২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

কর্মচারী তহবিলের ‘অর্থ আত্মসাৎ’: ইউনূসের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ফের পেছাল

ইউনূসের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলাটিতে এ নিয়ে পঞ্চমবারের মত তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ পেছাল।

কর্মচারী তহবিলের ‘অর্থ আত্মসাৎ’: ইউনূসের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ফের পেছাল

গ্রামীণ টেলিকমে শ্রমিক ঠকানোর এক মামলায় গত ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ছয় মাসের সাজা হয়েছে। সেদিন রায় শুনতে তিনি হাজির হন বিজয়নগরের টাপা প্লাজায় শ্রম আদালতে

আদালত প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Jan 2024, 05:07 PM

Updated : 03 Jan 2024, 05:08 PM

গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের ২৫ কোটিরও বেশি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কোম্পানির চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবেদন জমার তারিখ আবার পিছিয়েছে।

বুধবার প্রতিবেদন না পেয়ে ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. আছাদুজ্জামান আগামী ৩ মার্চ নতুন তারিখ দিয়েছেন।

দুদকের কোর্ট পরিদর্শক আক্কাছ আলী আদালতপাড়ায় সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো প্রতিবেদন জমার তারিখ পেছাল।

একই কোম্পানির ১০১ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে স্থায়ী না করা, গণছুটি নগদায়ন না করা, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ জমা না দেওয়ার অভিযোগে অন্য একটি মামলায় গত ১ জানুয়ারি ইউনূসের ছয় মাসের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা হয়েছে। তবে আপিলের শর্তে এক মাসের জামিন দেওয়ায় তাকে কারাগারে যেতে হয়নি।

কোম্পানির বিষয়ে দ্বিতীয় এই মামলাটি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। গত ৩০ মে সংস্থাটির ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ সংস্থার উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানের করা এই মামলায় আসামি হিসেবে ড. ইউনূস ছাড়াও নাম আছে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজমুল ইসলাম, পরিচালক ও প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফুল হাসান, পরিচালক পারভীন মাহমুদ, নাজনীন সুলতানা, মো. শাহজাহান, নূরজাহান বেগম ও পরিচালক এস. এম হাজ্জাতুল ইসলাম লতিফী, আইনজীবী মো. ইউসুফ আলী, আইনজীবী জাফরুল হাসান শরীফ, গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ হাসান ও প্রতিনিধি মো. মাইনুল ইসলামের।

এজাহারে বলা হয়, ইউনূস ও নাজমুল ইসলামসহ গ্রামীণ টেলিকম বোর্ড সদস্যদের উপস্থিতিতে ২০২২ সালের ৯ মে অনুষ্ঠিত ১০৮তম বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঢাকা ব্যাংকের গুলশান শাখায় হিসাব খোলা হয়। তবে ব্যাংকে হিসাব খোলা হয় এক দিন আগেই।

গ্রামীণ টেলিকমের কর্মচারীদের পাওনা লভ্যাংশ বিতরণের জন্য গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন এবং গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে সেটেলমেন্ট এগ্রিমেন্ট চুক্তি হয় ওই বছরের ২৭ এপ্রিল।

এজাহারে বলা হয়, সেটেলমেন্ট এগ্রিমেন্টেও ৮ মে ব্যাংক হিসাব দেখানো আছে, যা বাস্তবে অসম্ভব। ‘ভুয়া’ সেটেলমেন্ট এগ্রিমেন্টের শর্ত অনুযায়ী ও ১০৮তম বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক গ্রামীণ টেলিকমের ৪৩৭ কোটি ১ লাখ ১২ হাজার ৬২১ টাকা ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের মিরপুর শাখা থেকে ঢাকা ব্যাংকের গুলশান শাখায় স্থানান্তর করা হয় ২০২২ সালের ১০ মে।

পরে ২২ জুন ১০৯তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অ্যাডভোকেট ফি হিসাবে অতিরিক্ত ১ কোটি ৬৩ লাখ ৯১ হাজার ৩৮৯ টাকা প্রদানের বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়।

অন্যদিকে ঢাকা ব্যাংকের গুলশান শাখার হিসাব থেকে গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন নামীয় ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের লোকাল অফিসের হিসাব থেকে তিন দফায় মোট ২৬ কোটি ২২ লাখ ৬ হাজার ৭৮০ টাকা স্থানান্তর করা হয়।

কিন্তু কর্মচারীদের লভ্যাংশ বিতরণের আগেই তাদের প্রাপ্য অর্থ তাদের না জানিয়েই ‘অসৎ উদ্দেশ্যে’ ২০২২ সালের মে ও জুন মাসের বিভিন্ন সময়ে সিবিএ নেতা মো. কামরুজ্জামান, মাইনুল ইসলাম ও ফিরোজ মাহমুদ হাসানের ডাচ বাংলা ব্যাংকের মিরপুর শাখার হিসাবে ৩ কোটি টাকা করে স্থানান্তর করা হয়।

একইভাবে আইনজীবী মো. ইউসুফ আলীর কমার্শিয়াল ব্যাংক অফ সিলনের ধানমন্ডি শাখার হিসাবে ৪ কোটি টাকা ও দি সিটি ব্যাংকের গুলশান শাখার হিসাবে ৫ কোটি টাকা এবং আইনজীবী জাফরুল হাসান শরীফ ও মো. ইউসুফ আলীর স্ট্যান্ডার্ড টাচার্ড ব্যাংকের গুলশান নর্থ শাখায় যৌথ হিসাবে ৬ কোটি স্থানান্তর করা হয়, যা তাদের প্রাপ্য ছিল না।

দুদকের রেকর্ডপত্র অনুযায়ী, অ্যাডভোকেট ফি হিসেবে প্রকৃতপক্ষে হস্তান্তরিত হয়েছে মাত্র ১ কোটি টাকা। বাকি ২৫ কোটি ২২ লাখ ৬ হাজার ৭৮০ টাকা গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বোর্ড সদস্যদের সহায়তায় গ্রামীণ টেলিকমের সিবিএ নেতা এবং আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেটেলমেন্ট এগ্রিমেন্টের শর্ত লঙ্ঘন করে ‘অসৎ উদ্দেশে জালিয়াতির আশ্রয়ে গ্রামীণ টেলিকম থেকে উক্ত অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।’

দণ্ডবিধি ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় এটি ‘শাস্তিযোগ্য অপরাধ’ উল্লেখ করে এজাহারে বলা হয়, “যে কারণে আসামি ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২)(৩) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।“

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক গ্রামীণ টেলিকম কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ সংবলিত একটি প্রতিবেদন দুদকে পাঠানো হয়।

ওই প্রতিবেদনের সূত্র ধরেই ২০২২ সালের ২৮ জুলাই অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তের কথা জানান দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

অভিযোগগুলো ছিল: অনিয়মের মাধ্যমে শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টনের জন্য সংরক্ষিত লভ্যাংশের ৫ শতাংশ অর্থ লোপাট, শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধকালে অবৈধভাবে অ্যাডভোকেট ফি ও অন্যান্য ফির নামে ৬ শতাংশ অর্থ কর্তন, শ্রমিক কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলে বরাদ্দ করা সুদসহ ৪৫ কোটি ৫২ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৩ টাকা বিতরণ না করে আত্মসাৎ এবং কোম্পানি থেকে ২ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ।

গত ৫ অক্টোবর এই অভিযোগ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে দুর্নীতি দমন কমিশনে আসেন ড. ইউনূস। দেড় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “মামলাটি মিথ্যা, এ ব্যাপারে আমি শঙ্কিত নই।"

আরো পড়ুন:

পুরানো খবর:

শ্রমিক ঠকানোর দায়ে নোবেলজয়ী ইউনূসের ৬ মাসের সাজা

পুরানো খবর:

যে দোষ করিনি, সে দোষের শাস্তি পেলাম: ইউনূস

পুরানো খবর:

নোবেলজয়ীর নয়, এ বিচার গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যানের: আদালত

পুরানো খবর:

দুদক কারো ব্যক্তি পরিচয় দেখে না: ড. ইউনূস প্রসঙ্গে সংস্থার সচিব

পুরানো খবর:

ইউনূস অপরাধ করেছেন, বিচার হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পুরানো খবর:

ইউনূসের ব্যক্তিত্বের উচ্চতা কি আইনের ঊর্ধ্বে? প্রশ্ন কাদেরের

পুরানো খবর:

ইউনূসের বিচারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে প্রভাব পড়বে না: পররাষ্ট্র সচিব

পুরানো খবর:

ইউনূসকে সাজা সরকারের 'বন্য প্রতিহিংসার' প্রকাশ: বিএনপি