Published : 02 Jan 2026, 10:05 PM
পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও তীব্র শীতে ঢাকার কাঁচা বাজারগুলোয় বেচাকেনা কমে যাওয়ার কথা বলছেন বিক্রেতারা।
তারা বলছেন, বেশির ভাগ সবজির দাম কমতির দিকে থাকলেও শীতের কারণে অনেক ক্রেতাই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।
ঢাকার মতিঝিল, সেগুনবাগিচা ও যাত্রাবাড়ী কাঁচা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
কয়েক দিন ধরেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবারও ১৭ জেলায় শৈত্যপ্রবাহের তথ্য দিয়েছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে,চলতি পৌষ মাসে শীতের কারণে আরো কয়েক দিন ভুগতে হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হননি বেশির ভাগ মানুষ। যার প্রভাব পড়েছে ঢাকার কাঁচা বাজারগুলোতেও।
সেগুনবাগিচায় রফিকুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘বাজারই করতে আসতাম না। একদিন ছুটি পাই, তাও যদি ঠান্ডার মধ্যে বের হতে হয়, বউ শত বলার পরও বের হইনি। বলেছি, যা আছো তাই রান্না করো।
“জুমার নামাজ পড়তে বের হওয়ার সময়ে মরিচ আর শসা নিতে বললো। এ দুটো কিনেছি, এখন সোজা বাসায় যাব।’’

বেশির ভাগ সবজির দাম কমতির দিকে থাকলেও উল্টো প্রবণতা শসা আর মরিচের বাজারে। এক দিনের ব্যবধানে শসার দাম ৪০ থেকে ৯০ টাকায় উঠেছে বলে জানান সেগুনবাগিচার বিক্রেতা মোহাম্মদ জসিম।
বছর সাতেক ধরে এ বাজারে সবজি বিক্রি করা মোহাম্মদ রাফে বলেন, “মরিচ আর শসার সরবরাহ কমে গেছে। শুক্রবার এগুলোর দাম একটু বেশি থাকে সব সময়। আজ দ্বিগুণের বেশি হয়ে গেছে।
“কালকেও ৪০ টাকার বেচছি মাল (শসা); আইজ কেমনে ৯০ টাকা বেচি, সকালে তো ১০০ টাকাও বেচছে অনেকে।’’
যাত্রাবাড়ি কাঁচাবাজারের বিক্রেতা আবুল হাশেম বলেন, বিভিন্ন জাতের প্রতি কেজি শিম ৩০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
বিচিযুক্ত শিম প্রতি কেজি ৮০ টাকা, নলডাঙ্গা ৫০ টাকা ও বিচি ছাড়া শিম ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন তিনি।
শীতের বাজারে সবজির সরবরাহ ঠিক থাকলেও বিক্রি কমে গেছে জানিয়ে আবুল হাশেম বলেন, ‘‘শুক্রবার সবচেয়ে বেশি বেচাবিক্রি হয়। কাস্টমারকে ভালো মাল (সবজি) দিতে এক দিনের বাসি মালও রাখি না শুক্রবার। ঠান্ডায় কাস্টমার কম আসছে আইজ।’’
যাত্রাবাড়িতে নতুন আলু প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। মাস খানেক আগেও এ আলু ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

উঠানামায় দেশি টমেটোর দর
মৌসুমের শুরুতে যে টমেটোর দর ১২০ টাকা উঠেছিল, গেল সপ্তাহে তা নামে ৭০-৮০ টাকায়। কিন্তু শুক্রবার সেটি আবার ১০০ টাকায় উঠে গেছে।
সেগুনবাগিচা বাজারের বিক্রেতা মোহাম্মদ রাফে বলেন, ‘‘এবার টমেটো নিয়ে বিপদে আছি। একেক সপ্তাহে একেক দাম। শসার দামের সঙ্গে টমেটোও বাড়লো।’’
এ বাজারে কাঁচা মরিচের কেজি ১২০ টাকা হওয়ার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘দুই দিন আগেও ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি করেছি। আজ এক কেজি ১২০ টাকা। ঠান্ডার কারণে কাঁচা মরিচ আর শসা কম আসছে।’’
এ বাজারে বড় গোল বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, লম্বা বেগুন ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
মতিঝিল কলোনি বাজারে একেকটি ফুলকপি ২০ টাকা, পেয়াজ পাতারে আঁটি ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সেগুনবাগিচায় সালগম প্রতি কেজি ৪০ টাকা ও মুলা ৩০ টাকায় বিক্রি করছেন মোহাম্মদ জসিম।

মাছের দর আগের মতোই
সেগুনবাগিচার কাঁচা বাজারে মাঝারি আকারের প্রতি কেজি রুই মাছ গেল সপ্তাহের মতোই ৩০০ থেকে ৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২১০ থেকে ২২০ টাকায় স্থির আছে তেলাপিয়ার দামও। পাঙ্গাশের কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা।
ঢাকার কাঁচা বাজারগুলোয় প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছ ৭৫০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির কেজি কয়েক সপ্তাহ ধরেই ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ বাজারে এক ডজন ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি করছেন আনিসুজ্জমান।
যাত্রাবাড়ির মাগুড়া স্টোরের বিক্রেতা জয়নাল হোসেন প্রতি ডজন ডিম বিক্রি করছেন ১১০ টাকায়।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, ‘‘এক ডজন নিলে অল্প লাভে বিক্রি করে দিই। এক হালি নিলে দাম ৪০ টাকাই।