দোষ স্বীকারের পর বিতর্কিত বক্তা কাজী ইব্রাহিমের সাজা

করোনাভাইরাসের টিকা নেওয়ায় ‘নারীর দাড়ি গজাচ্ছে’, ‘পুরুষ কণ্ঠ পাল্টে যাচ্ছে’ এ ধরনের মিথ্যা বক্তব্যসহ ইব্রাহিমের বিভিন্ন মন্তব্য সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল। এক বক্তৃতায় তিনি করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের ‘গাণিতিক সূত্রও’ দিয়েছিলেন।

আদালত প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Jan 2023, 09:27 AM
Updated : 16 Jan 2023, 09:27 AM

করোনাভাইরাসের টিকাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য আলোচনায় আসা কথিত ধর্মীয় বক্তা মুফতি কাজী ইব্রাহিম ‘মিথ্যা ও উসকানিমূলক বক্তব্য’ দেওয়ার মামলায় অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন।

অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করার পর সোমবার তাকে এক বছর তিন মাস ১৯ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছে ঢাকার সাইবার ট্রাইবুনালের বিচারক এ কে এম জুলফিকার হায়াত।

এদিন এ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানিতে অভিযোগ পড়ে শুনিয়ে বিচারক নিয়ম অনুযায়ী আসামির কাছে জানতে চান, তিনি দোষী না নির্দোষ।

উত্তরে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ইব্রাহীম দোষ স্বীকার করে নিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। দোষ স্বীকার করে নেওয়ায় বিচারক তাৎক্ষণিকভাবে সাজা ঘোষণা করে মামলার নিষ্পত্তি করে দেন। 

ঢাকার সাইবার ট্রাইবুনালের পেশকার শামীম আল মামুন আদালতপাড়ায় সাংবাদিকদের বলেন, “কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম গ্রেপ্তারের পর থেকে এ পর্যন্ত যে সময় কারাগারে কাটিয়েছেন, সেই সময়কেই সাজা হিসেবে সাব্যস্ত করেছে আদালত। সে হিসাবে তার সাজা হয় ১ বছর তিন মাস ১৯ দিন।

মহামারীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে উগ্র ও বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনায় আসেন কাজী ইব্রাহিম। করোনাভাইরাসের টিকা নেওয়ায় ‘নারীর দাড়ি গজাচ্ছে’, ‘পুরুষ কণ্ঠ পাল্টে যাচ্ছে’ এ ধরনের বক্তব্যসহ ইব্রাহিমের বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এক বক্তৃতায় তিনি করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের ‘গাণিতিক সূত্রও’ দেন।

এরপর তার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানার দুটি মামলা হয়। জেড এম রানা নামের এক ব্যক্তি প্রতারণার অভিযোগে কাজী ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আর গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরেকটি মামলা করা হয়।

রানার করা মামলায় একটি স্কুলের টাকা আত্মসাৎ, চাঁদা দাবি এবং প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়। আর গোয়েন্দা পুলিশের মামলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে ‘উগ্র বক্তব্য’ দেওয়ার অভিযোগ করা হয় এই ধর্মীয় বক্তার বিরুদ্ধে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, “কাজী ইব্রাহিম তার বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিল ও খুতবার সময় মিথ্যা-উসকানিমূলক ও ভীতিপ্রদর্শনমূলক বক্তব্য দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ করেন। প্রচারিত ভিডিও সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদকালে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদে উসকানিমূলক ভিডিওগুলোতে প্রচারিত বক্তব্য তার নিজের বলে স্বীকার করেছেন।”

ওই মামলায় ২০২১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর লালমাটিয়ার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। তদন্ত শেষে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

ঢাকার সাইবার ট্রাইবুনালে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি নজরুল ইসলাম শামীম বলেন, “কাজী ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৫/৩১/৩৫ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার কথা বলা হয়েছিল অভিযোগপত্রে। এ ধারাগুলোর সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছরের কারাদণ্ড। যেহেতু তিনি দোষ স্বীকার করেছেন, সেহেতু বিচারক সন্তুষ্ট হয়ে তার কারাভোগটাই সাজা হিসেবে দিয়েছেন।”

পুরনো খবর

Also Read: বিতর্কিত বক্তা মুফতি ইব্রাহীম কারাগারে

Also Read: বিতর্কিত বক্তা মুফতি ইব্রাহিম গ্রেপ্তার

Also Read: বিতর্কিত বক্তা ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে দুই মামলা

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক