বিজিএমইএ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ

চার বছর পর তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 April 2019, 03:40 AM
Updated : 6 April 2019, 10:13 AM

শনিবার সকাল ৮টায় ঢাকার কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএ ভবনের নুরুল কাদের মিলনায়তনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এর পাশাপাশি চট্টগ্রাম কেন্দ্রেও বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে।

ঢাকায় সকালে কালবৈশাখীর দমকা হাওয়া ও ভারি বৃষ্টি শুরু হওয়ায় শুরুতে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম হলেও পরে চিত্র বদলে যায়।

এবারের নির্বাচনে বিজিএমইএর পরিচালনা পর্ষদের ৩৫টি পদের জন্য দুটি প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোট ৪৪ জন।

এই নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১ হাজার ৯৫৫ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার ১ হাজার ৫৯৭ জন। বাকি ৩৫৮ জন চট্টগ্রামের।

বিজিএমইএ নির্বাচনের অন্যতম নির্বাচন কমিশনার নিহাদ কবির ভোটগ্রহণ শুরুর পর সাংবাদিকদের বলেন, “অত্যন্ত সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটগ্রহণ হচ্ছে।”

বিকালে ভোটগ্রহণ শেষে দুই কেন্দ্রে গণনার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল ঘোষণার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এবারের নির্বাচনে সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরামের আধিপত্য চ্যালেঞ্জ করে ভোটের লড়াইয়ে নামে স্বাধীনতা পরিষদ। তবে প্রথম নির্বাচনে পূর্ণ প্যানেলে প্রার্থী দিতে পারেনি তারা।

ঢাকার কারওয়ান বাজারে শনিবার বিজিএমইএর নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলাকালে কেন্দ্রের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি সম্মিলিত পরিষদ-ফোরামের প্যানেলের নেতা রুবানা হক। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

বিজিএমইএ ভবনের নিচ তলায় সম্মিলিত-ফোরাম প্যানেলের নির্বাচনী বুথ, ব্যানার শোভা পেলেও স্বাধীনতা পরিষদের কোনো প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি।

আগে থেকে অভিযোগ জানিয়ে আসা স্বাধীনতা পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম ভোটগ্রহণ শুরুর পর অভিযোগ করেন, ভয়ভীতি দেখানোয় তার দুই এজেন্ট কেন্দ্রে আসেননি।

প্রার্থীদের মধ্য থেকে কাউকে এজেন্ট করার জন্য সকাল থেকেই দেন-দরবার চালিয়ে ব্যর্থ হন তিনি।

এজেন্ট কেন দেওয়া সম্ভব হয়নি- প্রশ্নে জাহাঙ্গীর বলেন, “আমরা ৯ জনের একটা তালিকা দিয়েছিলাম এজেন্ট করার জন্য। সেখানে দুজন ছাড়া বাকিরা সবাই নির্বাচনে পরিচালক পদপ্রার্থী।

“প্রার্থীদেরকে যে এজেন্ট করা যাবে না, এই কথা কোথাও উল্লেখ নেই। তবুও কমিশন তাদের এজেন্ট হিসাবে বিবেচনা করেনি।”

বিজিএমইএর একাধিক সাবেক নেতা বলেন, প্রার্থীদের এজেন্ট হিসাবে কাজে লাগানোর নিয়ম নেই। যারা এনিয়ে অভিযোগ করছে, তারা ধূম্রজাল সৃষ্টি করতে চাইছে।

চার বছর বাদে শনিবার নির্বাচনে ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে সরগরম বিজিএমইএ ভবন। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

ডিএসএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর এজেন্ট নিয়ে অভিযোগ করলেও নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের সন্তুষ্টির কথা জানান।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “ভেতরে আমাদের একজন এজেন্টও নেই। এই হল নির্বাচনের অবস্থা। তবে সার্বিক পরিস্থিতিতে খুশি বলতেই হবে। ভোটাররা এসে সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে ভোট দিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনটা হচ্ছে, অন্তত এই কথা ভেবেই আমি খুশি।”

২০১৫ সালে বিজিএমইএর নেতৃত্ব নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়ার পর প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি প্যানেল সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরাম সমঝোতার মাধ্যমে বর্তমান সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানকে সভাপতি করে একটি পরিচালনা পর্ষদ ঠিক করে। এরপর থেকে আর নির্বাচন না হয়ে তিন ধাপে এই পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ বাড়ানো হয়।

এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে গড়ে ওঠে ‘স্বাধীনতা পরিষদ’; তারা সমঝোতার মাধ্যমে না করে নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব ঠিক করার দাবি তোলে।

স্বাধীনতা পরিষদের সক্রিয়তার প্রেক্ষাপটে ফোরাম ও সম্মিলিত পরিষদ জোট বেঁধে একটি প্যানেল দেয়। এই প্যানেলের প্রধান নেতা মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা হক বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রয়াত আনিসুল হকের স্ত্রী।

রুবানা হক ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের বলেন, “নির্বাচন অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলাফল যাই হবে, আমরা তা মেনে নেব।”

দুপুরে ভোটগ্রহণ চলার মধ্যে রুবানা ও জাহাঙ্গীরকে হাসিমুখে কথা বলতে দেখা যায়।

ভোটগ্রহণের সময় আলাপে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্যানেলের প্রধান দুই নেতা জাহাঙ্গীর আলম ও রুবানা হক

জাহাঙ্গীর রুবানাকে বলেন, “আমার লোকদের এজেন্ট করা হয়নি। তবে ভোট গণনার সময় যেন আমাকে ভেতরে থাকতে দেওয়া হয়।”

উত্তরে রুবানা বলেন, “কমিশন এলাও করলে আপনি অবশ্যই থাকবেন। আমিও থাকতে পারব।”

সম্মিলিত-ফোরামের প্রার্থী যারা

মোহাম্মদী গ্রুপের রুবানা হক, সেহা ডিজাইনের এসএম মান্নান কচি, সুরমা গার্মেন্টসের ফয়সাল সামাদ, মাসুদ অ্যাপারেলসের মোহাম্মদ নাছির, কাইলক নিউএইজ বাংলাদেশের আসিফ ইব্রাহীম, তুসুকা ফ্যাশনসের আরশাদ জামাল দিপু, দুলাল ব্রাদার্সের এমএ রহিম ফিরোজ, গোল্ডেন রেফিট গার্মেন্টসের কেএম রফিকুল ইসলাম, অ্যাডাম অ্যাপারেলসের মো. শহীদুল হক মুকুল, ফেম সুয়েটারসের মশিউল আজম সজল, অনন্ত গার্মেন্টসের ইনামুল হক খান বাবলু, টিভোলি অ্যাপারেলসের মাসুদ কাদের মনা, ওডেসা ফ্যাশনসের ইকবাল হামিদ কোরাইশী আদনান, সামা ফ্যাশন ওয়্যারের নাছির উদ্দিন, দিগন্ত সুয়েটার্সের কামাল উদ্দিন, ভিজেন্ট ডেনিম স্টুডিওর মো. সাজ্জাদুর রহমান মৃধা, সফটেক্স সুয়েটার ইন্ডাস্ট্রিজের রেজওয়ান সেলিম, নিও ফ্যাশনসের মুনির হোসেন, গার্মেন্টস এক্সপার্ট ভিলেজের একেএম বদিউল আলম, মিসারি গার্মেন্টসের মিরান আলী, ফ্যাশন নিট গার্মেন্টসের মোহাম্মদ আবদুল মোমেন, সিভিক অ্যাপারেলসের মোশাররফ হোসেন ঢালী, এমিটি ডিজাইনের শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, ডেনিম এক্সপার্টের মহিউদ্দিন রুবেল, অনন্ত ডেনিম টেকনোলজির শরীফ জহির ও জিসাস ফ্যাশনের নজরুল ইসলাম।

স্বাধীনতা পরিষদের প্রার্থী যারা

এই প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ১৮ জন হলেন- ডেনিম প্রসেসিং প্লান্টের জাহাঙ্গীর আলম, ডিলাক্স অ্যাপারেলসের দেলোয়ার হোসেন, অলিরা ফ্যাশনসের হুমায়ুন রশিদ জনি, এলুরিং ফ্যাশনসের সাইফুল ইসলাম, নর্দার্ন করপোরেশনের রফিক হাসান, সাউথ ওয়েস্ট কম্পোজিটের হোসেন সাব্বির মাহমুদ, লিবাস স্টিচের শওকত হোসেন, হানজালা টেক্সটাইলসের খন্দকার ফরিদুল আকবর, ভ্যান হ্যাপেন ফ্যাশনের জাহাঙ্গীর কবির, জেইন অ্যাপারেলের জাহিদ হাসান, অ্যাপারেল বাংলা সোর্সিংয়ের শরিফুল আলম চৌধুরী, এ এস গার্মেন্টস অ্যান্ড টেক্সটাইলের কাজী আবদুস সোবহান, টপ টেক্স সোয়েটারের জহিরুল ইসলাম, জেড এ অ্যাপারেলসের কাজী মাহয্যাবিন মমতাজ, ডিকে গ্লোবাল ফ্যাশনওয়্যারের মাহমুদ হোসেন, ওয়েলমার্ট অ্যাপারেলসের আয়েশা আক্তার, পিয়াংকা ফ্যাশনের ওয়ালীউল্লাহ এবং গোল্ডেন ডাক অ্যাপারেলের ওমর নাজিম হেকমত।

এই নির্বাচন পরিচালনায় গঠিত বোর্ডে এমসিসিআই সভাপতি নিহাদ কবির ছাড়াও রয়েছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলামিন এবং হিসাববিদদের সংগঠন আইসিএবির সাবেক সভাপতি এএসএম নাঈম। নির্বাচনী বোর্ডের সচিবের দায়িত্বে রয়েছেন রফিকুল ইসলাম।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক