Published : 22 Feb 2026, 05:31 PM
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতিকে সমর্থন দিয়ে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেছন ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চাপ’ নিয়ে এক প্রশ্নে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, “বাংলাদেশ বা অন্য দক্ষিণ এশীয় দেশের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতাকে ক্ষুণ্ন করার যেকোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ বা অন্য দক্ষিণ এশীয় দেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক এই অঞ্চলের মানুষের উপকারের জন্য এবং এটাকে সমর্থন ও ধারণ করে থাকে এই অঞ্চলের মানুষ।
“সুতরাং তৃতীয় কোনো দেশকে টার্গেট করে আমাদের সম্পর্ক নয় এবং কোনো বিদেশি শক্তির দ্বারা এটার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াও উচিত নয়।”
নতুন সরকার দায়িত্বগ্রহণের পাঁচদিনের মাথায় রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে আসেন চীনা রাষ্ট্রদূত।
একই দিন তাদের দুজনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা, পাকিস্তান হাই কমিশনার ইমরান হায়দার এবং সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ।
বৈঠকের পর আলোচনার বিভিন্ন দিক সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন চীনা রাষ্ট্রদূত ও ভারতীয় হাই কমিশনার।
‘স্বচ্ছন্দে ও নিয়মবদ্ধভাবে’ ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে মন্তব্য করে চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, “এটা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বিজয় এবং একইসঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের বিজয়।
“বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী এবং সমন্বিত কৌশলগত সহযোগী অংশীদার হিসাবে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা গভীর করার উপর ব্যাপক গুরুত্ব দেয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারকে সাবলীলভাবে শাসনকার্য পরিচালনায় সমর্থন দিচ্ছে।”
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেকের বাবা, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অধীনে সেই সম্পর্ক ‘উন্নত এবং পরিপক্ক’ হয়।
“আমরা প্রধামন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে কাজ করার প্রতীক্ষায় আছি। এর মধ্যদিয়ে আমাদের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় যাবে।”
তিনি বলেন, “সৌহার্দ্য ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখতে বাংলাদেশকে সহায়তা দিচ্ছে চীন। ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতির বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ক্ষেত্রে আরও অগ্রগণ্য ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে চীন বাংলাদেশকে সমর্থন দেয়।”
তিস্তা পাড়ের মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য যে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাংলাদেশ সরকার নিয়েছে, তার সঙ্গে আগে থেকে সম্পৃক্ত রয়েছে চীন সরকার। পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও বাস্তবায়ন কাজ ঝুলে আছে।
নির্বাচনি ইশতেহারে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি। ওই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে গড়ে ওঠা ‘তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন’ এর প্রধান সমন্বয়কারী আসাদুল হাবিব দুলুকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করেছেন তারেক।
নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নে ইয়াও ওয়েন বলেন, “তিস্তা প্রকল্প এমন একটা বিষয়, যা নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আমরা বহুদিন আলোচনা করছি।
“চীনের দিক থেকে আমরা প্রস্তুত আছি। নতুন সরকার এসব প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাবে, সেই অপেক্ষায় আমরা আছি।”
শিগগির তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হবে কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা সেই রকমই।”