Published : 20 Jun 2026, 07:28 PM
একাধিক প্রতারণার মামলার আসামি মির্জা আবুল বাশার মামুনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
প্রায় ১৮ ঘণ্টা অভিযানের পর শনিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামুনের বিরুদ্ধে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে প্রতারণাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন গুলশান থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া মামুন চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববির স্বামী। তিনি বলেন, “শুক্রবার রাত থেকে বাসাটি নজরদারিতে রাখা হয়। পরে শনিবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।”
পুলিশ বলছে, গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে মামুনের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা দায়ের হয়। এরপর প্রায় এক মাস ধরে তাকে খুঁজছিল ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপি। তবে কয়েক দফায় তিনি পুলিশের নজর এড়িয়ে পালিয়ে যান। ডিএমপির গুলশান বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান বলেন, সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে বাসাটি ঘিরে ফেলে পুলিশ।
“শনিবার সকালে তল্লাশি চালিয়ে বাথরুমের পেছনে ফলস সিলিংয়ের মধ্যে তৈরি করা একটি গোপন স্থানে মামুনকে পাওয়া যায়। সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে,” বলেন তিনি।
গুলশানসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মামুনের বিরুদ্ধে প্রতারণার একাধিক অভিযোগ থাকার তথ্য দিয়ে তারিকুজ্জামান বলেন, গুলশান থানায় দায়ের করা একটি প্রতারণা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গত বছরের অক্টোবরেও প্রতারণার অভিযোগে মামুনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মামুন জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মামুন নিজেকে ‘বিটিএল গ্রুপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধেও প্রতারণা এবং অর্থ পরিশোধ না করার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, গত কোরবানির ঈদের আগে একটি খামার থেকে আটটি গরু নিয়ে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক দেন মামুন। পরে সেই চেকের অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ওঠে।