Published : 18 Jan 2026, 10:05 PM
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও আওয়ামী লীগের নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে জুলাই-অগাস্টের গণ-অভ্যুত্থানের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ রোববার এ আদেশ দেয়।
অপর দুই বিচারক হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
তাপস ও নানক ছাড়া আর যাদের নামে পরোয়ানা জারি হয়েছে, তাদের মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, মহানগর পুলিশের সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আছেন।
আগামী ২৯ জানুয়ারির মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই যেসব ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ সংঘটিত হয়েছিল, হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল, সেগুলোর ব্যাপারে তদন্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা একটি তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেছিল। সেসব রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলির কার্যালয় রোবার ২৮ আসামির বিরুদ্ধে একটা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে।
“ট্রাইব্যুনাল অভিযোগের শুনানি নিয়ে, অন্যান্য ডকুমেন্টগুলো পর্যালোচনা করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপস, আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ মোট ২৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে গ্রহণ করেছেন এবং আগামী ২৯ জানুয়ারি আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে উপস্থিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন।”
প্রধান কৌঁসুলি বলেন, ১৮ ও ১৯ জুলাই বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে জুলাই অভ্যুত্থানে তরুণ, যুবক, ছাত্র-জনতার উপর যে ‘হত্যাকাণ্ড’ হয়েছিল, তার ‘অন্যতম হটস্পট’ ছিল মোহাম্মদপুর এলাকা।
“এখানে নয়জন নিহত এবং অসংখ্য মানুষ আহত হন। যে নয়জন শহীদ হয়েছিলেন তারা হচ্ছেন শহীদ ফারহান ফায়াজ, মাহমুদুর রহমান সৈকত, রাজু আহমেদ, মাহিন, মোহাম্মদ রনি, আল শাহরিয়ার রোকন, ইসমাইল হোসেন, জসিম উদ্দীন ও জুবাইদ হোসেন ইমন।
“জুলাই অভ্যুত্থানের সময় যারা হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, যারা রাজপথে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে সংগঠনের ভূমিকা পালন করেছে, পেছনের যারা পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা এবং যারা মাস্টারমাইন্ড ছিলেন, কমান্ড রেসপন্সিবিলিটিতে ছিলেন, তাদের প্রত্যেককে আমরা বিচারের মুখোমুখি করব।”
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ ফজলে নূর তাপসের টেলিফোনে কথপোকথনের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “ফজলে নূর তাপস প্রাইম মিনিস্টারকে টেলিফোনে যে কথা বলে পরামর্শ দিচ্ছিলেন, মোহাম্মদপুর থেকে একটা বাহিনী যাবে, তাদেরকে যেন যেতে বলা হয়, যেতে সুযোগ দেওয়া হয় এবং আন্দোলনকারীদেরকে আক্রমণ করা হয়।
“আন্দোলনকারীদের যাতে পাড়াও করা হয়, হেলিকপ্টার ব্যবহার করা, ড্রোন ব্যবহার করা—এই যে ষড়যন্ত্র এবং পরিকল্পনা শেখ হাসিনার সাথে তাপসের, এটা হয়েছিল, তারই ফলশ্রুতি ছিল মোহাম্মদপুর এলাকায়।”
তাজুল বলেন, “জাহাঙ্গীর কবির নানকের পোষা যে গুণ্ডা বাহিনী মোহাম্মদপুর এলাকায় ছিল, তাদের সেই গুণ্ডা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা প্রত্যেকেই সশস্ত্র ছিল এবং ভিডিওতে তাদেরকে আইডেন্টিফাই করা হয়েছে। এই ২৮ জন, যাদেরকে আমরা আসামি শ্রেণিভুক্ত করেছি, এখানে পুলিশের ঢাকা মহানগরীর খুব নটোরিয়াস কয়েকজন অফিসার এর সাথে সম্পৃক্ত—প্রলয় জোয়ার্দার, বিপ্লব কুমার সরকার, তারপরে রওশনুল হক সৈকত, হাবিবুর রহমান, এদের ইনভলভমেন্টটা দিবালোকের মতো স্পষ্ট।
“সেই কারণে তারা সহ যারা ঘটনাস্থলে থেকে সরাসরি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের হত্যা করেছে তাদেরকে আমরা এখানে আসামি শ্রেণিভুক্ত করেছি।”
এই ২৮ জনের বিরুদ্ধে মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানান তাজুল।
তিনি বলেন, এখানে ৫০ জন সাক্ষী রয়েছে এবং বাকি সমস্ত অডিও, ভিডিও, ডকুমেন্টসহ ডকুমেন্টারি এভিডেন্স উপস্থাপন করা হয়েছে।