Published : 02 Jan 2026, 12:56 AM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে লড়তে আগ্রহীদের মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে; আগামী ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই কার্যক্রম।
বাছাই, আপিল নিষ্পত্তি শেষে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি। পরদিন প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ পাবেন।
দলীয় মনোনয়ন ও প্রার্থিতা প্রত্যাহার, প্রতীক বরাদ্দ, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকা, প্রার্থীর মৃত্যুবরণ, ‘না ভোট’ এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের বিষয়ে পরিপত্র জারি করা হয়েছে। সোমবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
কোনো নির্বাচনি এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা এক বা একাধিক হলে রিটার্নিং অফিসার আরপিও অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দ করেন। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বলতে মনোনয়নপত্র বাছাই ও আপিল নিষ্পত্তি শেষে বৈধভাবে মনোনীত এবং যারা প্রত্যাহার করেননি, যাদের প্রার্থিতা স্থগিত হয়নি, তারাই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যেই প্রতীক বরাদ্দ ও নির্বাচন হবে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে প্রত্যেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অনুকূলে বিধি অনুসারে নির্ধারিত কোনো প্রতীক বরাদ্দ করা হয়।
নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল মনোনীত কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট দলের অনুকূলে সংরক্ষিত প্রতীক বরাদ্দ পাবেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীর অনুকূলে প্রতীক বরাদ্দের সময় যতদূর সম্ভব প্রার্থীর পছন্দের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়।
বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত ৫৯টি দল রয়েছে। সেগুলোর জন্য সংরক্ষিত প্রতীকের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য রয়েছে ৫৬টি প্রতীক।
নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের জোটগতভাবে মনোনীত প্রার্থীকে নিজ দলের প্রতীকে ভোট করতে হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য নির্ধারিত প্রতীক থেকে যতদূর সম্ভব প্রার্থীর পছন্দকে বিবেচনায় রেখে প্রতীক বরাদ্দ করতে হবে।
একই প্রতীক একাধিক প্রার্থী দাবি করলে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে প্রতীক পছন্দের আহ্বান করা যেতে পারে। যদি তারা সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হন, তাহলে লটারি মাধ্যমে প্রতীক বরাদ্দ হবে।
একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে কেউ এর আগে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হয়ে থাকলে তিনি তার পছন্দের প্রতীক প্রাধিকার ভিত্তিতে পাবেন, যদি না তা কোনো দলের জন্য সংরক্ষিত হয় বা ইতোমধ্যে অন্য কাউকে বরাদ্দ করা হয়।
বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু হলে পুনরায় ভোট
বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী মারা গেলে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার নির্বাচন কার্যক্রম বাতিল করতে হবে।
বৈধ প্রার্থীর (বাছাইয়ের টিকে থাকলে) মৃত্যুর বিষয়টি কমিশনকে জানাবেন রিটার্নিং অফিসার। ইসি এ নির্বাচনি এলাকার জন্য নতুন তফসিল ঘোষণা করবেন। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুসারে নির্বাচন অনুষ্ঠানে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
তবে আগে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন, তাদের পরবর্তী কার্যক্রমে নতুন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে না এবং জামানতের অর্থও জমা দিতে হবে না।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে আড়াই হাজারের বেশি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় প্রার্থী বা তাদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা সব তথ্য গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়ে মনোনয়নপত্র বৈধ কিংবা বাতিল ঘোষণা করেন।
মনোনয়নপত্র বাছাইকালে সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকেন। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/প্রতিনিধি ঋণ খেলাপীদের তথ্য, থানার অফিসার ইনচার্জ ফৌজদারি মামলা সম্পর্কিত তথ্য, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের স্থানীয় প্রতিনিধি আয়কর রিটার্নের তথ্য, সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদার বা আর্থিক সংশ্লেষ আছে এমন প্রার্থীদের তথ্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত থাকার জন্য স্থানীয়ভাবে নির্দেশনা দেন রিটার্নিং অফিসার।
প্রার্থিতা প্রত্যাহার
বাছাইয়ে মনোনয়নপত্র বৈধ হলে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় রয়েছে। দলীয় মনোনয়ন ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়ে আরপিওতে বলা হয়েছে-
>> বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী তার স্বাক্ষরযুক্ত কোনো লিখিত নোটিশের মাধ্যমে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত তারিখ বা তার পূর্বে নিজে অথবা লিখিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আবেদন করতে পারবেন।
>> যেক্ষেত্রে কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল একটি নির্বাচনি এলাকায় একের অধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে, সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা অনুরূপ পদধারী কোনো ব্যক্তি স্বাক্ষরিত লিখিত পত্রের মাধ্যমে তিনি নিজে বা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে নির্ধারিত তারিখ বা তার পূর্বে চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত করবেন এবং সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দলের অন্যান্য প্রার্থী আর প্রার্থী হিসেবে গণ্য হবেন না।
>> মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য লিখিত নোটিশ দেওয়া হলে বা রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হলে কোন অবস্থাতেই তা প্রত্যাহার বা বাতিল করা যাবে না।
>> প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নোটিশ এবং রাজনৈতিক দল প্রদত্ত চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হলে রিটার্নিং অফিসার যদি সন্তুষ্ট হন যে স্বাক্ষর সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বা দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা অনুরূপ পদধারী কোনো ব্যক্তির, সেক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসার উক্ত নোটিশের একটি অনুলিপি তার কার্যালয়ের দর্শনীয় স্থানে টাঙিয়ে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করবেন।
>> রিটার্নিং অফিসার, মনোনয়ন প্রত্যাহারের তারিখের পরের দিন নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রকাশ করবেন।
>> প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখের পরের দিন অর্থাৎ ২১ জানুয়ারি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করে নামের তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
‘না ভোট’ এবং ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার’ নির্বাচন
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর কোনো আসনে যদি কেবল একজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকেন, তাহলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং ‘না ভোট’ এর মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেক্ষেত্রে প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ‘না ভোটের’ চেয়ে বেশি হলে রিটার্নিং অফিসার গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ প্রার্থীকে এ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বলে ঘোষণা করবেন।
আর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর তুলনায় ‘না ভোট’ এর সংখ্যা বেশি হলে ভোট বাতিল করে ওই আসনে পুনরায় তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন করতে হবে। সেক্ষেত্রে দ্বিতীয়বারও যদি একজনই বৈধ প্রার্থী হন, তখন নির্বাচনে ‘না ভোট’ বেশি হলেও সেই প্রার্থীই নির্বাচিত হয়েছেন বলে ঘোষণা করবেন রিটার্নিং অফিসার।
আরও পড়ুন-
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ভোটের ট্রেনে চড়তে চান আড়াই হাজার প্রার্থী