Published : 12 Apr 2026, 09:40 PM
সিগারেট ও তামাক খাতে কর সংস্কারের দাবি জানিয়েছে ‘প্রজ্ঞা’ (প্রগতির জন্য জ্ঞান) ও ‘আত্মা’ (অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স)।
সংগঠন দুটির দাবি, কর সংস্কারের মাধ্যমে এ খাত থেকে ৮৫ হাজার কোটি রাজস্ব আদায় সম্ভব, যা এখনকার চেয়ে ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি।
এজন্য নিম্ন স্তর এবং মধ্যম স্তরকে এক করে সিগারেটের ১০ শলাকার মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে সংগঠন দুটি। এছাড়া উচ্চ স্তরে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ১৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা ও প্রিমিয়াম স্তরে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ১৮৫ টাকা থেকে ২০০ বা তদূর্ধ্ব টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে রোববার তামাক কর ও মূল্য পদক্ষেপ বিষয়ে এক কর্মশালা করে প্রজ্ঞা ও আত্মা। পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য দেয় সামাজিক সংগঠন দুটি।
সিগারেটের দাম বাড়ানোর সঙ্গে বর্তমানে থাকা খুচরা মূল্যের ওপর ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে বাড়তি ৪ টাকা হারে সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়।
অর্থাৎ বিদ্যমান কাঠামোতে যে ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর-ভ্যাট এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ রয়েছে, এর সঙ্গে নতুন করে প্রতি ১০ শলাকায় বাড়তি ৪ টাকা যুক্ত করার প্রস্তাব প্রজ্ঞা ও আত্মার।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের মূল্যস্তরের সংখ্যা কমানো, সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতির প্রচলন এবং সব ধরনের তামাকপণ্যের দাম বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
তামাকবিরোধীদের বাজেট প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী তামাক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হবে। কমবে অকাল মৃত্যু এবং রাজস্ব আয় উল্লেখোগ্য পরিমাণে বাড়বে।
তাদের ভাষ্য, বর্তমানে ধূমপায়ীদের অধিকাংশই নিম্ন এবং মধ্যম স্তরের সিগারেটের ভোক্তা; যারা মূলত দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষ। তাই নিম্ন এবং মধ্যম স্তরকে একত্রিত করে দাম বাড়ানো হলে স্বল্প আয়ের মানুষ সিগারেট ছাড়তে বিশেষভাবে উৎসাহিত হবে।
এর সঙ্গে ফিল্টারযুক্ত ও ফিল্টারবিহীন বিড়িতে অভিন্ন মূল্য এবং করভার প্রচলন করে ২০ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ এবং ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।
প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৪৮ টাকা থেকে ৬০ টাকা এবং ১০ গ্রাম গুলের খুচরা মূল্য ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা নির্ধারণ করে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ, বিড়ি, জর্দা এবং গুলের উপর এনবিআর কর্তৃক নির্ধারিত হারে সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ, সব তামাকপণ্যের খুচরা মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখারও প্রস্তাব করা হয়েছে।