Published : 02 Jul 2025, 09:48 PM
হোলি আর্টিজান হামলার বর্ষপূর্তির দিনে ‘দেশে কোনো জঙ্গি নেই’ বলে যে মন্তব্য ঢাকার পুলিশ কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী করেছেন, সে বিষয়ে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।
নয় বছর আগে গুলশানের হোলি অর্টিজান বেকারির ওই ঘটনাকে ‘একটি সন্ত্রাসী হামলা’ হিসাবে বর্ণনা করে ডিএমপি বলছে, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্য ‘খণ্ডিতভাবে’ উপস্থাপন করা হয়েছে।
হোলি অর্টিজানে হামলার নবম বর্ষপূর্তির আগে সোমবার রাতে পুলিশ কমিশনার সাজ্জাত আলীর সঙ্গে কথা বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। বাংলাদেশে এখন জঙ্গিবাদের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোনো জঙ্গি নাই। আছে ছিনতাইকারী। ‘পেটের দায়ে’ লোকে ছিনতাই করে।
“আওয়ামীলীগের সময় জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ছেলেপেলেদের মারছে, কীসের জঙ্গি!” –এমন মন্তব্যও তিনি করেন।
পরে আরো অনেক সংবাদমাধ্যম একই ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ডিএমপি কমিশনারের ওই বক্তব্য নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় সমালোচনা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, “হোলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় গত ১ জুলাই বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে পুলিশ কমিশনারকে ঊদ্ধৃত করে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা খণ্ডিত বক্তব্য হিসাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
“প্রকৃতপক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার তার বক্তব্যে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে পুলিশের চ্যালেঞ্জসমূহ ও পূর্বাপর সরকারের সময়ে কিছু অনিয়মের কথা তুলে ধরেছেন। তথাপি, অনেকে বিষয়টি খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করেছেন যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত।”
হোলি আর্টিজানের ঘটনাটি একটি ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করে বিবৃতিতে বলা হয়, “যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সাথে জড়িতদের ইতোমধ্যে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া, ভবিষ্যতে এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ তৎপর রয়েছে।

“ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বিশ্বাস করে, বর্ণিত বিষয়ে অহেতুক ভুল বুঝাবুঝির কোনো অবকাশ নেই।”
২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে ঢাকার গুলশান-২ এ হোলি আর্টিজান বেকারিতে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায় বাংলাদেশেরই পাঁচ তরুণ। গুলি চালিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে তারা হত্যা করে।
নিহতদের মধ্যে নয়জন ইতালির, সাতজন জাপানের, একজন ভারতীয়, দুজন বাংলাদেশি, একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান নাগরিক ছিলেন। এর বাইরে হামলা ঠেকাতে গিয়ে নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা।
রুদ্ধশ্বাস রাত পেরিয়ে ভোরে সেনাবাহিনীর কমান্ডোরা নামে অভিযানে; ‘থান্ডারবোল্ট’ নামের সেই অভিযানে হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া পাঁচ তরুণের সবাই মারা পড়ে। ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় মোট ১৩ জনকে।
বিশ্বজুড়ে উগ্রপন্থার প্রসারের মধ্যে একদল তরুণের ওই আত্মঘাতী হামলা বাংলাদেশকে বদলে দেয় অনেকখানি। সেই রাতেই এর দায় স্বীকার করে আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী সংগঠন ইসলামিক স্টেট-আইএস।
তবে বাংলাদেশের গোয়েন্দারা তা নাকচ করে সে সময় বলেন, বাংলাদেশি জঙ্গিদের একটি সংগঠিত ধারাই এই হামলা চালিয়েছে, যার নাম দেওয়া হয় ‘নব্য জেএমবি’।
হোলি আর্টিজেন হামলার পর গুলশান থানায় দায়ের করা মামলার বিচার চলে প্রায় সাড়ে তিন বছর। পুলিশ ওই ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করে।
২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল সাতজনের ফাঁসির রায় দেয়।
কিন্তু ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায়ে ওই সাতজনের সাজা পাল্টে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয় হাই কোর্ট।
ওই হামলা এবং এর ফলে জানমালের ক্ষয়ক্ষতিকে ‘খুবই বেদনাদায়ক ও মর্মান্তিক’ হিসেবে বর্ণনা করে ওই ঘটনায় নিহত দেশী-বিদেশি সবার আত্মার শান্তি কামনা এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান হয় ডিএমপির বিবৃতিতে।
পুরনো খবর
হোলি আর্টিজানে কী হয়েছিল ‘জানেন না’ ডিএমপি কমিশনার, বললেন কিসের জঙ্গি!