Published : 23 Dec 2013, 09:18 AM
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জেন সাকি রোববার এক বিবৃতিতে এ কথা জানান।
জেন সাকি বিবৃতিতে বলেন, দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে- এমন একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ গণতন্ত্রের প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরার সুযোগ নেবে বলেই যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে।
“কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র হাতাশার সঙ্গে দেখল, তেমন একটি নির্বাচন আয়োজনে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি, বরং ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অর্ধেকেরও বেশি আসন থেকে গেছে প্রতিদ্বন্দ্বীহীন।
“এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র এই নির্বাচনে কোনো পর্যবেক্ষক পাঠাবে না। তবে পরে নির্বাচনের জন্য আরো অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে পর্যবেক্ষক পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্র তৈরি।”
তফসিল অনুযায়ী ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির বর্জনের কারণে একক প্রার্থী থাকায় ১৫৪টি আসনের ফল আগেই নির্ধারিত হয়ে গেছে। সে অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখে ভোট হবে ১৪৬টি আসনে।
এদিকে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসা বিএনপি ও শরিকরা তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ছুটির দিনগুলো ছাড়া প্রতিদিন সারা দেশে অবরোধ চালিয়ে আসছে। সহিংসতায় এর মধ্যেই আশি জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই আগুনে পুড়ে বা বোমা বিস্ফোরণে মারা গেছেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের বিশেষ দূত অস্কার ফার্নান্দেজ-তারানকো চলতি মাসের শুরুতে ঢাকা সফর করে দুই প্রধান দলকে সংলাপে বসিয়ে তা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ঢাকা ছাড়েন।
কিন্তু দুই দলের নেতাদের মধ্যে পরে দুদফায় বৈঠক হলেও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে গত শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) জানিয়ে দেয়, তারা এবার বাংলাদেশে পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে না।
ইইউর পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেনটেটিভ ক্যাথেরিন অ্যাশটন এক বিবৃতিতে বলেন, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন পক্ষের নানামুখী চেষ্টার পরও বাংলাদেশের রাজনৈতিক শক্তিগুলো অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচনের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
সহিংসতা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাজনীতিবিদদের প্রতি অনুরোধ জানান ক্যাথেরিন অ্যাশটন।
প্রায় একই ধরনের বক্তব্য এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্রের কাছ থেকেও।
সংলাপ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি সমাধান খোঁজার চেষ্টা দ্বিগুণ করার জন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জেন সাকি।
“নিঃশঙ্ক চিত্তে সহিংসতামুক্ত পরিবেশে নিজেদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ বাংলাদেশের জনগণের প্রাপ্য। যারা দেশের নেতৃত্বে আছেন এবং যারা নেতৃত্বে আসতে চান- তাদেরকেই দেশের আইন - শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে এবং সব সহিংসতা, উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়া এবং হুমকি-নিপীড়নে সমর্থন দেয়া বন্ধ করতে হবে।”