যুদ্ধাপরাধ: শেরপুরের ৩ জনের যাবজ্জীবন

মুক্তিযুদ্ধের সময় নকলা উপজেলায় ছয়জনকে হত্যা, অপহরণ, আটক-নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের মত অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে তাদের এই সাজা দেওয়া হয়েছে।

আদালত প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 Feb 2024, 06:57 AM
Updated : 12 Feb 2024, 06:57 AM

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে শেরপুরের তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

দণ্ডিতরা হলেন- এ কে এম আকরাম হোসেন, আমিনুজ্জামান ফারুক ও মোখলেসুর রহমান ওরফে তারা।

মুক্তিযুদ্ধের সময় নকলা উপজেলায় ছয়জনকে হত্যা, অপহরণ, আটক-নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের মত অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে তাদের এই সাজা দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম নেতৃত্বাধীন তিন বিচারকের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সোমবার এ মামলার রায় ঘোষণা করে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম।

আদালতে প্রসিকিউশন পক্ষে এ মামলা লড়েন প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী, সুলতান মাহমুদ শিমন ও রেজিয়া সুলতানা চমন। আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুস সোবহান তরফদার ও আবদুস সাত্তার।

গত ২৪ জানুয়ারি উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রেখেছিল ট্রাইব্যুনাল।

নকলা উপজেলার এই তিন আসামি একাত্তরে ছিলেন মুসলিম লীগের সদস্য ছিলেন বলে জানা যায়। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তারা রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন।

যুদ্ধের সময় তাদের বিরুদ্ধে নকলার বিভিন্ন স্থানে ছয়জনকে হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগের মত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয় এ মামলায়।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, নকলার চার রাজাকারের বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তদন্ত করে ২০১৭ সালের ২৬ জুলাই প্রতিবেদন দাখিল করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

২০১৮ সালের ৩০ অগাস্ট চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচার চলাকালে বার্ধক্যজনিত কারণে আসামি এমদাদুল হক খাজা মারা যান।