Published : 22 Jan 2026, 04:59 PM
রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজ নিয়ে গঠিত হতে যাওয়া ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’র অধ্যাদেশ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত জানাতে এসে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বলেন, “আজকে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে 'ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ ২০২৬' অনুমোদিত হয়েছে।
“ঢাকার সাতটি সরকারি কলেজকে একই একাডেমিক কাঠামোর আওতায় এনে উচ্চ শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জট নিরসনি এই অধ্যাদেশের মূল উদ্দেশ্য।”
ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজকে নিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠন হতে যাচ্ছে।
ঢাকার সাত কলেজের জন্য প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। সবশেষ ভ্রাম্যমাণ ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’করেও আন্দোলন করার ঘোষণা ছিল আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের।
অবশেষে শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণ করল সরকার।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির’ কার্যক্রম যেভাবে চলবে
শফিকুল আলম বলেন, “নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ সংযুক্ত কলেজ হিসেবে পরিচালিত হবে। কলেজগুলোর নিজস্ব পরিচয়, অবকাঠামো এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ওপর তাদের অধিকার অক্ষুন্ন থাকবে।
“অধ্যাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আচার্য, উপাচার্য, সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলসহ পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো রাখা হয়েছে। আচার্য হিসেবে মহামান্য রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করবেন এবং সিনেট মনোনীত প্যানেল থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) শিক্ষা, পরীক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিদর্শন, মূল্যায়ন ও নির্দেশনার ক্ষমতা পাবে।”
এ বিশ্ববিদ্যালয়ে কলা, বিজ্ঞান, সমাজ বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন এবং চারুকলাসহ বিভিন্ন অনুষদের পৃথক পৃথক স্কুল থাকবে যার প্রধান হিসেবে একেকজন নেতৃত্ব দেবেন বলেও জানান প্রেস সচিব।
শফিকুল আলম ভাষ্য, “সংযুক্ত কলেজগুলোর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঠদান, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিন্ন সময়সূচী ও মূল্যায়ন কাঠামো অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
“এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল এবং কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা মূল ক্যাম্পাস বা সংযুক্ত কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে। কলেজগুলোতে কেন্দ্রীয়ভাবে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রাম পরিচালনার পাশাপাশি শিক্ষক উন্নয়ন ও উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকবে।”
অধ্যাদেশে আবাসিক হল সুবিধা, ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম চালুর বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাস নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা বিশেষ চাহিদার ভিত্তিতে বৈষম্য ছাড়া দেশি-বিদেশি সকল উপযুক্ত শিক্ষার্থীর ভর্তি ও ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করার বিধানও সংযোজিত হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ মনে করে এই সিদ্ধান্ত সাতটি কলেজের দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে সহায়ক হবে এবং রাজধানীতে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত আধুনিক ও গবেষণা সমৃদ্ধ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করবে।
আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী শিক্ষা, গবেষণা ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে ইউজিসি নিয়মিতভাবে তদারকি করবে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।
প্রেস সচিব বলেন, “অধ্যাদেশ অনুমোদনের ফলে ঢাকার উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থার একটি নতুন ধারা সূচিত হলো, যা ভবিষ্যতে দেশের উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।”