Published : 26 Jul 2026, 02:16 PM
মোবাইলে আর্থিক সেবার (এমএফএস) কোম্পানি শতকরা হারে যে সেবা মাশুল কাটে, সেটিকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট।
রোববার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. রেজাউল করিমের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে।
অর্থ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নরসহ সংশ্লিষ্টদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ওবায়দুল্লাহ আল মামুন সাকিব। এক সপ্তাহ আগে তিনিই জনস্বার্থে এ রিট আবেদন করেন।
আইনজীবী ওবায়দুল্লাহ আল মামুন সাকিব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) রেগুলেশন-২০২২ অনুযায়ী, বিকাশ ও নগদের মতো সেবাগুলো মূলত দরিদ্র মানুষের জন্য। কিন্তু তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ আদায় করছে।
“আদালতের কাছে আমাদের প্রার্থনা ছিল, পার্সেন্টেজের ভিত্তিতে না হয়ে নির্দিষ্ট অ্যামাউন্টের অর্থাৎ সার্ভিস চার্জের পরিমাণ নির্ধারণ করে যাতে ফি কাটা হয়। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুলে বর্তমান আইন অনুযায়ী পার্সেন্টেজের ভিত্তিতে কাটা সার্ভিস চার্জ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা লক্ষ্য করছি যে, স্বাভাবিক ব্যাংক লেনদেনে এক লাখ টাকা স্থানান্তর বা তুলতে লেনদেন প্রতি মাত্র ১০ থেকে ১৫ টাকার মতো ফি কাটা হয়। বিপরীতে বিকাশ বা নগদের মতো এমএফএসগুলোতে প্রতি হাজারে ১৪ থেকে ১৮ টাকার মতো চার্জ দিতে হচ্ছে গ্রাহকদের। অর্থাৎ, প্রতি লাখে বিকাশ ফি কাটছে ১,৮৫০ টাকা, যেখানে ব্যাংকে লাগছে মাত্র ১০–১৫ টাকা।
“তাই ব্যাংকের মতো এমএফএসগুলোতেও শতাংশের (পার্সেন্টেজ) বদলে লেনদেন প্রতি (ট্রানজেকশন বেসড) একটি নির্দিষ্ট অংকের ফি নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছি আমরা।”
আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনার বিষয়ে আইনজীবী সাকিব বলেন, “আগামী দুই দিনের মধ্যে স্পেশাল মেসেঞ্জারের মাধ্যমে বিবাদীদের কাছে রুলটি পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে বিস্তারিত শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।”