Published : 10 Jun 2026, 11:40 PM
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্যচুক্তিকে প্রেসিডেন্ট ‘ডনাল্ড ট্রাম্পের আদেশপত্র’ বলে মন্তব্য করেছেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
চুক্তিতে একতরফাভাবে মার্কিন স্বার্থ রক্ষিত হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, “চুক্তি তো হয় দুই পক্ষে, এই চুক্তি দুটি পক্ষ সাজিয়ে স্বাক্ষর হলেও বাস্তবে তারা উভয়েই এক পক্ষ, মার্কিন স্বার্থ রক্ষার পক্ষের লোক। বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার কোনো লোক ছিল না।”
বুধবার ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক গোলটেবিল আলোচনায় একথা বলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এ অধ্যাপক।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে যায়। এ চুক্তি নিয়ে এখন ব্যাপক সমালোচনা চলছে।
বর্তমানে সরকারি দল ও বিরোধী দলও ‘মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় একমত’ মন্তব্য করেন আনু মুহাম্মদ।
তার কথায়, “এখনো যারা সরকারে আছে ও বিরোধী দলে বিভক্ত হয়ে আছে- সেই বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি সংসদে প্রতি মিনিটে ২ লাখ ৭২ হাজার টাকা খরচ করে অপ্রয়োজনীয় অনেক বিষয় নিয়ে হইচই করলেও বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার ফুরসত পাচ্ছে না। এ থেকে বুঝা যায় তারা সবাই মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় একমত।
“জনগণের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে বিএনপি সরকারকে চুক্তি বাতিল করে প্রমাণ করতে হবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এর পক্ষে তারা।”
আনু মুহাম্মদ বলেন, “বর্তমান বিশ্বে বাজার অর্থনীতিরও একটা নিয়ম আছে। চাহিদা অনুযায়ী যেখানে কম দামে পাবে, সেখান থেকে পণ্য কিনবে আবার উদ্বৃত্ত পণ্য যেখানে বেশি দাম পাবে সেখান রপ্তানি করবে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের আচরণে দেখা যায়, অন্য দেশের জন্য খোলা বাজার নীতি, আমেরিকার জন্য না।
“বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার যে ভারসাম্যের নীতি, তারও তোয়াক্কা করছে না তারা। আমেরিকা সারা দুনিয়ায় দস্যুবৃত্তি করে বেড়াচ্ছে। এর বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সরকারকে চুক্তি বাতিলে বাধ্য করতে হবে।”
সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বিজিএমইএর সহসভাপতি ইনামুল হক খান, ‘চর্চা’ নিউজ পোর্টালের সম্পাদক সোহরাব হোসেন, বিসিকের সাবেক পরিচালক ও প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু তাহের খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা গোলটেবিল আলোচনায় কথা বলেন।