Published : 06 Apr 2026, 12:53 AM
ইরানে চলমান যুদ্ধের কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আবু ধাবি থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেটের ফ্লাইটের সূচি এলোমেলো হয়ে গেছে; তাতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, ওমানে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে মিসাইল, ড্রোন এবং রকেট নিক্ষেপ করে ইরান। সেই যুদ্ধ মাস ছাড়িয়ে এখনো চলমান।
যুদ্ধাবস্থার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটের শত-শত ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। যুদ্ধের আঁচ লেগেছে আরব আমিরাতের রাজধানী আবু ধাবি থেকে চট্টগ্রাম ও ঢাকা রুটেও।
গত বৃহস্পতিবার আবু ধাবি-চট্টগ্রাম-ঢাকা ফ্লাইটটি (বিজি-১২৮) স্থানীয় সময় বিকাল ৩টা ১৫ মিনিটে ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু, প্রায় ২৬ ঘণ্টা বিলম্বে পরদিন-শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে ওই ফ্লাইটটি আবু ধাবি থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়।
বিমানের আবু ধাবি কার্যালয়ের জিএসএ (গ্রাউন্ড সার্ভিস অ্যাসিসট্যান্ট) বিভাগের একজন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, “এই ফ্লাইটটি বিরাজমান পরিস্থিতিতে ছিল একটি বিশেষ ফ্লাইট। আবুধাবির শেখ যায়েদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ঢাকা থেকে ঘুরে ফ্লাইটটির আবু ধাবি এসে অবতরণের অনুমোদন বা স্লট না দেওয়ায় আমাদের পক্ষে ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।”
ঢাকায় বিমানের একজন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, বিমানের শনিবার রাত সোয়া ৯টার ঢাকা-আবু ধাবি ফ্লাইট (বিজি-৩২৭) এবং ভোররাতের আবু ধাবি-সিলেট-ঢাকা ফ্লাইট (বিজি-২২৮) বাতিল করা হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে এবং আবু ধাবি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না পাওয়ায় ফ্লাইট দুটি বাতিল করা হয়। এই ফ্লাইটে ১৬২ জন যাত্রী আসার কথা ছিল।
বিমানের জনসংযোগ শাখার মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম রোববার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে অনেক ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে বিমান। যুদ্ধের কারণে আবু ধাবি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যখন-তখন ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করছে। যে কারণে বিমানের ফ্লাইটের সূচিতেও প্রভাব পড়েছে।”
হাজার ফ্লাইট বাতিল, যাত্রীদের দুর্ভোগ
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ঢাকার শাহজালাল ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশসহ আশপাশের দেশের রুটগুলোতে এ পর্যন্ত বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের এক হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
কেউ-কেউ বিমানবন্দরে আসার পর ফ্লাইট বাতিলের তথ্য জানতে পেরেছেন। তেমন একজন তামিম আহমদ; গেল বৃহস্পতিবার আবু ধাবি থেকে একটি ফ্লাইটে (বিজি-১২৮) বাংলাদেশে আসার কথা ছিল তার।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ বিলম্বের ফলে যাত্রীদের নিদারুণ ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।”
আরেক যাত্রী মোহাম্মদ শফিকুল বলেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে রোববার তার ফ্লাইটটি ছাড়ার কথা থাকলেও তিনি জানতে পেরেছেন সেই ফ্লাইটটি যাবে সোমবার।
শনিবার আবু ধাবি থেকে সাইফুল ইসলাম নামে এক যাত্রীর দেশে যাওয়ার কথা থাকলেও ফ্লাইটের সূচি গড়বড় হয়ে গেছে। এ নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন তিনি।
তবে কেউ কেউ অভিযোগ তুলেছেন, অন্যান্য এয়ারলাইন্সের কিছু ফ্লাইট চললেও বিমান ফ্লাইট স্লট পাচ্ছে না।
আরব আমিরাতের দুবাইয়ের একটি ট্রাভেল এজেন্সির এক্সিকিউটিভ মঈন উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিমানের শিডিউল এলোমেলো হয়ে গেছে। অন্যান্য এয়ারলাইন্স এই পরিস্থিতিতে সূচি দিতে পারলেও বিমান পারেনি।”
তার অভিযোগ, “যুদ্ধ শুরুর পর অন্য এয়ারলাইন্স আরব আমিরাতের বিভিন্ন রুটে কম-বেশি ফ্লাইট চালালেও বিমান ১০ থেকে ১৫ দিন ফ্লাইট বন্ধ রাখে। চলমান পরিস্থিতির কারণে দুবাই থেকে চট্টগ্রাম রুটে কুয়েত এয়ার, সালাম এয়ারের ফ্লাইট অনিয়মিত হয়ে পড়লেও ফ্লাই দুবাই, ইউ এস-বাংলা, এয়ার অ্যারাবিয়া তাদের ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়িয়েছে, নিয়মিত যাচ্ছেও। আবুধাবিতে তো বিমানের বিকল্প নাই, তাই আবু ধাবি থেকে আসতে চট্টগ্রামবাসীর দুর্ভোগ বেশি।”
যা বলছে বিমান কর্তৃপক্ষ
বিমানের আবু ধাবির রিজিওনাল ম্যানেজার (যিনি বর্তমানে বিমান দুবাইয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বেও আছেন) শাহাদাত হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আবু ধাবি থেকে সিকিউরিটি অ্যাপ্রুভাল না পাওয়ার কারণে কিছু ফ্লাইটের শিডিউল এলোমেলো হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি বাতিল ফ্লাইটের যাত্রীদের পরবর্তী ফ্লাইটগুলোতে পাঠানোর।”
আবু ধাবি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পাওয়ায় ফ্লাইট বাতিলের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ১২ দিন বিমানের এই রুটে উড্ডয়ন বন্ধ ছিল। এখনো আমরা অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। যেমন ঢাকা-আবু ধাবির শনিবারের রাত ৯টার ফ্লাইট (বিজি-৩২৭) ধরার জন্য যাত্রীরা আসার পর আমাদেরকে ফ্লাইট ক্যান্সেলের কথা জানানো হল। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ হয়েছে।”
শাহাদাত বলেন, “শারজাহ থেকে রোববারের বিমানের ফ্লাইট যাচ্ছে না। আবু ধাবি থেকে সপ্তাহে পাঁচটা ফ্লাইট চালানোর প্রস্তুতি আমাদের আছে, কিন্তু তা আমরা পারছি না কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না পাওয়ায়।
“দুবাই থেকে ফ্লাইট দিনের বেলায় থাকায় মোটামুটি নিয়মিত চলছে। শারজাহ থেকে এখন তিনটি ফ্লাইটের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। তবে আমরা সবসময় চাইছি ফ্লাইটের সংখ্যা পূর্বাবস্থায় ফিরে আসুক।”