Published : 09 Apr 2026, 11:27 AM
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতীক হয়ে ওঠা শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে বৃহস্পতিবার।
এ রায় শুনতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা; জড়িতদের ফাঁসি ও দ্রুত রায় কার্যকর চাইছেন তারা। রায়ের জন্য এরইমধ্যে ছয় আসামিকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবে।
ফাঁসির প্রত্যাশা পরিবারের
সকালে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শহীদ আবু সাঈদের দুই ভাই আবুল হোসেন ও রমজান আলী।
হোসেন বলেন, “আমারা আশা করছি, আজকে রায় প্রদান করা হবে। পাশাপাশি আমরা চাই এই হত্যাকাণ্ডের সাথে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে যারা জড়িত, আজকের রায় প্রদানের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে তা কার্যকর করা হোক। যারা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত, তাদের ফাঁসির রায় আমরা প্রত্যাশা করি।"

বেশিরভাগ আসামি পলাতক থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “সিংহভাগ পলাতক আছে। আমরা আশা করি, এই রায় প্রদানের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকর করবে।”
বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আবু সাঈদের আরেক ভাই ও মামলার বাদী রমজান বলেন, “আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি যে, আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়টা আমরা দ্রুত চাই। আলহামদুলিল্লাহ, আজকে মামলার রায় হবে।
“আমরা চাই যে একটা সুষ্ঠু রায় হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তি নিশ্চিত করবে। এখন পর্যন্ত বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট আছি। রায়ের পরে আমরা আবার কথা বলব।”

ট্রাইব্যুনালে ৬ আসামি
এদিন সকালে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। তারা হলেন— পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল ও প্রক্টর অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ।
রায় ঘোষণা ঘিরে ট্রাইব্যুনালের আশপাশ এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সকাল থেকেই পুলিশ ও র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ওই এলাকায় ব্যাপক তৎপর রয়েছেন।
বহুল আলোচিত আবু সাঈদ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় ২০২৫ সালের ২৪ জুন। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনটি যাচাই-বাছাই শেষে ৩০ জুন ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন। ওই দিনই অভিযোগটি আমলে নিয়ে ৩০ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে গত ৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ২৭ অগাস্ট সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে বিচার শুরু হয় এবং পরদিন থেকে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা মুকুল হোসেন।
দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা সাক্ষ্যগ্রহণের সমাপ্তি ঘটে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি। এ সময়ে তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিনসহ মোট ২৫ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ‘তারকা সাক্ষী’ ছিলেন জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক, সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, তার সাক্ষ্য মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো স্পষ্ট করতে সহায়তা করেছে।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গত ২০ জানুয়ারি শুরু হয় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন, যা ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত চলে। ওই দিন মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রাখে ট্রাইব্যুনাল-২। পরবর্তীতে গত ৫ মার্চ রায়ের তারিখ ঠিক করা হয়।