Published : 21 Jun 2026, 09:27 AM
কেপ ভার্দের বিপক্ষে হতাশাজনক পারফরম্যান্স এবং গোলশূন্য ড্রয়ে ‘ফেভারিট’ স্পেনের গায়ে একটু আচঁড় লেগেছে বটে, কিন্তু ফেরনান্দো ইয়েররো সেটাকে বড় করে দেখছেন না। ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে, সাবেক এই স্প্যানিশ ডিফেন্ডার উত্তরসূরিদের প্রশংসায় হলেন পঞ্চমুখ। লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলটির মধ্যে সত্যিকারের দৃঢ়তা দেখছেন তিনি।
সেরা সাফল্যের উচ্ছ্বাসে ভাসতে না পারলেও, ইয়েররো বর্ণিল ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা নিয়েছেন যথেষ্ট। স্পেনের হয়ে খেলেছেন চারটি আসরে। নব্বই দশকের তারকা ডিফেন্ডারদের মধ্যে তিনিও একজন। এরপর কোচ ও টেকনিক্যাল ভূমিকায় বিশ্বকাপে ফিরেছেন তিনি। ফিফার সাথে আলাপচারিতায়, নিজেদের সময়ের দিকে যেমন পিছু ফিরে তাকালেন ইয়েররো, তেমনি ইয়ামাল-পেদ্রিদের দলটিকে দেখলেন বিশ্লেষণী দৃষ্টিতে।
কখনও বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালের বৈতরণী পার করা হয়নি ইয়োররোদের। ৫৮ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার নিজের খেলা চার বিশ্বকাপের মধ্যে এগিয়ে রাখলেন ১৯৯৪ সালের আসরটি।
“১৯৯০ সালের ইতালি আসর ছিল আমার প্রথম বিশ্বকাপের স্বাদ পাওয়া। যদিও, আমি মাঠে নামতে পারিনি। তবে, স্মরণীয় একটি বিশ্বকাপ যদি বেছে নিতে বলা হয়, আমি বলব, ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ। আমার জন্য ওই বিশ্বকাপ ছিল অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা।”
“সবসময়ই আমরা অনুভব করতাম, আমাদের দিন আসবে। একাধিকবার আমরা কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠেছি এবং বিশেষ কিছু পাওয়ার পথে ছিলাম, কিন্তু আমরা শেষ পর্যন্ত কাজটা শেষ করতে পারিনি। শীর্ষ পর্যায়ের কিছু পারফরম্যান্স করে আমরা পেনাল্টিতে যেতে পেরেছি, আবার অনেক সময়, সুযোগ তৈরি করেও কাজে লাগাতে না পেরে ছিটকে গেছি।”
বর্তমান প্রজন্ম নিয়ে গড়া স্পেন দলটিকে অবশ্য নিজেদের মতো মনে হচ্ছে না ইয়েররোর। লুইস দে লা ফুয়েন্তের কোচিংয়ে তারা ইউরোপ সেরা হয়েছে। এবার তারা মুখিয়ে ২০১০ সালের স্মৃতি ফেরাতে। দলের মধ্যে, লক্ষ্য পূরণের সেই দৃঢ়তা, প্রাণের সঞ্চার দেখছেন ইয়েররো।
“এই দলকে আমরা অত্যন্ত সংহত এবং দৃঢ় মনে হচ্ছে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, দলের ভেতরে দারুণ একটা আবহ বয়ে চলেছে। দে লা ফুয়েন্তে জানেন, ছেলেদের মাঠে কার্যকর করতে কী প্রয়োজনীয়। কেননা, তিনি যুব পর্যায়ে এই ছেলেদের নিয়ে কাজ করেছেন এবং সেটা দেখাও যাচ্ছে। এটা শক্তিশালী একটি দল।”
“মানুষ এই ছেলেদের বয়স নিয়ে কথা বলে, কিন্তু মাঠের খেলায় তাদের দেখে তা মনে হয় না। তারা ভালোভাবে প্রস্তুত, আত্মবিশ্বাসী এবং তাদের মধ্যে একতা আছে। আর এতে তাদের বিশ্বকাপে ভালো কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।”
প্রতিপক্ষ যে দলই হোক, বর্তমান স্পেন দলটি একই মানসিকতা, একই তীব্রতা নিয়ে খেলে। দলের খেলার ধরনও থাকে একই। এই দিকগুলোই দে লা ফুয়েন্তের দলের শক্তির জায়গা বলে মনে করেন ইয়েররো।
“এই দলটার বৈশিষ্ট্য আমার পছন্দ। প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, একই মানসিকতা নিয়ে তারা খেলতে নামে। এমনকি ম্যাচটা ইউরোর সেমি-ফাইনাল, বা ফাইনাল হোক, তারা নিজেদের কৌশলেই খেলে। সত্যিকার অর্থেই সবদিক থেকে পরিপূর্ণ একটি দল।”
বিশেষ করে তরুণ লামিন ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস ও পেদ্রিদের প্রশংসায় ভাসালেন ইয়োররো। যেভাবে তারা মাঠে নিজেদের মেলে ধরে, সাবেক এই তারকার তো বিশ্বাসই হতে চায় না, ইয়ামালরা এত কম বয়সী!
“যদি আপনি তাদের বয়সটা না জেনে থাকেন, তাহলে বিশ্বাসও করতে পারবেন না তারা এত তরুণ। এর কারণ হচ্ছে, খেলাটা তারা যেভাবে বোঝে এবং মাঠে যেভাবে মেলে ধরে। তারা স্বাধীনতা নিয়ে খেলে, কিন্তু তারা দায়িত্ব নেয়। কাজগুলো ঠিকঠাক করার জন্য নিজেদের সেরাটা তারা নিংড়ে দেয়, নিজেদের খেলা উপভোগ করে। এই সৃষ্টিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ।”
“তিন জনই (ইয়ামাল, পেদ্রি ও উইলিয়ামস) দুর্দান্ত বৈশিষ্ট্যের। নিকো ও লামিন ওয়ান অন ওয়ান পরিস্থিতিতে ভয়ডরহীন। পেদ্রির আছে ছন্দ-প্রয়োজন অনুযায়ী ম্যাচের গতি কমাতে ও বাড়াতে পাতে, বল পায়ে রাখতেও জানে। বয়সের চেয়ে তারা পরিণত, যেটা বিরল। তারা এতটা আত্মবিশ্বাসের সাথে খেলে, যেটা সাধারণত, অনেক বেশি অভিজ্ঞদের ক্ষেত্রে দেখা যায়।”