Published : 26 Aug 2025, 06:38 PM
রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে বিটিআরসির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন আহমেদ ও সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফরিদ খানসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সামিট কমিউনিকেশনসের শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে সরকারের ১০ কোটি ২৪ লাখ ৫২ হাজার ৬৫২ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে মঙ্গলবার এ মামলা হয়।
দুদকের ঢাকা ১ এর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেছেন কমিশনের সহকারী পরিচালক মো. নাছরুল্লাহ হোসাইন।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।
দুদক বর্তমানে সামিট গ্রুপ ও তাদের সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে।
মামলার বাকি পাঁচ আসামি হলেন— বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সাবেক কমিশনার (আইন) মো. আমিনুল হক বাবু, সাবেক কমিশনার (স্পেকট্রাম) শেখ রিয়াজ আহমেদ, সাবেক কমিশনার (অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব) মুশফিক মান্নান চৌধুরী, সাবেক কমিশনার (সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস) মো. দেলোয়ার হোসাইন এবং লেক্স কাউন্সিলের স্বত্বাধিকারী ও বিটিআরসির প্যানেল আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই-রাকিব।
এজাহারে দুদক অভিযোগ করেছে, পারস্পরিক যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজে লাভবান হতে এবং অপরকে লাভবান করতে সামিট কমিউনিকেশনসের শেয়ার হস্তান্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সরকারের প্রাপ্য ১০ কোটি ২৪ লাখ ৫২ হাজার ৬৫২ টাকা রাজস্ব আদায় না করে আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়।
মামলায় বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৯ এপ্রিল সামিট কমিউনিকেশনস বিটিআরসির কাছে আবেদন করে ১৪ কোটি ২০ লাখ ৮৮ হাজার ১৩৬টি নতুন শেয়ার ইস্যু করার ইচ্ছা জানায়। এর মধ্যে ৯ কোটি ৪৪ লাখ ৮৮ হাজার ৯২১টি শেয়ার ইস্যু করা হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক গ্লোবাল এনার্জিস হোল্ডিংস লিমিটেডের অনুকূলে। ৪ কোটি ৪ লাখ ৯৫ হাজার ১১৯টি শেয়ার ইস্যু হয় মরিশাসভিত্তিক সিকোইয়া ইনফ্রা টেক লিমিটেডের নামে। বাকি শেয়ারগুলো আগের শেয়ারহোল্ডার মো. আরিফ আল ইসলামের অনুকূলে ইস্যু হয়।
নতুন শেয়ার কাঠামো অনুযায়ী, সামিট কমিউনিকেশনসের মূলধন প্রায় চার গুণ বেড়ে যায়। আগে ৫ কোটি ৭ লাখ শেয়ার ছিল, যা নতুনভাবে ১৪ কোটি ২১ লাখ শেয়ার ইস্যু করে ১৯ কোটি ৮২ লাখ শেয়ারে উন্নীত হয়।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, লাইসেন্সধারী কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের শেয়ার হস্তান্তর বা মালিকানা পরিবর্তনের আগে সরকারের অনুমতি নিতে হয়। শেয়ার হস্তান্তর বা মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শেয়ার বিক্রিত মূল্যের ৫ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্য পরিশোধ করা বাধ্যবাধকতাও রয়েছে আইনে।
বিটিআরসি যখন সামিট কমিউনিকেশনসকে শেয়ার হস্তান্তরের অনুমতি দেয়, তখন ওই মূল্য পরিশোধ করা হয়নি এবং লেক্স কাউন্সিলের মতামতের ভিত্তিতে অবৈধ সুবিধা দেওয়া হয়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, সামিট কমিউনিকেশনস সরকারি অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে শেয়ার হস্তান্তর করেছে, অথচ শেয়ার হস্তান্তর মূল্য পরিশোধ করা হয়নি।
সামিট কমিউনিকেশনের বক্তব্য
এ প্রতিবেদন প্রকাশের দুই দিন পর বৃহস্পতিবার সংবাদ বিজ্ঞিপ্তি দিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে সামিট কমিউনিকেশনস। তাদের দাবি, বিটিআরসির চিঠি পাওয়ার পরপরই কোম্পানির তরফ থেকে ওই অর্থ ‘সম্পূর্ণভাবে পরিশোধ’ করা হয়েছে।
ইমেইলে কোম্পানির ব্র্যান্ড ও জনসংযোগ বিভাগের ব্যবস্থাপক এম. এম. হাসান ভূঁইয়ার পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সামিটের ‘রাজস্ব ফাঁকি: বিটিআরসির সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা’ শিরোনামের সংবাদটিতে দুদকের তদন্তের বিষয়টি বলা হলেও এ বিষয়ে সামিট কমিউনিকেশন ‘কোনো প্রকার অবগত’ নয়।
এতে বলা হয়, “আমরা সুস্পষ্টভাবে জানাতে চাই যে, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কর্তৃক ১৫ অগাস্ট ২০২৪ তারিখে জারি করা পত্রের প্রেক্ষিতে নতুন শেয়ার ফি বাবদ ১০ কোটি ২৪ লাখ ৫২ হাজার ৬৫২ টাকা ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে এবং বিটিআরসি তা গ্রহণ করেছে।
“সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড সর্বদা দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলেছে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিশেষত বিটিআরসির নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করে এসেছে।”