০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

ফাজিল-কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি বাতিলের আদেশ হাই কোর্টে স্থগিত

“কোনো জরুরি অবস্থা না থাকা সত্ত্বেও নোটিস বা তদন্ত ছাড়া এক চিঠিতে সারা দেশের গভর্নিং বডি বাতিল করা সম্পূর্ণ আইনপরিপন্থি।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 02 Nov 2026, 03:39 PM

Updated : 02 Nov 2026, 03:39 PM

ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি বাতিল ও অ্যাডহক কমিটি গঠনে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া অফিস আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেছে হাই কোর্ট।

একইসঙ্গে ঢালাওভাবে কমিটি বাতিলের ওই অফিস আদেশ কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে চার সপ্তাহের রুল জারি করেছে আদালত।

সোমবার বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

ভোলার চরফ্যাশন কারামতিয়া কামিল মাদ্রাসার সভাপতির করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেওয়া হয়।

আদালতে রিট মামলার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী পারভেজ হোসেন।

আদেশের পর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এ আইনজীবী বলেন, “মাদ্রাসাগুলোর গভর্নিং বডি গঠন ও বাতিলের সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান বা কমিটি আইনের ব্যত্যয় ঘটালে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস ও তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার কর্তৃপক্ষের রয়েছে।

“কিন্তু কোনো জরুরি অবস্থা না থাকা সত্ত্বেও নোটিস বা তদন্ত ছাড়া এক চিঠিতে সারা দেশের গভর্নিং বডি বাতিল করা সম্পূর্ণ আইনপরিপন্থি।”

পারভেজ হোসেন বলেন, “গত ৫ অগাস্টের ভিন্ন প্রেক্ষাপট ও জরুরি পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলো তৎকালীন কমিটিগুলো বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল।

“তবে বর্তমান স্বাভাবিক পরিবেশে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে দেওয়া এই সিদ্ধান্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিদ্বেষমূলক।”

এর আগে গত ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তের আলোকে ১৯ অক্টোবর সারাদেশের ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি ও অ্যাডহক কমিটি বাতিল করে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এ কে মুহা. নুরুল ইসলামের সই করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

ওই অফিস আদেশে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিধি অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি গঠনের প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

অ্যাডহক কমিটির রূপরেখা দিয়ে ওই আদেশে বলা হয়, জেলা সদরে অবস্থিত মাদ্রাসায় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং জেলা সদরের বাইরের মাদ্রাসার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) সভাপতি হবেন।

এছাড়া বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে জেলা পর্যায়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।