Published : 17 May 2026, 08:58 PM
হজযাত্রী ‘স্থানান্তরের’ বিধিমালা অনুসরণ না করাসহ একাধিক অভিযোগে রাজধানীর ফকিরাপুলের ‘খোয়াই এয়ার ট্রাভেলস’কে দুই বছরের জন্য হজ কার্যক্রমে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তবে চলতি বছর এজেন্সিটি তাদের হজ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে বলে রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
২০২৫ সালের হজে মক্কা-মদিনায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হজযাত্রীদের জন্য বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন না করা, ভিসা নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন না করা, ২০২৬ সালে সৌদি আরব সরকারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ‘নুসুক মাসার সিস্টেমে’ হজযাত্রীদের ডেটা এন্টি না করার অভিযোগ রয়েছে খোয়াই এয়ার ট্রাভেলসের বিরুদ্ধে।
নির্ধারিত সময়ে হজযাত্রীর জন্য পরিবহন চুক্তি না করা। হজযাত্রীর অনুমতি ছাড়া অন্য ব্যক্তিকে সুযোগ দেওয়া এবং ভিসাপ্রাপ্ত দুই হজযাত্রীর নিবন্ধন বাতিল করার অভিযোগও রয়েছে।
মন্ত্রণালয় বলছে, খোয়াই এয়ার ট্রাভেলস প্রত্যেক হজ মৌসুমে সরকারি নির্দেশনা ভঙ্গ করত। এ কারণে সৌদি আরব সরকারের কাছে বাংলাদেশের ‘ভাবমুর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে’।
এ অবস্থায় আগামী দুই বছর, অর্থাৎ ২০২৭ ও ২০২৮ হজ মৌসুমের জন্য এজেন্সিটির সকল হজ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। সেইসঙ্গে এজেন্সির ইউজার আইডি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে মনির হোসেন নামে এক ব্যক্তি খোয়াই এয়ার ট্রাভেলসের বিরুদ্ধে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগে অভিযোগ করেন। তিনি ও তার বন্ধু ২০২৬ সালে হজে যাওয়ার জন্য খোয়াই এয়ার ট্রাভেলসের মাধ্যমে নিবন্ধন করেছিলেন।
তার বন্ধু অসুস্থতার কারণে হজে যেতে অপারগতা প্রকাশ করে অন্য একজনকে স্থানান্তর করার জন্য এজেন্সিকে অনুরোধ করেন। কিন্তু অসুস্থ হজযাত্রীর নিবন্ধন বাতিল করা হলেও সে জায়গায় তার বন্ধুকে সুযোগ দেওয়া হয়নি।
পরে ১২ মে প্রস্তাবিত হজযাত্রীকে স্থানান্তর করে হজে যাওয়া নিশ্চিত করা এবং কেনো প্রস্তাবিত যাত্রীকে হজে নেওয়া হল না, তার ব্যাখ্যা চেয়ে এজেন্সিটিকে তিন দিন সময় বেধে দেয় হজ অনুবিভাগ। সে সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর রোববার এ সিদ্ধান্ত এল।
হজ অনুবিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. তফিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অনিয়মের অভিযোগে ওই এজেন্সির কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছে ২০২৭-২৮ সালের জন্য।”
চলতি বছর যেসব হজযাত্রী এই এজেন্সি থেকে নিবন্ধন করেছেন, তাদের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বছর তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে বাধা নেই। যেসব হজযাত্রী চলে গেছেন, তারা তো গেছেনই। যারা যেতে পারেননি তাদের অন্য এজেন্সিতে স্থানান্তর করা হবে।”
অনুমতি ছাড়াই হজযাত্রীদের নিবন্ধন বাতিল করে অন্য হজযাত্রীকে সুযোগ দেওয়ায় ছয়টি ট্রাভেল এজেন্সির কাছে গত মঙ্গলবার ব্যাখ্যা চেয়েছিল ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগ।
ওই ছয় এজেন্সি হল- রিলেশন ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরস, এফএম ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, ফিহা ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস, মীর আমিনা ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, শীতলক্ষ্যা ট্রাভেলস লিমিটেড ও আনসারি ওভারসিজ।
পুরনো খবর-
অনুমতি ছাড়া হজযাত্রীর নিবন্ধন বাতিল, ৬ এজেন্সির ব্যাখ্যা তলব