Published : 12 Nov 2025, 04:47 PM
অর্থ সংস্থানসহ নানা জটিলতার কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের করা পে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য পরবর্তী সরকার পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকার কথা বলেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।
বুধবার সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা পে কমিশন নিয়ে কথা বলেন।
পরবর্তী সরকার পে কমিশন বাস্তবায়ন করবে বলে গত সপ্তাহে সংবাদমাধ্যমে বলেছিলেন অর্থ উপদেষ্টা।
এদিন একই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা বলেন, “পে কমিশনের কাজ অনেক জটিল। তারা স্বাধীনভাবে কাজ করে। সেখানে আমাদের কোনো বিষয় নাই। তিনটা পে কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সেগুলো পর্যালোচনা করতে হবে। আমাদের সময়ের মধ্যে সেটা করতে পারব কিনা, কিছুটা অনিশ্চয়তা আছে।
“কিছু সাচিবিক প্রক্রিয়া আছে। সচিব দেখবেন; জনপ্রশাসন দেখবে; তার পর অর্থ বিভাগ দেখবে। আমাদের সময়ে প্রয়োগ করে যেতে পারব বলে মনে হয় না। মোটামুটি একটা ‘কম্পাইল’ করে দিয়ে যেতে পারব। এখানে সবচেয়ে বড় যেটা সমস্যা, তা হলো অর্থের সংস্থান।”
কর্মচারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত জুলাইয়ে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়াতে ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করে ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।
পরের মাসে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের জন্য ‘সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি, ২০২৫’ গঠন করে সরকার। আসছে জানুয়ারিতেই এসব কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে।
বেতন বাড়ানোয় গড়িমসিতে কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে মন্তব্য করে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “আট বছর অপেক্ষা করতে পেরেছে। এখন এই ১২ মাসে আমরা একটা চেষ্টা করছি; একটু ধৈর্য্য ধরতে হবে। আমাদেরকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত যে আমরা চেষ্টা করছি।
“এখন আমরা যদি বলি, যে পে স্কেল আছে, সেটাই থাকবে, তাহলে? এখানে বাজেটের একটা ব্যাপার আছে তো। পে স্কেল ছাড়াও তো স্বাস্থ্য খাত, শিক্ষা খাত ও অন্যান্য খাতে উন্নয়ন ব্যয় আছে। সেগুলো তো আমাদের দেখতে হবে।”
ইউএনডিপির মাধ্যমে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্বরত পুলিশের জন্য বডি ক্যাম কেনার কথা ছিল। সে বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সময় হলে জানতে পারবেন।”
বাজেট কমিয়ে আনা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিভিন্ন কারণে এটা হচ্ছে। অর্থ সংস্থানের ব্যাপার। এনবিআর বন্ধ থাকার কারণে এটা হচ্ছে। বিভিন্ন খরচের ব্যাপারে আমরা যাচাই করছি।
“সবাই তো সমানভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে নাই। তবে একেবারে ‘ড্রাস্টিক্যালি’ বিরাট একটা ব্যত্যয় ঘটবে, তা নয়। গ্রোথটা কমিয়েছি। মুল্যস্ফীতি ৭ ছিল, সেটা ৫ করেছি। টাকার অঙ্কগুলো খুব বেশি হেরফের হবে, তা নয়।”
বৈঠকে তুরস্ক থেকে উন্মুক্ত দরপদ্ধতিতে প্রতিকেজি ৯৪ টাকা ৯৪ পয়সা দরে ১২ হাজার ৫০০ টন পরিশোধিত চিনি কেনার প্রস্তাব পাস হয়।
এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে প্রতি লিটার ১৬৪ টাকা ২১ পয়সা দরে এক কোটি ২০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন করা হয়।
এছাড়া হাওর এলাকায় উড়াল সড়ক নির্মাণ, সার ক্রয়সহ বিভিন্ন প্রকল্পের ক্রয় প্রস্তাব বৈঠকে অনুমোদন হওয়ার কথা জানান উপদেষ্টা।