১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

জাপান বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি ‘এবছরই’

টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর ঘোষণা আসে।

জাপান বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি ‘এবছরই’
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস শুক্রবার টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অঙশ নেন। ছবি: প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 May 2025, 12:51 AM

Updated : 26 Aug 2026, 12:49 PM

বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে একটি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) করার ঘোষণা দিয়েছে দুই দেশ। 

বাসস জানিয়েছে, শুক্রবার টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর ঘোষণা আসে। 

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ওই বৈঠকে উভয় নেতা কৌশলগত অংশীদারত্ব এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তাদের অটল প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইশিবা বাংলাদেশকে ‘দীর্ঘ দিনের বন্ধু’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রচেষ্টায় জাপান বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ইউনুসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ইশিবা বলেন, তার (ইউনূস) নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি নতুন যুগে প্রবেশ করবে।

তিনি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের গুরুত্বও তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী ইশিবা বলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই বছরের শেষ নাগাদ তার দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে ইপিএ সম্পন্ন করবে।

প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইশিবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, কারণ বাংলাদেশের অর্থনীতি ‘ভেঙে পড়েছিল’, কোষাগার ‘শূন্য হয়ে গিয়েছিল’ এবং সব প্রতিষ্ঠান ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত’ হয়েছিল; এমন পরিস্থিতিতেও গত দশ মাসে জাপান ‘অবিচল সমর্থন’ দিয়ে গেছে।

“আমরা জাপানকে ধন্যবাদ জানাই অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারমূলক উদ্যোগকে সমর্থনের জন্য। আমরা আমাদের প্রচেষ্টায় জাপানের সক্রিয় সহায়তা ও সহযোগিতা কামনা করি,” বলেন তিনি।

অধ্যাপক ইউনূস যৌথ সমৃদ্ধির জন্য একটি উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, "সমুদ্র নিরাপত্তা, চলাচলের স্বাধীনতা, সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা, কানেক্টিভিটি জোরদার এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ দমনে বাংলাদেশ জাপানের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে প্রস্তুত।"

প্রধান উপদেষ্টা ইপিএ আলোচনা এবং সাম্প্রতিক উচ্চ পর্যায়ের সফরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথাও বলেন। 

ইউনূস বলেন, “আমরা আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে জাপানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পৃক্ততা প্রত্যাশা করি।”

তিনি মাতারবাড়িতে একটি ভূমিভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল, মহেশখালীতে একটি আমদানি নির্ভর এলপিজি টার্মিনাল নির্মাণ এবং ২০২৬ সালে এলডিসি উত্তরণের পর তিন বছরের জন্য বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিতে জাপানের সমর্থন চান।

প্রধান উপদেষ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক ছয় লেইনের এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীতকরণ, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উন্নয়ন এবং মেঘনা-গোমতী নদীর উপর একটি নতুন চার লেইনের সেতু নির্মাণের জন্য ‘সফট লোনের’ আহ্বান জানান।

জাপানি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো যাতে বাংলাদেশে অটোমোবাইল, বৈদ্যুতিক গাড়ি, হালকা যন্ত্রপাতি, উচ্চ প্রযুক্তির ইলেকট্রনিক্স এবং সৌরশক্তি খাতে বিনিয়োগ করে সেজন্যও আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা। 

তিনি জাপানকে ‘বাংলাদেশ-জাপান দক্ষ শ্রমিক অংশীদারত্ব কর্মসূচি’ চালু করার অনুরোধ জানান, যাতে জাপানের শ্রম সংকট মোকাবেলা করা যায় এবং বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মীর চাকরির পথ সুগম হয়।

প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের এবং কারিগরি ও পেশাগত শিক্ষা প্রশিক্ষণ ইনস্ট্রাক্টরদের জন্য জাপানে পড়াশোনার সুযোগ বাড়ানোর অনুরোধ জানান।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যাতে তার চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে পারে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের একটি সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টা সফল হয়, সেজন্য টোকিও সহায়তা দেবে। 

বাসস লিখেছে, দুই নেতা অঞ্চলভিত্তিক ভূ-রাজনৈতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন, যেখানে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, তার সরকার ‘প্রতিবেশীদের সঙ্গে সর্বোত্তম সম্পর্ক’ গড়ে তোলার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রধান উপদেষ্টা রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে জাপানের প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী ইশিবা ৩৮ বছর আগে বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করেন, যখন জাপানের সহায়তায় নির্মিত যমুনা বহুমুখী সেতুর উদ্বোধন হয়।

তিনি বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য দূরীকরণে অধ্যাপক ইউনূস ও তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংকের অবদানের প্রশংসা করেন।

প্রধানমন্ত্রী ইশিবা বলেন, “জাপানি জনগণ আপনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করে।”

পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরেরও আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।