Published : 03 Jun 2026, 08:24 AM
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও মূল্যস্ফীতির প্রভাবে দেশে যে কোনো ব্যবসা করা আগের চেয়ে কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন মীর গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান সামা-ই জাহির।
কাঁচামালের আমদানি নির্ভরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বহির্বিশ্বে যুদ্ধের প্রভাব, ঋণের উচ্চ সুদহারসহ নানা প্রতিবন্ধকতা বিশেষ করে নির্মাণখাতের ব্যবসাকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে তার ভাষ্য।
দেশে নির্মাণ ব্যবসার হাল হকিকত, নানা প্রতিবন্ধকতা, সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নিয়মিত আয়োজন ‘চিনওয়্যাগ উইথ দ্য চিফস’-এ কথা বলেছেন দীর্ঘদিন নির্মাণ ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত এ ব্যবসায়ী।
ব্যবসা কঠিন হচ্ছে, উপায় কী?
বর্তমান ‘কঠিন’ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় কী? সামা-ই জাহির বললেন, “আমরা যদি আমাদের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন দেখি, সেখানে অন্যান্য আর্থসামাজিক প্রভাব স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসার উপরে পড়েছে। তার উপরে বহির্বিশ্বে যে যুদ্ধ, যে বিভিন্ন ধরনের মূল্যস্ফীতি হচ্ছে, তার প্রভাব ব্যবসার উপর পড়েছে। ব্যবসা করা আগের চাইতে অবশ্যই কঠিন।
“আমাদের নতুন রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে নতুন সরকার এসেছে, তারা বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছেন। আমরা অনেকটাই আশাবাদী যে সামনে ব্যবসা আরো সহজ হবে এবং যে অন্তরায়, সেগুলো আস্তে আস্তে কমতে থাকবে।”
উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বহির্বিশ্বে যুদ্ধের প্রভাবে পণ্য আমদানিতে নানা সমস্যা এবং ঋণের উচ্চ সুদহার ব্যবসায়ীদের জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলেও মনে করছেন ঠিকাদারী কোম্পানি মীর আক্তার হোসেন লিমিটেডের এই চিফ অপারেটিং অফিসার।
তিনি বলেন, এমন বাস্তবতায় ব্যবসায়ীরা প্রযুক্তির সহায়তায় নতুন নতুন ক্ষেত্রে ব্যবসার সুযোগ খুঁজছেন। পাঁচ যুগ ধরে মীর গ্রুপ অব কোম্পানিজ নির্মাণখাতকে কেন্দ্র করে ব্যবসার পরিধি বাড়ালেও বর্তমানে টেলিকম, সফটওয়্যার ও ব্রোকারেজ হাউজ খাতের ব্যবসাও শুরু করেছে।
প্রযুক্তির আধুনিকায়নের এ যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নতুন ক্ষেত্রে ব্যবসা পরিচালনায় ‘সবচাইতে চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ’ একটি অঙ্গে রূপান্তরিত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন কোম্পানির তৃতীয় প্রজন্মের কর্ণধার সামা-ই জাহির।
তিনি জানান, বর্তমানে মীর গ্রুপ অব কোম্পানিজ সফটওয়্যার ব্যবসার ক্ষেত্রে নতুন সেবা তৈরি ও কোডিংয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে।
নতুন এসব ব্যবসা নিয়ে মীর গ্রুপ অব কোম্পানিজ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাজ করলেও তার পরিধি আরও বাড়ানোর সুযোগ আছে বলে মনে করছেন সামা-ই জাহির।
তিনি বলেন, “আমরা যতটুকু আশা করেছি ততটুকু আসলে এখনো অর্জন করতে পারিনি। যেমন সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে আমরা আমেরিকান ও কানাডিয়ান কোম্পানির সঙ্গে কাজ করছি অনেক বছর ধরে। কিন্তু সেটার যা স্কেল হওয়া দরকার বলে আমি মনে করি, সেই স্কেলটায় আমরা এখনো যেতে পারিনি।
“তারপরে আমাদের ইন্টারনেট কানেক্টিভিটির বিজনেস আছে। সেখানেও আমাদের বিশ্বে পদচারণা রয়েছে। সিঙ্গাপুরে আমাদের লোকেশন রয়েছে যেখান থেকে আমরা বাংলাদেশে কানেক্ট করি। আমরা বাংলাদেশে ক্লাউড সার্ভিসেস দেই। আমরা এখানে ডেটা সার্ভিসেস দেই। এখানে কম্পিউট দেই। তার মানে এখানে স্টোরেজ হচ্ছে। এখানে কম্পিটিশন হচ্ছে। আমরা বহির্বিশ্বের ক্রেতাকে এই সার্ভিসেসগুলো দিচ্ছি। কিন্তু সেটার পরিধি আরো বৃদ্ধি করার আমাদের অনেক সুযোগ রয়েছে।”
প্রতিবন্ধকতা কী? সমাধান কোথায়?
নতুন ব্যবসার পাশাপাশি মীর গ্রুপ অব কোম্পানিজের অধীনে থাকা ঠিকাদারী কোম্পানি মীর আক্তার হোসেন লিমিটেড ঢাকায় র্যাডিসন ওয়াটার ব্লু ও শেরাটন হোটেলের নতুন ব্লক নির্মাণ কাজে যুক্ত ছিল।
বর্তমানে তারা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ৪৮ কিলোমিটার সংস্কারের কাজের দায়িত্বও সামলাচ্ছে। পাশাপাশি সাউথ এশিয়া সাবরিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন (সাসেক)-২ প্রকল্পের আওতায় টাঙ্গাইলে ১৯ কিলোমিটার সংযোগ সড়কের কাজ প্রায় শেষ করেছে।
মীর আক্তার হোসেন লিমিটেড চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি, সিলেটের ছাতক ও ফরিপুরের কামারখালীতে রেল পুনর্বাসনসহ বেশকিছু প্রকল্পেরও কাজ করছে বলে জানালেন কোম্পানির সিওও সামা-ই জাহির।
নির্মাণ খাতের প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, এসব প্রতিবন্ধকতার কারণে নির্মাণ প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে শেষ করা যাচ্ছে না।
সামা-ই জাহির বলেন, “সরকারকে যখন ভূমি অধিগ্রহণ করতে হয়, সেখানে তাদের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়। যে জমির মালিক, সে তার জমি ওই সময় দিতে নাও চাইতে পারে। তার বিভিন্ন কারণ থাকে। সে তখন সেখানে কোর্টের শরণাপন্ন হয়।
“সরকারকে এগুলো সব পেরিয়ে ভূমি অধিগ্রহণ করতে হয়। সেখানে সরকারের কিছু সময় লেগে যায়। আমরা যখন কাজে নামি তখন সরকার আমাদেরকে যতটুকু বুঝিয়ে দেয় তার উপর কাজ করতে থাকি। সেখানে গিয়েও কাঁচামাল আমদানি ও সংগ্রহে অনেক সময় লেগে যায়।”

পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিতিশীলতার কারণে যোগাযোগ খাতের এ প্রকল্পগুলো জন্য বিটুমিন ও পাথরের মত অপরিহার্য পণ্য আমদানিতে ব্যবসায়ীদের অনেকটা বেগ পেতে হচ্ছে বলে দাবি করেন এ ব্যবসায়ী।
পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির কারণে রড, সিমেন্টে মত কাঁচামালেও মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব সামলাতে হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “বিদেশি অর্থায়নের প্রকল্পগুলোতে অনেকক্ষেত্রে প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্টের একটা ক্লজ দেওয়া থাকে। তাতে যেটা হয়, মূল্য বৃদ্ধির যে সূচক তা ধরে সেখানে আমরা একটা নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি করতে পারি। সেখানে আমাদের উপরে চাপ কিছুটা কম পড়ে। যদি সূচকটা ওই সীমার ঊর্ধ্বে চলে যায়, সে চাপটা থাকে।
“তবে দেশীয় অর্থায়নের প্রকল্পগুলোতে মূল্য সমন্বয় করার সুযোগ না থাকায় নির্মাণখাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সাংঘাতিক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।”
পাশাপাশি ঋণের উচ্চ সুদহারকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হিসাবে চিহ্নিত করেন সামা-ই জাহির।
তিনি বলেন, “ব্যাংকের সুদহার বৃদ্ধির কোনো সমন্বয় নেই। আমরা একটা প্রকল্প শুরুর সময় যদি শতকরা আট বা নয় শতাংশ হারে একটি ঋণ নিয়ে থাকি, প্রকল্প চলাকালে সেটা বেড়ে ১৪ শতাংশে উন্নীত হয়। এই বাড়তি সুদের খরচ কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হয়।”
এর বাইরে দেশীয় অর্থায়নে বাস্তবায়ন হওয়া প্রকল্পগুলো শেষে অর্থছাড়ে দীর্ঘসূত্রতার কথাও তোলেন এই ব্যবসায়ী।
তার ভাষ্য, প্রকল্প শেষ হতে হতে অর্থবছর পার হলে বাজেট পুনঃবরাদ্দে অনেকটা সময় লাগে, যা এই দীর্ঘসূত্রতার মূল কারণ। দেশীয় অর্থয়নের প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে বাজেট পুনঃবরাদ্দে দূরদর্শিতা এ প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পারে।
“আমি বলব আমরা জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত বাজেট না করে যদি জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর করি; তার কারণটা হচ্ছে বর্ষা এলে বাজেট পাস হয়। বর্ষার সময় কাজে অনেক ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। কাজেই সেখানে বাজেটের খরচ করা, বিল করা, বিল নিয়ে আসারও অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়। আমরা যদি জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর (অর্থবছর) করতাম তাহলে প্রতিবন্ধকতা কম হত।”
তবে বিদেশি অর্থায়নের প্রকল্পে এ প্রতিবন্ধকতা কিছুটা কম বলে মনে করেন তিনি।
এসব প্রতিবন্ধকতার বাইরেও সরকারি-বেসরকারি খাতের দক্ষ প্রকৌশলী ও কর্মীদের ওপর নির্ভর করেই দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ এগিয়ে চলছে বলে তুলে ধরেন মীর আক্তার হোসেন লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার।

রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতি কতটা বাধা?
প্রকল্প বাস্তবায়ানে স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতিকে নির্মাণ খাতের ব্যবসায়ীদের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা বলা হলেও সামা-ই জাহির এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন।
তিনি বলেন, “আমরা যখন মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে যাই, তখন স্থানীয় যারা তারা স্বাভাবিকভাবেই কাজের অংশীদার হতে চায়। সেখানে তারা স্বাভাবিকভাবেই এলাকার সংসদ সদস্য, উপজেলার চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারা এসে আমাদের অনুরোধ করেন, তার বেশি নয়। এখানে আমরা আসলে যে প্রভাব, সেটা হচ্ছে একটা অনুরোধের ব্যাপার।
“স্বাভাবিকভাবেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের খরচ কমানোর জন্যও স্থানীয়দের সঙ্গে কাজ করাটা আমি মনে করি সমীচীন এবং আমরা তাই করি। কিন্তু সেটা আসলে কোনো রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে না; কিন্তু সেখানে রাজনৈতিক একটা পরিচিতি থাকতেই পারে।”
ঘুষ বা দুর্নীতিকেও নির্মাণ খরচ বেড়ে যাওয়ার বড় কারণ হিসাবে দেখছেন না সামা-ই জাহির।
তিনি বলেন, “নির্মাণ খরচ যখন বেড়ে যায়, সেখানে ঘুষ বা স্পিড মানির আসলে কোনো স্থান নেই। আমি যেভাবে বলছি এটা হয়ত বা অনেকে মনে করবেন যে, কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর মনতুষ্টির জন্য বলছি। কিন্তু আমরা তো মাঠ পর্যায়ে স্থানীয় লোকদের সঙ্গে কাজ করি।
“আবার আমরা সরকারের সাথে কাজ করি। আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে যেটা দেখেছি, সেটা হচ্ছে বিভিন্ন কাজের সময়ে, একটা কাজের পথ সুগম করা বা দুর্গম করায় বিভিন্ন ধরনের ফ্যাক্টর কাজ করে। কিন্তু সেই ফ্যাক্টরগুলো আমরা যখন অ্যাড্রেস করি, অনেকে মনে করছে, সেখানে স্পিড মানির একটা ব্যাপার আছে। কিন্তু সেটা তা নয়। কাজেই এটা একটা প্রাচীন ধারণা।”
তিনি বলেন, “একসময় হয়ত ছিল, কিন্তু এখন আপনি যদি সত্যিকারে দেশের উন্নয়ন দেখেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন দেখেন, আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, সেগুলোতে দেখবেন নির্মাণের মান খুব উচ্চ। যদি এই ধরনের দুর্নীতি থাকত তাহলে সেটা সম্ভব হত না।”
স্থানীয় পর্যায়ের কিছু প্রকল্পে ‘দুর্নীতি’ হলেও তা অবকাঠামো উন্নয়নের বড় অংশ নয় বলে এই ব্যবসায়ীর দাবি।
তিনি বলেন, “কিছু কিছু প্রকল্পে ও স্থানীয় পর্যায়ে কিছু কাজে দেখবেন কাজের মান খারাপ থাকে; যেখানে রডের জায়গায় বাঁশের ব্যবহার হয়েছে এরকম আমরা দেখেছি। সেগুলোতে অবশ্যই দুর্নীতি হয়েছে। কিন্তু সেটাকে সম্পূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়নের একটা বড় অংশ বলে আমি মনে করি না।”

বাংলাদেশে নির্মাণ ব্যয় বেশি কেন?
কাঁচামালের আমদানি নির্ভরতা ও অধিগ্রহণ ব্যয় বেশি হওয়াকে বাংলাদেশে নির্মাণ ব্যয় বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে দেখাতে চান সামা-ই জাহির।
তিনি বলেন, “আপনি যদি অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করেন, পার্শ্ববর্তী ভারত, তাদের যত নির্মাণ কাঁচামাল, সব তাদের দেশীয়। সেটা আপনি স্টিল বলেন, সিমেন্ট বলেন, পাথর, বালু সব। আমাদের দেশে সিমেন্টের উপকরণ ক্লিঙ্কার আমদানিকৃত। রড আমদানিকৃত। আমাদের পাথর সিংহভাগই আমদানিকৃত। আমাদের ফুয়েল আমদানিকৃত। কাজেই একটা সড়ক নির্মাণ এবং অন্যান্য নির্মাণে যা যা কাঁচামাল, তার সিংহভাগ, শতকরা ৮০ ভাগই আমরা আমদানি করি।”
আর আমদানির ক্ষেত্রে মুদ্রা বিনিময় হার, পরিবহন ব্যয় ও শুল্ক কাঁচামালের ব্যয় বাড়িয়ে দেয় বলে তার ভাষ্য।
জমির অধিগ্রহণ ব্যয়কেও প্রকল্পের খরচ বাড়ার বড় কারণ হিসেবে তুলে ধরেন এই ব্যবসায়ী।
তার ভাষ্য, “আপনি যদি এখানে (বাংলাদেশে) এক কিলোমিটার অধিগ্রহণ করতে যান, তার যে খরচ আপনাকে পুষিয়ে দিয়ে আসতে হবে জমির মালিককে, ভারতে তার থেকে কম। কারণ তারা জনবহুল, কিন্তু আমাদের মত এত স্থলবিরল নয়। সেখানেও সরকারের অনেক খরচ আছে।
“কাজেই এক কিলোমিটার রাস্তা করতে অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত যা যা খরচ আছে, তা সিংহভাগই আমাদের অন্য দেশের তুলনায় বেশি খরচ করতে হয়।”
উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য যে পরামর্শ
সৎ, পরিশ্রমী, দূরদর্শী ও প্রযুক্তিজ্ঞানের পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসাবে সফল হতে তরুণদের ‘নতুন কিছু করায়’ পরামর্শ দেন মীর গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান সামা-ই জাহির।
তিনি বলেন, “গতানুগতিক চিন্তার বাইরে চলে যেতে হবে। গতানুগতিক ধারায় যে ব্যবসা হচ্ছে, সেটার বাইরে অভিনব নতুন কিছু চিন্তা করে যেটা টেকনিক্যালি, প্র্যাক্টিক্যালি, কমার্শিয়ালি টেকসই, যে পথ সে পথে এগোতে হবে।”
নতুন বিনিয়োগকারীদের প্রতি বিচক্ষণতার সঙ্গে ঝুঁকি নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তার ভাষ্য, “যে কোনো একটা ব্যবসার কী কী চ্যালেঞ্জ আছে, কী কী সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, সেগুলো যাচাই করে বিনিয়োগকারীকে ঝুঁকি নিতে হবে। কাজেই ঝুঁকি নেওয়ার একটা প্রবণতা থাকতে হবে, কিন্তু তার মধ্যেও বিচক্ষণতা থাকতে হবে।”