Published : 08 Jul 2026, 08:06 PM
জাতীয় সংসদে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সতর্কতার দুই সপ্তাহের মাথায় আবারও একই কারণে প্রশ্নোত্তর পর্বের অবশিষ্ট অংশের সমাপ্তি টানতে হয়েছে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালকে।
বুধবার বিকালে আসরের বিরতির পর ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
এ সময় মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব চলার কথা ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা কক্ষে না থাকায় তিনি প্রশ্নোত্তর পর্বের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, “এখন যেহেতু মাননীয় মন্ত্রীদের কাছে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা ও উত্তর, আনফরচুনেটলি মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় যাদের জন্য প্রশ্ন ছিল কেউই এই হাউজে উপস্থিত নেই। যে কারণে আমরা প্রশ্ন উত্তর পর্বটা এখানেই সমাপ্ত ঘোষণা করছি।”
এরপর সংসদ কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ অনুযায়ী জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের আলোচনায় যায় অধিবেশন।
এদিন বিকাল সাড়ে ৩টায় সংসদের বৈঠকের কার্যসূচিতে প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর জন্য এবং পরে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর ছিল।
কার্যসূচিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীরের প্রশ্নোত্তর ছিল। আসরের বিরতির আগে এই তিন মন্ত্রীই সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন।
আসরের বিরতির পর বিকাল ৫টা ২৬ মিনিটের দিকে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।
সভাপতির চেয়ারে বসে প্রায় দুই মিনিট তিনি মন্ত্রীদের আসনের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এরপর ৫টা ২৮ মিনিটে তিনি বলেন, যেসব মন্ত্রীর জন্য প্রশ্ন ছিল, তারা কেউ সংসদ কক্ষে নেই।
বিরতির আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য রাখার জন্য দাঁড়ান। তিনি আনোয়ারা ও কর্ণফুলীর জলাবদ্ধতার কথা তুলতে গেলে স্পিকার বলেন, “মাননীয় সদস্য, এটা তো পয়েন্ট অব অর্ডার হল না। তবুও আমি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আপনি তার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করবেন।”

এরপর স্পিকার সংসদের বৈঠক আসরের নামাজের জন্য ৩০ মিনিট বিরতি দিয়ে বলেন, “আসরের বিরতির পর আবার প্রশ্নকালের অবশিষ্ট অংশ চালু হবে।”
কিন্তু আসরের বিরতির পর প্রশ্নোত্তরের জন্য নির্ধারিত মন্ত্রীরা হাউজে না থাকায় সেই পর্বের সমাপ্তি ঘোষণা করেন ডেপুটি স্পিকার।
সংসদে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে ২৩ জুনও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সেদিন পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছিলেন, যে মন্ত্রণালয় নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়, অনেক সময় সেই মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা প্রতিনিধি কক্ষে থাকেন না।
জবাবে স্পিকার বলেছিলেন, “কোনো রাষ্ট্রীয় কাজ সংসদ অধিবেশনের চাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। সকল রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের মধ্যে সংসদ অধিবেশন সবচাইতে বেশি গুরুত্ব পায়।”
সরকারদলীয় চিফ হুইপকে উদ্দেশ করে তিনি বলেছিলেন, মন্ত্রীদের যেন সংসদে যথাসময়ে আসতে বলা হয়।
স্পিকার তখন বলেন, “সংসদ সদস্যের যেসব বক্তব্য, তাদের মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কথা তারা বলেন, সেগুলোর ব্যাপারে তারা অন্তত শুনবেন এবং যদি সম্ভব হয় তার প্রতিকার করার চেষ্টা করবেন।”