Published : 22 Jan 2026, 06:39 PM
বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) হবে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
এই চুক্তি হলে বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেধাধিকার পাবে, এমন আশার কথা তুলে ধরেন তিনি।
বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত জানাতে এসে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রেস সচিব বলেন, “এটা আমরা বলব, এটা একটা যুগান্তকারী ঐতিহাসিক একটা চুক্তি।”
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে বলে তিনি জানান।
শফিকুল আলমের মতে, এই চুক্তি হলে অন্যান্য দেশের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তির দ্বার খুলে যাবে।
গেল মে মাসে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে একটি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) করার ঘোষণা আসে।
৩০ মে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে মুহাম্মদ ইউনূসের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর এই ঘোষণা আসে।
এরপর ২২ ডিসেম্বর বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানান, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। জানুয়ারিতে চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।
প্রেস সচিব বলেন, “এলডিসি হিসেবে এই প্রথম বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির সাথে চুক্তি করছে। এর ফলে বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি—আবার বলি, ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে।
“আর জাপান তার ১ হাজার ৩৯টি পণ্যে বাংলাদেশের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে।”
বর্তমানে জাপানের এসব পণ্যের ওপর এমএফএন (মোস্ট ফেভারড নেশন) ট্যারিফের হার ০ শতাংশ ও ১ শতাংশ রয়েছে।
শফিকুল আলম বলেন, “আর এর ফলে যেটা আমাদের আরও লাভ হচ্ছে যে এর ফলে আরএমজি, আমাদের প্রধান রপ্তানি পণ্য তো আরএমজি (তৈরি পোশাক), জাপানের বাজারে এর ফলে আমাদের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার থাকবে।
“আর জাপান বাংলাদেশের জন্য, তারা ১২০টি সেবা খাত উন্মুক্ত করবে।”
এতে তেমন কোন শুল্ক আদায় কমে যাওয়ার কোনো ‘আশঙ্কা’ সরকার করছে না বলে তিনি তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ রপ্তানি ও বাজার বহুমুখী করতে চাইছে এবং জাপানের সঙ্গে এই চুক্তি হলে, এটা হবে তুলে ধরে প্রেস সচিব বলেন, “বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্বটা অনেকদিন ধরে, এটা আলোচনা হচ্ছে, তার মধ্যে ৮টা মিটিং হয়েছে আমাদের বাণিজ্য উপদেষ্টা ও বাণিজ্য সচিবের নেতৃত্বে।”
তিনি বলেন, গেল ২২ ডিসেম্বর যৌথভাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোতেগি তোশিমিতসু এই আলোচনা সম্পন্ন হওয়ার কথা বলেছেন।
পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতিমালার খসড়া
এদিন উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতিমালা ২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন হয়েছে।
প্রেস সচিব বলেন, “এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণকে এটার সুবিধা, জনসাধারণ সুবিধা পাবেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে এই পোল্ট্রি শিল্পের সাথে তারা ‘ইনভলভ’ আছেন।
“যার মধ্যে ৪০ শতাংশই হচ্ছেন নারী এবং আপনি জানেন পোল্ট্রি খাত যথেষ্ট, এখন গুরুত্বপূর্ণ একটা খাত। আমাদের জিডিপির এটা প্রায় ২ শতাংশ এটার অবদান এবং প্রতিবছর এটার গ্রোথ ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ।”
এ নীতিমালার আওতায় ছোট খামারিদের ‘স্বার্থ ইন্টারেস্টটা সুরক্ষিত থাকবে’, ‘অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ’ করা যাবে বলে তিনি তুলে ধরেন।
আগের খবর: