঝি থেকে ধীরে দাম আরো কমে আসতে পারে।”
মশলা ছাড়াও কৃষিপণ্যে করছাড়ের ঘোষণা ছিল। চাল, গম, আলুসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপরও উৎসে করের হার ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
কিন্তু বাজারে এসব পণ্যের দামে কোনো প্রভাব নেই। বরং খুচরা বাজারে সব ধরনের চাল দাম ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
টিসিবির সর্বশেষ বাজার দরের তথ্য বলছে, এক মাসের ব্যবধানে খুচরা বাজারে গরিবের মোটা চালের দাম কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। পাইজাম, ব্রি-২৮-এর মতো মাঝারি চাল ২ থেকে ৩ টাকা বেড়ে ৫৫ থেকে ৬৮ টাকায়।
এছাড়া নাজিরশাইল ও মিনিকেট কেজিতে ২ টাকা বেড়ে ৭২ থেকে ৮৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে বাজারে।
এদিকে বাজেটের আগে প্রতি কেজি আলুর দাম ছিল ২০ থেকে ২৫ টাকা, শুক্রবার বাজারে এক কেজি কিনতে গুনতে হচ্ছে ৩০ টাকা।
টিসিবির তথ্যানুযায়ী, এক মাসের ব্যবধানে আলুর দাম ২২ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচ ১০ শতাংশ ও বেগুন সাড়ে ২৮ শতাংশ বেড়েছে।