বন্যা ঝরাবে কত শিক্ষাজীবন

দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করছে বন্যা। আর প্রায় প্রতি বছর এ ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে বলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সিলেট বিভাগের শিশুরা।

কাজী নাফিয়া রহমানবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 8 August 2022, 06:57 PM
Updated : 8 August 2022, 06:57 PM

পরিবারের অভাব দূর করার যুদ্ধে স্কুলের বই-খাতা তুলে রেখে সিলেটের এক বাসাবাড়িতে কাজ নিতে হয়েছিল সুনামগঞ্জের মাজেদা আক্তার ঝর্নাকে। আট মাস পর নিজের বাড়ি ফিরলেও ক্লাসে আর ফেরা হয়নি তার।

দোয়ারাবাজার উপজেলার পাণ্ডারগাঁও ইউনিয়নের হিম্মতের গাঁও গ্রামে বার বার আসা উজানের ঢলে সব হারিয়েছে ঝর্নার পরিবার।

তার মা জুলেখা বেগম জানান, ঝর্নার বাবা একটি চালকলে কাজ করে ৫ হাজার টাকা পান। সংসার চালাতে ছোট ছেলে শাহিনুর আক্তারকেও প্রাথমিকের পড়া শেষে খামারের কাজে পাঠাতে হয়েছে।

টিকে থাকাই যাদের জন্য কঠিন, তাদের সন্তানদের পড়ালেখার স্বপ্ন কীভাবে শেষ হয়ে যায়, তা শোনা গেল জুলেখার কণ্ঠে।

“বন্যার কারণে ঘর-বাড়ি ভাইঙা গেছে। অভাবের লাইগাই স্কুল ছাড়াইয়া দিয়া মাইয়ারে এক বাড়িতে কামে দিছিলাম, পোলারেও দিছি আরেক কামে। কিছু পয়সা যদি আসে।”

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশকে এখন নিয়মিত বন্যা, ঘূর্ণিঝড়ের মত দুর্যোগ সামলাতে হচ্ছে। তাতে দীর্ঘ করছে বাস্তুচ্যুত মানুষের তালিকা, দারিদ্র্য বাড়ায় টলে যাচ্ছে সামাজিক ভারসাম্য।

এ সংকট সবচেয়ে বেশি চাপে ফেলছে স্কুলগামী শিশুদের। আর্থিক দুর্দশায় পড়া পরিবারগুলোর ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে শ্রেণিকক্ষ ছাড়তে হচ্ছে লাখো শিশুকে।

এই শিক্ষার্থীদের আবার স্কুলমুখী করা কতটা কঠিন, তা হাওর অঞ্চলের সাম্প্রতিক বন্যার প্রসঙ্গ ধরে বললেন তিন দশক ধরে শিক্ষকতা করা মৌলভীবাজারের বড়লেখার দীপক রঞ্জন দাস।

“অভিভাবকরা চাইবে ঘর মেরামতে বা ফসলের জমিতে তাদের বাচ্চাদের কাজে লাগাতে। নিজেদের খাবার জোগানোর জন্যই এখন তারা ব্যস্ত।”

Also Read: এসএসসি: কতটা প্রস্তুত বানভাসিরা?

Also Read: পরীক্ষার কী হবে, স্কুল খুলবে কবে, উত্তর পাচ্ছে না হাওরের শিক্ষার্থীরা

দুর্যোগ আর দারিদ্র্যের সঙ্গে এই লড়াইয়ের কারণে দুর্গত এলাকাগুলো শিক্ষায় অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে বলে মনে করেন দাসের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের এই প্রধান শিক্ষক।

বন্যার কারণে প্রতিবছর শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমার অনেক শিক্ষার্থী অভাব-অনটনে কাজে লেগে গেছে। কেউ বাসে হেলপারি করে, দোকানে কাজ করে। তারা আর স্কুলে ফিরে আসছে না।”

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করছে বন্যা। আর প্রায় প্রতি বছর এ ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে বলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সিলেট বিভাগের শিশুরা।

দীপক রঞ্জন দাসের স্কুলে ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে, তার ধারণা, অতি দুর্গত এলাকায় এই হার আরও বেশি।

ক্ষতির চিত্র

প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে যে ক্ষত রেখে যাচ্ছে তার একটি চিত্র পাওয়া যাচ্ছে চলতি বছরের জুনে প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওই প্রতিবেদনে।

তাতে দেখা যাচ্ছে, ২০১৫ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে দেশে ১০ লাখ ১৫ হাজার ৭৭৭ জন শিশু (পুরো ছয় বছরে) প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বছরের কোনো একটি সময় শ্রেণিকক্ষ থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হয়েছে।

তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, ১৭ দশমিক ৯১ শতাংশ শিশু সিলেট বিভাগের। এরপর রয়েছে রংপুর (১৪.৭৩ শতাংশ) ও ঢাকা বিভাগ (১৪.২৮ শতাংশ)।

ওই পাঁচ বছরে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিভিন্ন সময়ে স্কুলের বাইরে থেকেছে ৫ থেকে ১৭ বছরের ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৮৬৫ জন শিশু, যাদের ৬৭ দশমিক ৯৮ শতাংশের বয়স ছিল ১২ বছরের কম।

এক্ষেত্রেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে (৯৮ হাজার ৮৪৪ জন) সিলেট বিভাগের শিশুরা।

আর এই ছয় বছরে সবচেয়ে বেশি শিশুর (৭০ দশমিক ৫৩ শতাংশ) শিক্ষা বিঘ্নিত হয়েছে বন্যার কারণে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড়ে ১০ দশমিক ৭২ শতাংশ ও জলাবদ্ধতায় ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ শিশুকে স্কুলের বাইরে থাকতে হয়েছে কোনো একটি সময়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদনে বলা হয়, যে শিশুরা দুর্যোগের সময় স্কুলে যেতে পারেনি, তাদের ৫৬ দশমিক ৬০ শতাংশের ক্ষেত্রে বাধা হয়েছে ভেঙে পড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা। অসুস্থ হওয়ায় বা আঘাত পাওয়ায় ২৪ দশমিক ১৭ শতাংশ শিশু এবং স্কুলের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ শিশু স্কুলের বাইরে থেকেছে ওই সময়।

এছাড়া পারিবারিক আয় কমে যাওয়া, স্কুল ধ্বংস হয়ে যাওয়া, বইপত্র নষ্ট হওয়া এবং স্থানচ্যুত হওয়ার কারণেও অনেক শিশু স্কুল ছেড়েছে।

সবশেষ গত জুনে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যায় ৫ হাজারের বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়েছে, যা কেবল মাধ্যমিক পর্যায়েই ৬ লাখ শিক্ষার্থীকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

Also Read: বানভাসিদের দিনলিপি: ভিটাই ভেসে গেছে সাগরের, আনোয়ারাদের ঘর-খোরাকি সবই

Also Read: বন্যায় বসতঘর পরিণত বীজতলায়, বছরের খোরাকি হাঁসের আধার

শিক্ষার্থীরা কোথায় হারাচ্ছে

হাওরাঞ্চলে প্রতিবছরই পাহাড়ি ঢলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডুবে যায় কিংবা আশ্রয়কেন্দ্র হয়ে ওঠে। তাতে পড়ালেখা ব্যাহত হয়, ওই সময়টাতেই অনেকে স্কুল ছেড়ে দেয়, ঝরে পড়ে।

নেত্রকোণার দুর্গাপুরের বাকলজোড়া নয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফারুক আহাম্মেদ জানান, জুনের শেষের বন্যার পর এখন ৫০-৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হচ্ছে।

দুর্যোগ নিয়মিত রূপ নেওয়ায় শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “বন্যায় ফসলের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। তাই এই শিক্ষার্থীরা নিজেদের ক্ষেতে কাজ করে।

“আমরা অভিভাবকদের বলি স্কুলে পাঠাতে। কিছুদিন দেখা যায় তারা পাঠায়, এরপর আবার এমন পরিস্থিতি হলে আর পাঠায় না।”

এই শিক্ষক জানান, বন্যার পরে কিছু পরীক্ষা তারা নিতে পেরেছেন। স্কুলের ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীর অর্ধেকই এবার প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় বসতে পারেন। দশম শ্রেণির ২১৮ জন শিক্ষার্থীর ২০ জন রেজিস্ট্রেশন করেনি।

১০ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে যাচ্ছে মন্তব্য করে ফারুক আহাম্মেদ বলেন, “মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলেরা অনেকেই গার্মেন্টসে চলে গেছে, এই এলাকার মানুষ দরিদ্র হওয়ায় ছেলেদের কাজে যুক্ত করে দেয়। অভিভাবকরা সচেতন নয়।”

শিক্ষকরা বলছেন, বছরের পর বছর দুর্যোগ সামলে দুর্গত এলাকাগুলো অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েছে। আবার নতুন করে দুর্যোগে পড়ে দরিদ্ররা অতিদরিদ্র হয়ে যাচ্ছে।

সুনামগঞ্জের হিম্মতের গাঁও গ্রামের এসএসসি পরীক্ষার্থী হুমায়রা জান্নাত খাদিজাকে এমন পরিস্থিতিতে পড়াশুনা বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

তার মা আলিমা বেগম জানান, আর্থিক সংকট কাটাতে তিনি নিজে বাসাবাড়িতে কাজে নেমেছেন। আর পরিবারের কাজ সামলাচ্ছে হুমায়রা।

“ওর বাপের তেমন রোজগার নাই। পড়ার খরচ জোগাতে পারে না। চারটা বাচ্চা নিয়া চলা তো অনেক কঠিন। এই লাগিয়া হুমায়রারে আর স্কুলে পাঠাই না।”

এবারের বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি হওয়ায় শিক্ষাক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের সোনাপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক এমদাদুল হক।

তিনি বলেন, বন্যায় তার এলাকায় অনেক শিক্ষার্থীর বই-খাতা, নোট নষ্ট হয়েছে। ১৬ জুন দুজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুও হয়েছে।

সুনামগঞ্জ শহরে থাকা এই শিক্ষককে দোয়ারাবাজারে যেতে চারটি সেতু পার হতে হয়। এবারের বন্যায় সেতুর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।

“অনেক শিক্ষার্থী ৪-৫ কিলোমিটার দূর থেকে আসে। কিন্তু (বন্যার পর) যাতায়াত ব্যবস্থা তো আগের মত নেই। এই কারণেও অনেকে স্কুলে আসছে না।”

এমদাদুল হকের ধারণা, আগে যেখানে বছরে ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ত, শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী হওয়ার প্রবণতা আরও কমে এবার তা ১৫-২০ শতাংশ ছাড়াতে পারে।

দুর্যোগ পরবর্তী দারিদ্র্যই শিক্ষার্থীদের স্কুলের পথ থেকে সরিয়ে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

“নবম শ্রেণিতে যে প্রথম হয়েছে, তাকে বাবা-মা গোপনে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে। কারণ, দারিদ্র্য। তারা মনে করে, মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিলে ভরণপোষণের খরচটা হবে না।”

ছাত্ররা বেশি ঝরে পড়ছে?

মেয়েরা বাল্যবিয়ের কারণে ঝরে পড়লেও অনেক ছেলে স্কুলেই আসছে না বলে জানালেন শিক্ষক এমদাদুল হক।

“বর্তমানে ছেলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। একটা ক্লাসে ১০০ জনের মধ্যে ৭৫ জনই মেয়ে। ছেলেরা প্রাথমিকের পর পড়ালেখায় থাকছে না, ঝরে পড়ছে।”

এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “অভিভাবকরা মনে করে, পড়ালেখা করে কী লাভ হবে? বাবা-মার কৃষি জমিতে সহায়তা করলে পরিবার ভালোভাবে চলবে। আরেকটা বিষয় কাজ করে যে, এখন মেয়েরা চাকরি পায়, ছেলেরা পায় না।”

১০ লাখের বেশি শিশুর প্রাকৃতিক দুর্যোগে শিক্ষাবঞ্চিত থাকার যে তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, তার ৫১ দশমিক ৮৫ শতাংশই ছেলে।

এই প্রতিবেদনে, প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীর সংখ্যা বেশি হওয়ার জন্য প্রাকৃতিক দুযোগে অনেক বেশি ছেলে শিশুর স্কুলের বাইরে থাকাকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। একই পরিস্থিতিতেও ছাত্রীরা ক্লাসে আসছে সরকারি বৃত্তি সহায়তা পাওয়ায়।

কী করা উচিত

শিক্ষক এমদাদুল হক মনে করেন, দরিদ্র ও মেধাবীদের সরকার প্রণোদনা দিলে তারা ক্লাসে ফিরে আসবে। পাশাপাশি জামা-জুতো, খাতার মত উপকরণে বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর- মাউশির সাবেক মহাপরিচালক ফাহিমা খাতুন জানান, হাওরাঞ্চলে বন্যার সময় ওই এলাকায় বছরের সব ছুটি একসাথে দেওয়ার একটি প্রস্তাব থাকলেও পরে সেটি চূড়ান্ত হয়নি।

“সরকারের পাশাপাশি স্বচ্ছলদের এইসব দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে। শিক্ষকদেরও তাদের পড়াশুনার জন্য আলাদাভাবে যত্ন নিতে হবে। অতিরিক্ত ক্লাসের মাধ্যমে তারা ক্ষতি পুষিয়ে নেবে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ মনে করেন, দুর্যোগে অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেকে ঝরে পড়ছে। বিশেষ করে হাওর ডুবে গেলে নৌকায় যাতায়াত করতে হয়। তখন ভয় ও নৌকার খরচের কারণে পরিবারগুলো সন্তানদের স্কুলে পাঠায় না।

কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে হাওর এলাকা নিয়ে গবেষণার জন্য সুনামগঞ্জে থাকা এই শিক্ষক বলেন, “দুর্যোগে দরিদ্ররা আরও কোনঠাসা হয়ে পড়ছে এবং অনেক স্বচ্ছল পরিবারও দরিদ্র হয়ে যাচ্ছে। পরে অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শিশুরা কাজে গিয়ে পড়াশুনা থেকে সরে যাচ্ছে।”

সেজন্য হাওর, উপকূলসহ দুর্গত এলাকার অভিভাবকদের সচেতন করার পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল না করে টেকসই প্রকল্পের মাধ্যমে ওই পরিবারগুলোকে আত্মনির্ভরশীল করতে হবে। এতে পরিবার চলতে পারবে, সন্তানদের ওপর চাপ পড়বে না, তারা পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারবে।

“হাওর পানির নিচে চলে গেলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল নিয়ে বিভিন্ন জমিতে মাছ চাষ করে। সেক্ষেত্রে যারা কৃষিকাজ করে, ৬-৭ মাস তাদের কাজ থাকে না। তাদের জন্য বিকল্প কাজের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। টুরিজম সেক্টরকে ডেভেলপ করলে তারা কাজ করতে পারবে। এভাবে তাদের অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যেতে পারে।”

সরকারকে দুর্যোগের সময় ‘ভ্রাম্যমান স্কুল’ চালুরও পরামর্শ দিয়েছেন আবুল কালাম আজাদ।

মৌলভীবাজারের দাসের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক রঞ্জন দাস জানিয়েছেন, তার প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেওয়া শিশুদের এবার তারা মৌলিক বিষয়গুলো পড়িয়েছেন। এভাবে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় ধরে রাখার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।

পরিকল্পনা ‘নেয়া হচ্ছে’

অবকাঠামোগত ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা গেলেও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি পারিবারিক-সামাজিকভাবে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার যে ক্ষতি হয়, তা কাটিয়ে ওঠা কঠিন বলে মনে করেন মাউশির পরিচালক শাহেদুল খবির চৌধুরী।

সেজন্য বর্তমান শিক্ষা কাঠামো যে পুরোপুরি প্রস্তুত না, তা স্বীকার করে তিনি বলেন, “এমন শিক্ষার্থীদের সমস্যা দেখার নির্দেশনা আছে। কিন্তু বাস্তবতা হল- দেখার বিষয়টি সেভাবে পারা যায় না। এটাও বাস্তবতা যে, আমাদের সব জায়গায় সেভাবে সুযোগ নেই।”

প্রাকৃতিক বিপর্যয়, করোনাভাইরাসসহ বিভিন্ন বাধায় শিক্ষার্থীদের ক্ষতির চিত্র সম্প্রতি সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে শাহেদুল খবির বলেন, “ফাইন্ডিংসের ভিত্তিতে প্ল্যান করা হচ্ছে, যাতে যে কোনো পরিস্থিতিতে লার্নিং গ্যাপ দূর করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। লসটা রিকভারি করার জন্য দৈনন্দিন শ্রেণি কার্যক্রম সমন্বয় করার মত প্ল্যান যেন নেওয়া যায়।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক