Published : 13 Apr 2026, 08:41 PM
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদকে এবার গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
সেই সঙ্গে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিন তদন্ত সংস্থার হেফাজতে (সেইফ হোম) রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ সোমবার বিকালে এই আদেশ দেয়।
বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন—অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম।
পরে আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সংঘটিত গুম, খুন এবং আয়নাঘর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে শেখ মামুন খালেদের জড়িত থাকার তথ্য প্রসিকিউশনের কাছে রয়েছে।
“শেখ মামুন খালেদ অন্য মামলায় রিমান্ডে থাকায় এর আগে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা যায়নি। আজকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হলে জেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। আমরা তাকে অ্যারেস্ট দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেছিলাম। আদালত দুটি আবেদনই মঞ্জুর করেছেন।”
আগামী ১৯ এপ্রিল এ মামলার একটি তারিখ রয়েছে জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “তবে যেহেতু আসামি টানা দুই দিন আমাদের হেফাজতে থাকবেন, সে ক্ষেত্রে ওই রুটিন তারিখের আগেই তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হতে পারে।”
আদালত সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে দুই দিন তদন্ত সংস্থার হেফাজতে বা সেইফ হোমে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে ‘বিশেষ সতর্কতা’ অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে।
প্রধান কৌঁসুলি বলেন, “ট্রাইব্যুনালের রুলস অনুযায়ী তাকে কোনো প্রকার থ্রেট বা বলপ্রয়োগ করা যাবে না। কোনো রকম ভয়ভীতি প্রদর্শন ছাড়াই তাকে সতর্কতার সাথে জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুই দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে পুনরায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে।”
সিগন্যালস কোরের কর্মকর্তা হিসেবে শেখ মামুন ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে ডিজিএফআইতে পরিচালক (এফএসআইবি) হিসেবে যোগ দেন। পরে ২০০৮ সালের জুনে তিনি কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো-সিআইবির পরিচালকের দায়িত্ব পান।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১১ সালে শেখ মামুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে ডিজিএফআইতে ফিরে আসেন। প্রায় দেড় বছর তিনি ওই দায়িত্বে ছিলেন।
পরে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) উপাচার্য এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) কমান্ড্যান্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে এই তিন তারকা জেনারেল।
গত ২৫ মার্চ রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এরপর তাকে অন্য একটি হত্যা মামলায় কয়েক দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সোমবার বিকেলে তাকে কড়া নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
পুরনো খবর
মাসুদ উদ্দিন ও মামুন খালেদকে ‘মানবতাবিরোধ অপরাধে’ গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন