Published : 01 Jul 2026, 09:17 AM
তিন তলা বাড়ির দেয়ালগুলো আর্জেন্টিনার আকাশি-নীল পতাকার রঙে, লিওনেল মেসির ম্যুরালে সাজানো। উঠোনে দিয়াগো মারাদোনার ঢাউস এক ভাস্কর্য। বাড়ির পেছনের আঙিনায় ছোট একটা খেলার মাঠ, তার চারধারের দেয়ালে বোকা জুনিয়র্সের তারকা খেলোয়াড়দের ছবি টাঙানো। চা-কফির কাপ, টেবিলের পর্দা সবকিছুতেই মেসির ছবি কিংবা আর্জেন্টিনার পতাকার রং। সব মিলিয়ে এটি ‘আর্জেন্টিনা বাড়ি’ বললেও অত্যুক্তি হবে না।
বুয়েনস এইরেসের কোনো বাড়ি নয় এটি, বাড়িটি চেকিয়ার রাজধানী প্রাগের পূর্ব দিকে ৯০ কিলোমিটার দুরের শহর বুকোভকায়। মালিকের নাম মিরোস্লাভ আরবানেক। যিনি চেকিয়া হলেও আর্জেন্টিনার কট্টর সমর্থক।

মিরোস্লাভ পেশায় সঙ্গীত উদ্যোক্তা। বিশ্বকাপ ফুটবল, মারাদোনা ও আর্জেন্টিনার সাথে তার মিলে যাওয়ার, এমন আত্মীক সম্পর্ক গড়ে ওঠার পেছনের গল্পটা বেশ মজার।
“চার বছর বয়সে, আমি বাবার সঙ্গে আর্জেন্টিনায় ১৯৭৮ বিশ্বকাপ দেখেছিলাম এবং মারিও কেম্পেসের মতো লম্বা চুলের আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের আমার ভীষণ ভালো লেগেছিল।”
“তারা বিশ্বকাপ জিতেছিল এবং আর্জেন্টিনা, বোকা জুনিয়র্স এবং ফুটবলের সবকিছুর প্রতি আমার আবেগের সেই শুরু।”

সময় যত গড়িয়েছে, মিরোস্লাভের সেই ছোট্টবেলার আবেগ ডালপালা মেলেছে আরও। এতটাই যে, সঙ্গীতের জন্য যে ভ্যানটি (গাড়ি) তিনি ব্যবহার করেন, সেটিও আকাশি নীল-সাদা রঙে রাঙানো, বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে মারাদোনা এবং ‘ইন মেসি উই ট্রাস্ট’ স্লোগানসহ মেসির ছবি আঁকা, বাংলায় যার অর্থ মেসিতেই আস্থা আমাদের এবং বিশেষ এক নাম্বার প্লেটে লেখা ‘মারাদোনা’।
৫১ বছর বয়সী মিরোস্লাভ তার সাত বছর বয়সী দ্বিতীয় ছেলের নাম রেখেছেন লিওনেল মেসির নামের প্রথম অংশ নিয়ে। বললেন, সাত বছর আগেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল ‘মেসি সত্যিই অসাধারণ।‘

উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে মেসির হাত ধরে দুর্বার গতিতে ছুটছে আর্জেন্টিনা। গ্রুপের তিন ম্যাচের সবগুলো জিতে, উঠে এসেছে নকআউট পর্বে। আসছে ম্যাচে মেসিদের প্রতিপক্ষ নবাগত কেইপ ভার্ড। মিরোস্লাভ নিশ্চিত, তার দল আছে আরেকটি জয়ের পথে।
“(আর্জেন্টিনা) এবার সত্যিই অসাধারণ।”
“আমি শতভাগ বিশ্বাস করি, আমরা আবারও জিতব এবং সুন্দর একটা পার্টি হবে। কেবল বুকোভকাতে নয়, দুনিয়া জুড়ে। কেননা, আর্জেন্টিনা সবচেয়ে সুন্দর ফুটবল খেলে।”