Published : 22 Dec 2025, 12:51 AM
ভোটের আগে ও ভোটের দিনের অপরাধ ঠেকাতে দণ্ড দেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে মাঠে থাকবে বিচারিক কমিটি। প্রয়োজনে অনুসন্ধানে যেকোন ব্যক্তিকে তলবও করতে পারবে এ কমিটি।
এছাড়া কমিটির অনুসন্ধানের ভিত্তিতে দেওয়া প্রতিবেদনে অনিয়মের প্রমাণ পেলে ফলাফলও আটকে দিতে পারবে নির্বাচন কমিশন।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) এবার বিধান রাখা হয়েছে, যেগুলো মেনেই ৩০০ আসনে কাজ করবেন ৩০০ জন বিচারক। তারা বিচারের পাশাপাশি অনিয়ম তদন্ত করে নির্বাচন কমিশনে সুপারিশও পাঠাবেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত সময়ে নির্বাচনি অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিচার করতে এসব বিচারক নিয়ে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আরপিও এর অনুচ্ছেদ ৭৩, ৭৫, ৭৭ এবং (৯১ খ) অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন এসব বিচারিক কর্মকর্তা।
তফসিল অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ ও গণভোট হবে। এর আগে ২৯ ডিসেম্বর পযন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ পাবে এবং এরপর প্রচারণা শুরু করবেন।
এ নির্বাচনের জন্য ‘নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম’ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য গঠিত নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিগুলোর কর্মকর্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিয়ে পরিপত্রও জারি করেছে নির্বচন কমিশন (ইসি)।
এ কমিটি কোনো ব্যক্তিকে এর সম্মুখে হাজির হতে ও শপথপূর্বক সাক্ষ্য প্রদানে এবং কমিটির নিকট প্রয়োজনীয় দলিল বা বস্তু দাখিল করতে দেওয়ানি আদালতের ন্যায় একইভাবে ক্ষমতাবান হবেন।
এছাড়া কমিটি কোনো অনুসন্ধান বা বিচার কাজ পরিচালনায় প্রয়োজনীয় স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে নির্দেশনা রয়েছে।

কাজের ধরন, দণ্ড কী?
ভোটের সময়ে অবৈধ প্রভাব, ঘুষ আদান-প্রদান, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চরিত্র নিয়ে মিথ্যা বিবৃতি, রিটার্নিং অফিসারের কাছে দেওয়া উৎসের বাইরে অন্য কোনোভাবে ব্যয় নির্বাহ, ভোটে ত্রাস ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিসহ নির্বাচনি অপরাধ করলে অন্যূন দুই বছর থেকে অনধিক সাত বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
ভোটের দিন কেন্দ্রের ৪০০ গজের ভেতরে ভোটের প্রচার, বিশেষ কাউকে ভোট দিতে প্ররোচিত করলেও অন্যূন ছয় মাসের কারাদণ্ড থেকে অনধিক তিন বছরের দণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
এছাড়া প্রার্থী, দলের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ারও বিধান রয়েছে।
>> সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ এর লঙ্ঘনজনিত বিষয় বা ঘটনা; ও
>> কোনো ব্যাক্তি ভীতি, বাধা, দমন বা মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি বা পরিচালনায় বাধাগ্রস্ত বা ব্যাহত করে এমন ঘটনা।
>> এমনকি নির্বাচন কমিশন/রিটার্নিং অফিসার/সহকারী রিটানিং অফিসার/নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা কমিটির কাছে পাঠালে তা অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন কমিশনের কাছে পাঠাবেন।
প্রার্থীদের সামনে পোস্টারের বিকল্প কী? নিয়ম না মানলে কী শাস্তি?
সংসদ নির্বাচন: প্রার্থী হবেন কীভাবে, প্রস্তাবক-সমর্থকের করণীয় কী
সংসদ নির্বাচন: প্রার্থীর যোগ্যতা কী কী, দাম কত মনোনয়নপত্রের