Published : 20 May 2026, 12:38 AM
ডলার কেনার ধারা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি মাসের মাঝামাঝি না যেতেই আগেই মাসের দ্বিগুণের বেশি ডলার কেনা হয়েছে। এতে চলতি অর্থবছরের ১১ মাসেই কেনার পরিমাণ ৬০০ কোটি ছাড়িয়েছে।
নিলামের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো থেকে নিয়মিত ডলার কেনার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ছয় ব্যাংকের কাছ থেকে আরও সাড়ে ৮ কোটি ডলার কেনা হয়েছে। দর পড়েছে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।
আগের দিন সোমবার একই দরে সমান সংখ্যক ব্যাংক থেকে ১০ কোটি ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সব মিলিয়ে চলতি মে মাসে ৩৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার কেনা হয়েছে। এপ্রিল মাসে কেনা হয়েছিল ১৮ কোটি ডলার।
এ নিয়ে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডলার কেনার মোট অঙ্ক ৬০৭ কোটিতে (৬ দশমিক ০৭ বিলিয়ন) ডলারে পৌঁছেছে।
কেন ডলার কেনা হচ্ছে এ প্রশ্নে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক আরিফ খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের উল্লম্ফনে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বাজার স্থিতিশীল রাখতে অর্থাৎ ডলারের দর যাতে কমে না যায় সে জন্য ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কেনা হচ্ছে।
“ডলারের দর বেড়ে যাওয়া অর্থনীতির জন্য ভালো নয়। আবার কমে যাওয়াও ভালো নয়। তাই এ বাজারকে ‘সুস্থির’ রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনছে। তাতে ব্যাংকগুলোতে তারল্য প্রবাহ বাড়ছে।”
মুদ্রাবাজারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার পর ডলারের দর নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নিলামের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কেনা শুরু করে। এরপর থেকে ডলার কিনেই যাচ্ছে তারা।
মাঝে দেড় মাস (৩ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল) অবশ্য কোনো ডলার কেনেনি। ১৬ এপ্রিল থেকে আবার কেনা হচ্ছে।
ফেব্রুয়ারিতে ডলার কেনার পরিমাণ ছিল ১৫৩ কোটি ৫০ লাখ (১.৩৫ বিলিয়ন)। এর আগের মাস জানুয়ারিতে ৭৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার কেনা হয় এবং ডিসেম্বরে কেনা হয়েছিল ১ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলার।
এই ডলার কেনা এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের উপর ভর করে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ বাড়ছে।
চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মার্চ-এপ্রিল মেয়াদের দেনা বাবদ ১ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করার পরে রিজার্ভ খানিকটা কমে আসে। এরপর থেকে নিয়মিত বাজার থেকে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
মঙ্গলবার দিনশেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ ছিল বিপিএম৬ পদ্ধতিতে ২৯ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রস হিসাবে ৩৪ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার।