Published : 06 Feb 2026, 09:22 PM
ঢাকার কাঁচাবাজারগুলোয় সপ্তাহের ব্যবধানে শাকসবজির দামে খুব একটা হেরফের না হলেও কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম।
বিক্রেতারা বলছেন, শবে বরাতের আগের দিন থেকেই ব্রয়লার মুরগির দাম চড়তে থাকে। তবে বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শসা, পেঁপে ও পেঁয়াজ-মরিচসহ বেশির ভাগ সবজি মিলছে গেল সপ্তাহের দরেই।
শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মানিকনগর, মতিঝিল, সেগুনবাগিচা ও শান্তিনগর বাজার ঘুরে দেখা যায়, আগের সপ্তাহে হঠাৎ কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে যাওয়া দেশি টমেটোর বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়।
এদিন সেগুনবাগিচা কঁচাবাজারে দরদাম করে দুই কেজি টমেটো ১০০ টাকায় কেনেন সোনিয়া আফরোজ।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, ‘‘দাম তো আজ একটু কমলো। গত কয়েক দিন বেড়েছিল। এটাই আমাদের বাজারের সমস্যা। আমরা পণ্য কিনি, কেন দাম বাড়ে, তা জানার সুযোগ নাই। চাইলেও জানতে পারি না, কেন দাম বাড়ে।’’
কোনো পণ্যের দাম হঠাৎ বাড়লে তা সরকারের পক্ষ থেকে দৈনিক ভিত্তিতে জানানো উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘‘নাগরিক হিসেবে আমার জানার অধিকার আছে, বিক্রেতা সঠিক দাম চাইল কি না? তারাও আমাদের একটা ব্যখ্যা দেয়, কখনো বলে সরবরাহ নাই; ট্রাক আসতে পারছে না।
‘‘এটা কতটুকু সঠিক তা যাচাই করতে পারি না। সরকারের পক্ষ থেকেও একটি ব্যখ্যা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করি।’’
বেশির ভাগ সবিজির দাম ও সরবরাহ স্থিতীশীল থাকলেও কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে শালগমের দাম।

মতিঝিল কলোনি বাজারে আগের সপ্তাহে ৩০-৪০ টাকা দরের এ সবজি প্রতি কেজি ৫০ টাকা বিক্রি করছেন হেমায়েত উল্লাহ।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, ‘‘দুয়েকটা তো সামান্য বাড়তেই পারে। সিজন শ্যাষ (মৌসুম শেষ) শালগমের, তাই আমদানি (সরবরাহ) কম।’’
শান্তিনগরে এক কেজি বড় গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে গত সপ্তাহের মতো ৬০ টাকা দরেই। একইভাবে এ বাজারে দাম না বেড়ে প্রতি কেজি পেপে ৩০ টাকা, দেশি পেয়াঁজ ৪০ টাকা, একেকটি বাঁধাকপি ৪০ টাকা ও মুলা ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সেগুনবাগিচার বিক্রেতা সেলিম উদ্দিন বলেন, লম্বা চিকন বেগুনের কেজি গেল সপ্তাহের মতো ৪০ টাকাতেই আছে। মটরশুটির কেজি পড়ছে ১১০ টাকা।
গত দুই সপ্তাহ ধরেই দেশি জাতের মটরশুটি (খোসাযুক্ত) বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা কেজি দরে। এ বাজারে সিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা দরে। সবজিটির দাম কয়েক সপ্তাহ ধরেই স্থিতিশীল রয়েছে।
মতিঝিলে প্রতি কেজি নতুন আলু ২৫ টাকায় বিক্রি হলেও একসঙ্গে ৫ কেজি নিলে ১১০ টাকাতেই মিলছে।
এ বাজারে শসা প্রতি কেজি ৬০ টাকা বিক্রির তথ্য দিয়ে দোকানি তাজুল ইসলাম বলেন, ‘‘শুক্রবার সালাদ হিসেবে শসা ও ক্ষীরা বেশি বিক্রি হয়। তাই দাম একটু বেশি থাকে শুক্র-শনিবার।’’
আগের সপ্তাহে এসব পণ্যের কেজি ছিল ৬০-৭০ টাকা।

মাস খানেক আগে দর বাড়া পেঁয়াজে স্বস্তি ফিরেছে। শুক্রবার শান্তিনগরে দেশি পেয়াঁজ বিক্রি হয় ৪০ টাকা কেজি দরে। সেখানে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ছিল ৫০ টাকা কেজি।
২০ টাকা বেড়েছে ব্রয়লারে
প্রতি কেজি ব্রয়লার মাংসের দাম বেড়েছে ২০ টাকা। শবে বরাতের সময় দাম বেড়ে গেলেও কারণ ‘জানেন না’ দোকানিরা।
সেগুনবাগিচার বিক্রেতা হযরত উল্লাহ বলেন, ‘‘কেন যে ঘাটতি হইলো জানি না। পাইকারি বাজার থাইক্কাই ২০ টাকা বেশি দিয়া ১৭০ টাকায় আনতাছি।
‘‘এহন ১৯০ থেকে ২০০ টাকা বেচি এক কেজি। দামদামি করলে ১৯০ টাকাতেই ছাইড়া দেই।’’
অবশ্য সোনালী জাতের মুরগির দাম বাড়েনি। এ বাজারে আগের দরেই প্রতি কেজি ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এই মুরগি।
আগের সপ্তাহের মতো প্রতি ডজন ডিমি ১১০ টাকা বিক্রি হচ্ছে বলে জানান যাত্রবাড়ীর দোকানি আব্দুল আলিম।