একটি সোফা থেকে হাজারো ক্রেতার ঘরে, দারাজে ফার্নিচার প্লাসের পথচলা
বাবার ফার্নিচার তৈরির ব্যবসাকে নিজস্ব ব্র্যান্ডে রূপ দিয়ে অনলাইনে এগিয়ে নিয়েছেন মো. শান্ত ফরাজী। দারাজে একটি সোফা দিয়ে শুরু করে এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে তার পণ্য।
পারিবারিক ব্যবসাকে কীভাবে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তারই একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মো. শান্ত ফরাজী।
একসময় তার বাবার তৈরি ফার্নিচার কেবল পাইকারি ডিলার ও স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু সময়ের চাহিদাকে বুঝতে পেরে দারাজের মত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সেই ব্যবসাকে তিনি নিয়ে গেছেন এক নতুন উচ্চতায়।
অনলাইনে যুক্ত হওয়ার পর তার ব্র্যান্ড ‘ফার্নিচার প্লাস’-এর ব্যবসা বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ এবং পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে দেশের হাজারো গ্রাহকের ঘরে। এই সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্র্যান্ডটি ২০২৫ সালে ‘দারাজ মার্কেটপ্লেস লিডার অ্যাওয়ার্ড’ এবং ২০২৬ সালে ‘দারাজ প্লাটিনাম পার্টনার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে।
শান্তর এই উদ্যোক্তা জীবনের শুরুটা হয়েছিল বাবার হাত ধরে। নিজেদের কারখানায় তৈরি আসবাবপত্র পাইকারি ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করতেন তার বাবা। পণ্যের মান ভালো হলেও নির্দিষ্ট কোনো ব্র্যান্ড পরিচিতি ছিল না। বাবার সেই উদ্যোগকে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে শান্ত দায়িত্ব নেন এবং গড়ে তোলেন ‘ফার্নিচার প্লাস’।
কিন্তু চিরাচরিত ডিলারশিপ মডেলে ব্যবসার পরিধি বাড়ানো ছিল কঠিন। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারীর সময় তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেন, আধুনিক বিশ্বে টিকে থাকতে এবং নতুন ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাতে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
শান্ত বলেন, "কোভিড-১৯-এর পর আমি বুঝতে পারি, ব্যবসাকে আরও বড় করতে হলে অনলাইনে আসা খুবই জরুরি।"
ব্যক্তিগত কেনাকাটার জন্য নিয়মিত দারাজ অ্যাপ ব্যবহার করতেন শান্ত। সেখানেই ফার্নিচার বিক্রির সুযোগ দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হন।
পরিবারের সমর্থন থাকলেও অনলাইনে মানুষ এত বড় আসবাবপত্র কিনবে কি না, তা নিয়ে শুরুতে কিছুটা সংশয় ছিল তার। সেই সংশয় কাটাতে দারাজে সেলার হিসেবে মাত্র একটি সোফা লিস্ট করার মাধ্যমে ডিজিটাল যাত্রা শুরু করেন তিনি।
চমকপ্রদ ব্যাপার হল, মাত্র তিন-চার দিনের মধ্যেই প্রথম অর্ডারটি চলে আসে! শান্ত নিজেই সোফাটি অ্যাসেম্বল করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেন।
প্রথম অর্ডারে ক্রেতার সন্তুষ্টি ও ইতিবাচক রিভিউ তার আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।
তবে অনলাইন স্টোর পরিচালনার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় শুরুর পথটা মসৃণ ছিল না। অর্ডার ম্যানেজমেন্ট, পণ্যের সঠিক মূল্য নির্ধারণ, ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ এবং ফার্নিচারের মত ভারী পণ্যের ডেলিভারি—সবকিছুই ছিল তার জন্য নতুন। এই চ্যালেঞ্জিং যাত্রায় শান্তর পাশে দাঁড়ায় দারাজের সেলার সাপোর্ট টিম এবং তার কি-অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার।
দারাজের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে শান্ত বলেন, "শুরু থেকেই আমাদের কি-অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার ধাপে ধাপে দেখিয়েছেন কীভাবে ক্যাম্পেইনে অংশ নিতে হয়, প্রাইসিং ও মার্কেটিং করতে হয় এবং সেলস বাড়াতে হয়। ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতেও তিনি সাহায্য করেছেন। সত্যি বলতে, তার সাপোর্ট এবং দারাজের গাইডলাইন ছাড়া আজকের এই জায়গায় পৌঁছানো অনেক কঠিন হত।"
অনলাইন ব্যবসায় কেবল অর্ডার পাওয়াই শেষ কথা নয়, বরং গ্রাহকের সন্তুষ্টিই যে আসল, তা খুব দ্রুতই বুঝে যান শান্ত। একজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তার অভিজ্ঞতা এর চমৎকার একটি উদাহরণ।
ফার্নিচার প্লাস থেকে পণ্য কিনে সন্তুষ্ট হয়ে তিনি তার পরিচিতদেরও এখান থেকে কেনাকাটার পরামর্শ দেন। এরপর তার রেফারেন্সে ক্যান্টনমেন্ট থেকে আরও বেশ কিছু অর্ডার দারাজে আসতে থাকে এবং সেই ক্রেতারা এখনও ফার্নিচার প্লাসের নিয়মিত গ্রাহক।
ক্রেতাদের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি দারাজের মেগা ক্যাম্পেইনগুলো এই ব্যবসায় বড় টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে। ২০২৪ সালের দারাজ ‘১১.১১’ ক্যাম্পেইনের সময় ব্যবসায় বড় পরিবর্তন আসে। ক্যাম্পেইনের আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১০-২০টি অর্ডার আসত, সেখানে ১১.১১-এর প্রথম দিনেই ২৫০টির বেশি পণ্য বিক্রি হয়।
এই অভূতপূর্ব সাড়া শান্তর প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে যায়। সাফল্যের এই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১১.১১ ক্যাম্পেইনে আগের তুলনায় দ্বিগুণ অফার নিয়ে অংশ নেয় ফার্নিচার প্লাস।
ব্যবসার পরিধি বাড়লেও পণ্যের মান ও ডেলিভারি সার্ভিসে কোনো ছাড় দেননি শান্ত। নিজেদের কারখানায় উৎপাদন হওয়ায় সরাসরি মান নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন তিনি। পাশাপাশি ফার্নিচারের মতো ভারী পণ্যের ক্ষতি এড়াতে ডেলিভারি ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন এনেছেন।
গত তিন বছর ধরে ঢাকার ভেতরে ফার্নিচার প্লাস নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এবং ঢাকার বাইরে নির্ভরযোগ্য থার্ড-পার্টি কুরিয়ারের মাধ্যমে পণ্য সরবরাহ করছে। মানসম্মত পণ্য, সঠিক সময়ে ডেলিভারি ও চমৎকার কাস্টমার সার্ভিসের সুবাদে দারাজে বর্তমানে তাদের পজিটিভ সেলার রেটিং ৯৭ শতাংশ।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য সম্পর্কে শান্ত বলেন, "আমাদের লক্ষ্য শুধু পণ্য বিক্রি করা নয়, কাস্টমারদের ভালো শপিং এক্সপেরিয়েন্স দেওয়াও। কাস্টমাররা যখন আমাদের প্রোডাক্ট ব্যবহার করে ভালো রিভিউ দেন এবং অন্যদেরও আমাদের কাছ থেকে কেনার পরামর্শ দেন, সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।"
বাবার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা আর ছেলের সময়োপযোগী ডিজিটাল ভাবনার মেলবন্ধনে ‘ফার্নিচার প্লাস’ আজ দেশের হাজারো ঘরে পৌঁছে গেছে। দারাজের মতো প্ল্যাটফর্ম কীভাবে স্থানীয় ব্যবসাকে নিজ এলাকার গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, শান্তর এই পথচলা তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
নতুন ই-কমার্স সেলারদের প্রতি শান্তর পরামর্শ একটাই, “ধৈর্য ধরে ভালো কোয়ালিটির পণ্য দিন এবং কাস্টমারদের বিশ্বাস অর্জনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন।”
ডিসক্লেইমার
প্রতিবেদনটি একটি বিজ্ঞাপন বার্তা; সংবাদ প্রতিবেদন নয়। আর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে তৈরি করা। এর কোনো কনটেন্টের দায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নয়।
