Published : 25 Jun 2026, 11:10 PM
সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকায় কিছু কিছু তরিতরকারির দাম কমেছে; মুরগি ও ডিমের বাজারেও স্বস্তি ফেরার কথা বলেছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।
এসব পণ্যের চড়া ভাব কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে সরবরাহ বাড়ার কথা শুনিয়েছেন বিক্রেতারা।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মোহাম্মদপুর ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঁকরোল, পটল, ঢেঁড়স, কাঁচা পেঁপে, শসা ও আলুসহ বেশ কিছু সবজির কেজি রয়েছে ৫০ টাকার মধ্যে। একই দামের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে একেকটি লাউ কিংবা চাল কুমড়াও।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা আবদুল হাকিম বলেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় সবজির দামে স্বস্তি ফিরেছে।
“আড়তে নিয়মিত সবজি আসে। বছরের এই সময়ে দাম এমনিতেই কম থাকে। এবারও তাই। বেশির ভাগ সবজি ৫০ টাকার নিচে। কয়েকটি একটু বেশি। মৌসুম না হওয়ায় এগুলোর দাম বেশি।”
তবে শুক্রবার এলেই শাকসবজির দাম বেড়ে যায় বলে ভাষ্য এই বিক্রেতার।
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “বন্ধের দিন, সবাই কিনতে আসে। বাজারেও ‘ফ্রেশ’ সবজি আসে। ‘ফ্রেশ’ সবজির দাম ১০-২০ টাকা বাড়তিই থাকেই।”
টাউনহল বাজারে দেশি জাতের শসা ৫০ টাকা কেজি ও হাইব্রিড শসা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল। আগের সপ্তাহে দেশি জাতের শসা ৭০ টাকা কেজি আ হাইব্রিড শসার কেজি ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা।
এই বাজারে প্রতি ফালি মিষ্টি কুমড়া বিক্রি হচ্ছিল আগের মতো ৩০ টাকাতেই। চিচিঙ্গা ৪০ টাকা কমে প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছিল ৪০ টাকায়। তবে ঝিঙার দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ঠেকেছে ৮০ টাকায়।

কাঁকরোল গেল সপ্তাহের চেয়ে ১০ টাকা কমে কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। এর বাইরে বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ টাকা ও পটল ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।
তবে বাজারে বেগুনের দাম ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
টাউনহল বাজারে লম্বা ও গোল বেগুন ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও কারওয়ান বাজারে তা ৭০ থেকে ৮০ টাকায় কিনছিলেন ভোক্তারা।
মাঝে কাঁচামরিচের দাম কিছুটা কমলেও ফের বাড়তে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল পণ্যটি। গেল সপ্তাহে ছিল ১২০ টাকা। তার আগের সপ্তাহে ৮০ থেকে ১০০ টাকাতেও মিলেছে।
বাজারে আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়; পেঁয়াজ মিলছে গেল সপ্তাহের মতো ৪০ থেকে ৪৫ টাকাতে।
সবজির পাশাপাশি ডিমের দামও কমতে শুরু করেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে লাল ও সাদা ডিম কমেছে ডজনে ১০ টাকা। বাজারে খামারের প্রতিডজন লাল ডিম ১২০ টাকা ও সাদা ডিম ১১০ টাকায় বিক্রি হয়। আগের সপ্তাহে প্রতি ডজন লাল ডিম ছিল ১৩০ টাকা।
বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি গেল সপ্তাহের মতো ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সোনালী জাতের মুরগির দাম কেজিতে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বাজারে এই জাতের মুরগি ৩৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।
মোহাম্মদপুর টাউনহলের কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও কারওয়ান বাজারে ৭৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
দুই সপ্তাহ আগে বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছিল ৮৫০ টাকা কেজি দরে।
এছাড়া আগের সপ্তাহের মতোই আছে ছাগলের মাংসের দাম। এদিন খাসির এক কেজি মাংস বিক্রি হচ্ছিল ১৩০০ টাকায়। ১২০০ টাকা ছিল বকরির মাংসের কেজি।
টাউন হল বাজারের মাছ বিক্রেতা মালেক মিয়া বলেন, “ডিম ছাড়া দুই কেজি ওজনের রুই ৪২০ টাকা কেজি। ডিম থাকলে কেজি পড়ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা।”
আগের সপ্তাহে দুই কেজির বেশি ওজনের রুই মাছ বিক্রি হয় ৪৬০ থেকে ৪৮০ টাকায়।
বাজারে প্রতিকেজি পাঙাশ আগের মতোই ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, ছোট আকারের তেলাপিয়া ১৩০ টাকা এবং বড় তেলাপিয়া আগের মতই ২০০ থেকে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া আগের সপ্তাহে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া টেংরার দাম বেড়ে এ সপ্তাহে ৬০০ টাকা হয়েছে। চাষের পাবদা ৫০ টাকা বেড়ে ৪০০ টাকায় বিক্রি হলেও দেশি পাবদা আগের দরে ৫০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
এছাড়া চাষের কই মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৩০০ টাকা, সিলভার কার্প ও সরপুটি বিক্রি হচ্ছিল আগের সপ্তাহের মত ২০০ টাকা কেজি দরে।