Published : 12 Aug 2025, 03:16 PM
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ‘আরেকটু’ কমিয়ে আনতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
দীর্ঘ আলোচনা শেষে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপ করা ৩৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রথমে ৩৫ শতাংশ এবং পরে আরও কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়েছে।
এই শুল্ক হার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশকে কিছুটা
‘সুবিধাজনক অবস্থানে’ রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
উপদেষ্টা বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করেছে। আলোচনা করে সেটা কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সব মন্ত্রণালয়ের সম্মিলিত প্রয়াস জারি আছে এবং থাকবে। আলোচনা এখনও চলছে, আমরা আশাবাদী।
“বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে আমরা যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছি, তার বিনিময়ে আমরা আশাবাদী যে সম্ভবত কোনো একটা ইয়ে আসতে পারে। কিন্তু এটার কোনো গ্যারান্টি নাই, কারণ এটা আমাদের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না। এটা যারা আমাদের ওপর শুল্ক আরোপ করেছেন, তাদের সিদ্ধান্ত।
“এই কাজ করার জন্য যা প্রয়োজন সব কিছু করব। সেটা আমেরিকায় যাওয়া হোক কিংবা অনলাইন মিটিং হোক।”
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কী ধরনের আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, “বাণিজ্য ঘাটতি লাঘবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় যেসব ট্যারিফ ও নন ট্যারিফ ব্যারিয়ারের বিষয়গুলো উত্থাপিত হয়েছে, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধন করার চেষ্টা করেছি। টেকনিক্যাল বেরিয়ারগুলো সমাধান করার চেষ্টা করেছি।
“ট্যারিফ লাইনে তিন হাজার ৮০০ পণ্যের আমদানি শুল্ক শুণ্য থেকে ১ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। এগুলোকে আমরা উপস্থাপন করেছি। খাদ্যপণ্যের আমদানি শুল্ক প্রায় শুণ্য। এটা আমরা উপস্থাপন করেছি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি পণ্য আমদানি বাণিজ্য ঘটতি কমাতে সহায়তা করবে। জ্বালানি পণ্যে আমদানি শুল্ক বেশি হলেও সেটা সরকার আমদানি করে।”
উপদেষ্টা বলেন, “ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজস্ব অর্থনীতির সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে–এমন কোনো ইস্যুতে আমরা কোনো কিছু করিনি। আমরা যথেষ্ট সতর্ক ছিলাম। এসব কিছু করার মাধ্যমে বাণিজ্য ঘাটতি আমরা তাপর্যপূর্ণভাবে হ্রাস করে আসতে পারব বলে আশা করি।”
পাট পণ্য রপ্তানির ওপর ভারতের নতুন নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আশা করছি সমুদ্র বন্দর হয়ে রপ্তানি অব্যাহত থাকবে। ফলে এটা আমাদের বাণিজ্যে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না।”