Published : 30 Jan 2026, 08:19 PM
রাজধানীর মুগদা হাসপাতালের গেইটের বাইরে থেকে তিন বছরের এক শিশুকে অপহরণের মামলায় গ্রেপ্তার রিকশাচালক চাঁন মিয়ার ছোট ভাইও গ্রেপ্তার হয়েছেন।
শুক্রবার ভোরে মো. জাকির হোসেন (৩৪) নামে ওই ব্যক্তিকে উত্তর মান্ডার মাহিমের গ্যারেজ থেকে গ্রেপ্তার করে মুগদা থানা পুলিশ।
এদিনই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে তদন্ত কর্মকর্তা মুগদা থানার এসআই নাজমুল আলম জানিয়েছেন।
অপরহরণের এ ঘটনায় এ নিয়ে মোট পাঁচজন গ্রেপ্তার হলেন।
চাঁন মিয়া ও জাকির ছাড়াও গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- তাদের বাবা মো. নূর মোহাম্মদ, মা চাঁন মালা এবং মোসাম্মৎ কুলসুম বেগম নামে এক নারী।
৪১ বছর বয়সি চাঁন মিয়াকে ঢাকা ঢাকার মগবাজারের ওয়ারলেস গেইট এলাকা থেকে এবং তার মা-বাবা ও আরেক নারীকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
বুধবার দুপুর ১টার দিকে মুগদা হাসপাতালের গেইটের বাইরে থেকে শিশুটিকে নিয়ে উধাও হন এক ব্যাটারির রিকশাচালক। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার মুগদা থানায় মামলা হয়। ছেলেটির বাবা প্রবাসী, মা-ছেলে ঢাকার সবুজবাগে থাকেন।
অপহরণের খবর ছড়ানোর পর রিকশাচলক চাঁন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে তার দেওয়া তথ্যে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে র্যাব। সেইসঙ্গে চাঁন মিয়ার মা-বাবা আর এক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার চাঁন মিয়ার ভাইকে গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা নাজমুল আলম।
আবেদনে তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জাকিরের জড়িত থাকার প্রাথমিকভাবে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় চুরি, ছিনতাই, অপহরণ করেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মাণ হয়েছে। এ আসামি জামিন পেলে পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে কারাগারে পাঠানো প্রয়োজন।
আসামির পক্ষে আইনজীবী মো. মাহবুবুর রহমান খান জামিনের আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদেশ দেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়, বুধবার সকাল ১১টার দিকে ছেলেকে নিয়ে মুগদা হাসপাতালে যান সুমাইয়া আক্তার। ডাক্তার দেখানো শেষে দুপুর ১টার দিকে ব্যাটারির রিকশা নিয়ে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে মেইন গেইটের সামনের রাস্তায় যান। সেখানে ছেলে পানি চাইলে পাশেই দোকানে পানি কিনতে যান সুমাইয়া। ছেলেকে বসিয়ে রাখেন রিকশাতেই। পানি নিয়ে ফিরে এসে দেখেন ছেলেসহ রিকশাটি উধাও। খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে মুগদা থানায় মামলা করেন।
র্যাব বলছে, শিশুটিকে মুগদা হাসপাতালের সামনে থেকে নিয়ে যাওয়ার পর এক নিকটাত্মীয়ের মাধ্যমে গাইবান্ধায় নিজের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন চাঁন মিয়া। তাকে অপহরণের কারণ কী, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।
শুক্রবার বিকালে ঢাকার কারওয়ানবাজার র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়া বা সেরকম কোনো কিছুর আলামত পাওয়া যায়নি। পরবর্তী তদন্তে এটি বের হয়ে আসবে।
আরও পড়ুন-
অপহরণের পর শিশুটিকে গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দেন সেই রিকশাচালক: র্যাব
মা নেমেছিলেন পানি কিনতে, চোখের পলকে শিশু নিয়ে উধাও রিকশাচালক