বেইলি রোডে আগুন: মর্গে পড়ে থাকা শিশু, মা-বাবার পরিচয় জানা গেল
মৃতদেহ শনাক্ত করেন শিশুটির নানা মুক্তার আলম হেলালী।
রাজধানীর বেইলি রোডের ‘গ্রিন কোজি কটেজ’ ভবনে অগ্নিকাণ্ডের পর সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুর লাশের পরিচয় পাওয়া গেছে। শনাক্ত হয়েছে তার বাবা-মার মৃতদেহও।
এ নিয়ে বেইলি রোডের আগুনে প্রাণ হারানো ৪৬ জনের মধ্যে ৪৩ জনের পরিচয় শনাক্ত হল। বাকিদের পরিচয় শনাক্তের কাজও শেষ পর্যায়ে।
শনাক্ত হওয়া তিনজন হচ্ছেন- শাহজালাল উদ্দীন (৩৪), তার স্ত্রী মেহেরুন নেসা হেলালী (২৪) এবং তাদের তিনবছরের একমাত্র সন্তান ফাইরুজ কাশেম জামিরা।
তাদের মৃতদেহ শনাক্ত করেন মেহেরুনের বাবা মুক্তার আলম হেলালী।
তিনি জানান, শাহজালাল ঢাকার কেরাণীগঞ্জের পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার ডিপো কাস্টমস হাউজে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি পরিবার নিয়ে কেরাণীগঞ্জের বসুন্ধরা রিভারভিউ আবাসিকে থাকতেন।
শাহজালালদের খাগড়াছড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা ছিল জানিয়ে শ্বশুর মুক্তার বলেন, তাদের মোবাইলে না পেয়ে খুঁজতে খুঁজতে ঢাকা মেডিকেলে এসে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় লাশ শনাক্ত করেন।
বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে বেইলি রোডের ভবনটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহতদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুজন এবং শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আটজন ভর্তি আছেন। বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি আটজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যেখানে পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরীকে সভাপতি এবং ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক ছালেহ উদ্দিনকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ভবনটিতে নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। মাত্র একটি সিঁড়ি ও ভবনের একটি ছাড়া প্রায় প্রতিটি ফ্লোরে খাবারে দোকান থাকায় গ্যাস সিলিন্ডারগুলো রাখা ছিল অপরিকল্পিতভাবে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আটতলা গ্রিন কোজি কটেজের নীচতলায় অবস্থিত ‘চুমুক’ নামের চা-কফির দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তারা স্থানীয়দের কাছ থেকে সংগৃহীত একটি ভিডিওকে তদন্তের বড় আলামত হিসেবে দেখছে।
ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ভবনে নিচ তলায় আগুন লেগেছে, আর তা নেভানোর চেষ্টা করছেন কেউ কেউ।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খ মহিদ উদ্দিন জানিয়েছেন, গ্রিন কোজি কটেজে অগ্নিকাণ্ডে বিপুল সংখ্যক হতাহতের ঘটনায় ভবনটির নিচতলার চা-কফির দোকান ‘চুমুক’র দুই মালিক আনোয়ারুল হক ও শফিকুর রহমান রিমন এবং বিরিয়ানি রেস্তোরাঁ ‘কাচ্চি ভাই’র বেইলি রোড শাখার কর্মকর্তা জয়নুদ্দিন জিসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
