Published : 14 May 2026, 02:01 PM
দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে স্থায়ী জামিন দিয়েছে আদালত।
তিনি এখন যে কোনো সময় বিদেশও যেতে পারবেন। তবে তার ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফ চেয়ে করা আবেদন নাকচ করে মামলার তারিখে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।
আনিস আলমগীরের আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি জানান, এদিন মামলার দিন ধার্য ছিল। সে অনুযায়ী আদালতে হাজিরা দেন আনিস আলমগীর।
তার স্থায়ী জামিনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফ করে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা এবং যে কোনো সময় যাতে বিদেশে যেতে পারেন, সে বিষয়ে তিনটি আবেদন করেন আইনজীবী পপি।
শুনানি নিয়ে আদালত ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদনের নামঞ্জুর করে। বাকি দুটি আবেদন মঞ্জুর করা হয়।
গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গত ১৪ ডিসেম্বর রাত ৮টার পর সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
এরপর ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামে একটি সংগঠনের সদস্য আরিয়ান আহমেদ মধ্যরাতে আনিস আলমগীরসহ চারজনের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্র এবং নিষিদ্ধ সংগঠনকে উসকে দেওয়ার’ অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।
অপর আসামিরা হলেন—অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, মারিয়া কিসপট্টা (ফ্যাশন মডেল) ও ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজ (উপস্থাপক)।
ওই মামলায় আনিস আলমগীরকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এরপর গত ১৫ জানুয়ারি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ২৮ জানুয়ারি তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় আদালত।
গত ৫ মার্চ সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় এবং ১১ মার্চ দুদকের মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারামুক্ত হন আনিস আলমগীর।
দুদকের মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আনিস আলমগীরের নামে ২৫ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হিসেবে তার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ফলে মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা। আনিস আলমগীরের বৈধ আয়ের উৎস থেকে মোট আয় পাওয়া গেছে ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। এর মধ্যে অতীত সঞ্চয় ৫৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮২১ টাকা, টক শো ও কনসালটেন্সি থেকে আয় ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টাকা, প্লট বিক্রি থেকে ২২ লাখ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক সুদ বাবদ ৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, তার ঘোষিত ও গ্রহণযোগ্য আয়ের তুলনায় ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদ বেশি পাওয়া যায়, যা মোট অর্জিত সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ এবং তা ‘জ্ঞাত আয় বহির্ভূত’ সম্পদ।