Published : 21 Feb 2026, 01:28 AM
একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পস্তবক অর্পণের পর শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে।
জামায়াতের ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এবারই প্রথম শহীদ মিনারের বেদীতে ফুল দিয়েছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে। সেখানে তিনিও ১১ দলীয় জোটের নেতাদের নিয়ে আলাদাভাবে মোনাজাত করেন।
রাত ১২ টা বাজার কয়েক মিনিট আগেই শহীদ মিনার এলাকায় আসেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তাকে অভ্যর্থনা জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ নিয়াজ আহমেদ খানসহ শহীদ দিবস আয়োজক কমিটির সদস্যরা।
পুস্পস্তবক অর্পন শেষে শহীদ মিনার ত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি। সব মিলিয়ে পাঁচ-ছয় মিনিটের মত তিনি শহীদ মিনার এলাকায় অবস্থান করেন।
রাষ্ট্রপতির কালো সেডান বেরিয়ে যাওয়ার পর শহীদ মিনার এলাকায় ঢুকতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাদা এসইউভি।
প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদ মিনারে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া হয়। দোয়া পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের খতীব নাজির মাহমুদ।
তিনি সকলকে পশ্চিম দিকে মুখ করে দাঁড়াতে বলে দোয়া শুরু করেন। দোয়ায় দেশের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রম, নব্বইয়ের গণ আন্দোলন এবং সর্বশেষ ২০২৪ এর গণআন্দোলনের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়।
ভাষা শহীদদের স্মরণের এই রাষ্ট্রীয় আয়োজনে শহীদ মিনারে দোয়ার আয়োজন এবারই প্রথম।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাতও কামনা করা হয় দোয়ায়।
এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে স্ত্রী জোবায়দা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়েও আলাদাভাবে শহীদ মিনারে ফুল দেন।
তিন বাহিনীর প্রধানদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জামায়াতে ইসলামির আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে আসেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের সদস্যরা।
এসময় বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, আখতার হুসেইনসহ অন্যরা ছিলেন।
শহীদ মিনারের বেদীতে ফুল দিয়েই বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান মোনাজাত শুরু করেন।
অন্য বছর এই দিনে ছাত্র শিবিরের পক্ষ থেকে শোভাযাত্রা, আলোচনার মত আয়োজন থাকলেও জামায়াত আমিরকে কখনো শহীদ মিনারে দেখা যায়নি।
চব্বিশ পরবর্তী ভিন্ন বাস্তবতায় জামায়াত সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার পর এবার সেই সুযোগ হল।