যুদ্ধাপরাধ: নেত্রকোণার বদর নেতা খলিলের মৃত্যুদণ্ড

একাত্তরে দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা থানা এলাকায় ২২ জনকে হত্যা, একজনকে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয় এ মামলায়।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 Sept 2022, 04:48 AM
Updated : 13 Sept 2022, 04:48 AM

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে নেত্রকোণার আল-বদর কমান্ডার খলিলুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মঙ্গলবার এ মামলার রায় ঘোষণা করে।

ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. আবু আহমেদ জমাদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম।

পলাতক খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে সময় নেত্রকোণার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা থানা এলাকায় ২২ জনকে হত্যা, একজনকে ধর্ষণসহ যুদ্ধাপরাধের পাঁচ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল এ মামলায়। রায়ে সবগুলো অভিযোগেই তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।  

এর মধ্যে চারটি অভিযোগে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং একটি অভিযোগে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

২৫৫ পৃষ্ঠার রায়ে বলা হয়, খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘নৃশংস ও ভয়ঙ্কর’ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ১৮ জুলাই এ মামলার রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রাখা হয়েছিল। প্রসিকিউশনের পক্ষে এ মামলায় শুনানি করেন রানা দাশগুপ্ত ও রেজিয়া সুলতানা চমন। আসামিপক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম।

২০১৭ সালের ৩০ জানুয়ারি এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয় প্রসিকিউশনের তদন্ত সংস্থা। সে সময় আসামি ছিলেন ৫ জন। তাদের মধ্যে এক আসামি রমজান আলী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

অপর চার আসামি নেত্রকোনার দুর্গাপূর থানার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের মো. খলিলুর রহমান, তার ভাই মো. আজিজুর রহমান, একই থানার আলমপুর ইউনিয়নের আশক আলী এবং জানিরগাঁও ইউনিয়নের মো. শাহনেওয়াজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত।

সে সময় চার আসামির মধ্যে খলিলুর রহমান পলাতক ছিলেন। বিচার চলাকালে কারাগারে থাকা তিন আসামিও মারা যান বিভিন্ন সময়ে। ফলে মঙ্গলবার কেবল খলিলেরই রায় হল।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, খলিলুর রহমান ১৯৭১ সালে ইসলামী ছাত্র সংঘের সদস্য ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি আল-বদর বাহিনীতে যোগ দেন। পরে চণ্ডিগড় ইউনিয়নে আল-বদর বাহিনীর কমান্ডার হন। পরে তিনি এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

রায়ের পর প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সিমন বলেন, আসামি খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, আটক, অপহরণ, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করার অভিযোগ ছিল।

এর মধ্যে একটি ঘটনায় তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি চারটি ঘটনায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

“আসামি পলাতক থাকায় ট্রাইব্যুনাল থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল, তা পুলিশ আজ পর্যন্ত কার্যকর করতে পেরেছে বলে আমরা দেখিনি। আজকে নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে। এর পরবর্তিতে পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”   

২০১৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে খলিলুর রহমানসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অভিযোগের তদন্ত শুরু করে তদন্ত সংস্থা। এর পরের বছর ১২ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

২০১৭ সালের ৩০ জানুয়ারি এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পেয়ে একই বছরের ৩ মে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে।

এরপর ২০১৮ সালের ১২ মার্চ মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচার কাজ শুরু হয়। পরে একই বছরের ১৯ এপ্রিল থেকে এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়ে পরের বছর ২০১৯ সালের ৩ নভেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়।

২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়ার পর মামলার যুক্তিতর্ক শুরু হয়ে গত ১৮ জুলাই তা শেষ হয়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক