Published : 03 Aug 2016, 03:34 PM
গত ১১টি করবর্ষের জন্য বাংলাদেশ রুরাল এডভান্সমেন্ট কমিটির (ব্র্যাক) আয়কর বাবদ কর আপিল ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক নির্ধারিত ৪০৪ কোটি ২০ লাখ ৫৮ হাজার ৮৯২ টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে বুধবার রায় দিয়েছে আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ ওই আয়কর অব্যাহতি পাওয়ার যোগ্য বলে হাই কোর্টের দেওয়া রায় বাতিল ঘোষণা করেছে।
ঢাকার কমিশনার অফ ট্যাক্সেসের করা পৃথক ১১টি আপিল মঞ্জুর করে এ রায় দেওয়া হয়।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষে নিয়োজিত কৌঁসুলি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সরদার রাশেদ জাহাঙ্গীর শুভ্র বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ব্র্যাকের প্রদেয় আয়কর অব্যাহতিযোগ্য নয় বলে আপিল বিভাগ ১১টি আপিল মঞ্জুর করে রায় দিয়েছেন।
“এর ফলে ১১টি করবর্ষের জন্য আয়কর বাবদ ট্যাক্সেস আপিল ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক নির্ধারিত ৪০৪ কোটি ২০ লাখ ৫৮ হাজার ৮৯২ টাকা ব্র্যাককে পরিশোধ করতে হবে।”
মামলার বিবরণে জানা যায়, বিভিন্ন সময় ডেপুটি কমিশনার অফ ট্যাক্সেস ওই প্রতিষ্ঠানের ১৯৯৩-৯৪, ১৯৯৪-৯৫, ১৯৯৫-৯৬, ১৯৯৬-৯৭, ২০০৫-০৬, ২০০৬-০৭, ২০০৭-০৮, ২০০৮-০৯, ২০০৯-১০, ২০১০-১১ ও ২০১১-১২ করবর্ষের জন্য আয়কর নির্ধারণ করেন।
তখন ব্র্যাক অ্যাপিলেট কমিশনারের কাছে আপিল করে। অ্যাপিলেট কমিশনার সংযোজন-বিয়োজন করে উপকর কমিশনারের ওই সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন।
এর বিরুদ্ধে ব্র্যাক আবেদন নিয়ে ট্যাক্সেস অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল যায়, যা দ্বিতীয় আপিল হিসেবে পরিচিত। ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তে ব্র্যাকের প্রদেয় আয়কর নির্ধারিত হয় চারশ কোটি টাকার উপরে।

তার বিরুদ্ধে ব্র্যাক হাই কোর্টে পৃথক ইনকাম ট্যাক্স রেফারেন্স আবেদন করে।
১১টি রেফারেন্স আপিলের উপর শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাই কোর্ট এক রায়ে ব্র্যাক ওই আয়কর অব্যাহতি পাওয়ারযোগ্য বলে ঘোষণা করে।
এই রায়ের বিরুদ্ধে কমিশনার অফ ট্যাক্সেস গত বছর১১টি আপিলের আবেদন করে। শুনানি শেষে একই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ ওই আবেদন মঞ্জুর করে এক বছরের মধ্যে চারটি সমান কিস্তিতে ওই আয়করের অর্ধেক দিতে ব্র্যাককে নির্দেশ দেয়।
আপিলের আবেদন মঞ্জুরের ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রপক্ষ নিয়মিত আপিল করে, যা বুধবার শুনানির জন্য ওঠে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল রাশেদ জাহাঙ্গীরই শুনানি করেন। ব্র্যাকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ ও মো. আসাদুজ্জামান।
অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “লিভ টু আপিল মঞ্জুরের আগে ও পরে প্রদেয় ওই অর্থ থেকে কিছু পরিশোধ করা হয়েছে। এটি মোট প্রদেয় অর্থের সঙ্গে সমন্বয় হবে।”
আপিল বিভাগের এই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করবেন কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পাওয়ার পর তা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বার্ষিক একশ কোটি ডলার ব্যয় এবং লক্ষাধিক কর্মী নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম এনজিও বাংলাদেশের ব্র্যাক। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে শুরুর পর এখন বিশ্বের আরও ১১টি দেশে এই এনজিওটির কার্যক্রম বিস্তৃত।