Published : 10 Apr 2026, 09:40 PM
সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মাছের দাম। সোনালী মুরগি ও গরু মাংসের দামও বাড়তি।
শুক্রবার ঢাকার রায়েরবাগ, শনির আখড়া, কাপ্তান বাজার, শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, আগের সপ্তাহে যে ঢেঁড়সের দাম ছিল ৫০ টাকা কেজি, এদিন তা বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঢেঁড়সের দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৪০ টাকা। তবে এক কেজির কম নিলে ক্রেতাকে ১০ টাকা বাড়তি গুনে ১০০ টাকা কেজি দরে কিনতে হচ্ছে।
শুধু ঢেঁড়সই নয় পাল্লা দিয়েছে বেড়েছে পটল, করলা, বেগুন, ধুন্দল, চিচিঙ্গা, টমেটো ও মরিচের দামও।
বিক্রেতারা বলছেন, সবজির সরবরাহ বেশি থাকলেও তেল সংকটে গাড়ি ভাড়া বেড়ে গেছে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে বৃষ্টি। এ দুই মিলিয়ে ঢাকায় আসা সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে।
রাজধানীর সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারে সবজি কিনতে আসা আসাদুজ্জামান বলেন, “এক কেজি করলা ১০০ টাকা চাচ্ছে। দেশিটা ১২০ টাকা, কেমনে মানুষ কিনবে।
“৫-১০ টাকা বাড়লে দেওয়া যায়। কিন্তু তেল নাই, বৃষ্টি হচ্ছে—এগুলা বলা হচ্ছে দাম বাড়িয়ে। এসব তো কোনো কথা না, সব টালবাহানা।”
শনির আখড়া কাঁচাবাজারের বিক্রেতা মোহাম্মদ রাসেল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বৃষ্টি হইতাছে তো, বৃষ্টিতে খরচা বেশি হয় আনতে। তাই সবজির দাম বাড়তি।”
আগের সপ্তাহে প্রতি কেজি ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া সাদা গোল বেগুন শুক্রবার ১৪০ টাকা দাম হাঁকান এ বাজারের দোকানি আশরাফুল ইসলাম।
তার অজুহাত, “আমরাও বিপদে আছি। শুক্কুরবার একটু বেশি বিক্রি হয়, মালের দাম বাইরা গেছে-এহন বিক্রি কম হইতাছে। রাইত পর্যন্ত থাকতে হইবো, যদি বেচা বাড়ে।”

শনির আখড়া কাঁচাবাজারে বড় আকারের গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৫০ টাকা কেজি। লম্বা বেগুন ৪০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে।
যাত্রাবাড়ীতে যে পটল আগের সপ্তাহে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছিল, শুক্রবার তা ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয় ১০০ টাকা।
একইভাবে শনির আখড়ায় ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া টমেটোর দাম বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি।
আর সেগুনবাগিচায় সালাদের উপকরণ শসা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি দরে, আগের আগের সপ্তাহে যা ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা।
অবশ্য আগের দামে অর্থাৎ ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে। গত এক মাস ধরে একই দরে বিক্রি হওয়া শিমের দরে কোনো বদল হয়নি। আগের সপ্তাহের মত ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ বাজারে বরবটির দাম ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয় ১০০ টাকা এবং কাঁচামরিচের দাম ৪০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
কাপ্তান বাজারে ধুন্দল ১০০ টাকা কেজি ও ঝিঙা ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। আগের সপ্তাহে ঝিঙা ১১০ টাকা থেকে ১২০ টাকা এবং ধুন্দল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল।

মাছের দামও বেড়েছে
শনির আখড়ার সবচেয়ে বড় কাঁচাবাজারে পাবদা মাছ কেজিপ্রতি ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন কাওছার হোসেন।
আগের সপ্তাহে একই আকারের পাবদা বিক্রি হয় ৩৫০ টাকা কেজি দরে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “চাষের ও বড় মাছই বেশি আসছে। তাই দাম হালকা বেশি।”
এই বাজারে ছোট আকারের চাষের পাঙ্গাস মাছের দর ২০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকা কেজি, আর নদীর পাঙ্গাস বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা কেজি দরে।
আগের সপ্তাহে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া পোয়া মাছ শুক্রবার বিক্রি হয় ৫০০ টাকা দরে। চাষের তেলাপিয়া আগের দর, ১৩০ টাকায় বিক্রি হলেও বেড়েছে রুই মাছের দাম।
২৪০ টাকায় কেজি দরে বিক্রি হওয়া রুই শুক্রবারে বিক্রি হয় ২৫০ টাকায়। আগের দরে বড় আকারের (আড়াই কেজির ওপরে) বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৪৫০ টাকা।
রায়েরবাগ বাজারে গরুর মাংস আগের সপ্তাহের মত ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

সেগুনবাগিচা ও শনির আখড়ায় ব্রয়লার মুরগির দামে কেজি প্রতি ২০ টাকা কমে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়। তবে সোনালী জাতের মুরগির দাম কমেনি। সেগুনবাগিচায় আগের দর, ৪৩০ থেকে ৪৫০ টাকায় প্রতি কেজি সোনালী জাতের মুরগি বিক্রি হয়। আর লেয়ার মুরগি বিক্রি হয় ২৩০ টাকা কেজি দরে।
উর্ধমুখী বাজারে ডিমের দাম প্রতি ডজনে ১০ টাকা কমে সেগুনবাগিচা ও যাত্রাবাড়ীতে বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা দরে।