Published : 21 Jun 2026, 09:06 AM
কী নেই আর্জেন্টিনা দলে। মহাতারকা লিওনেল মেসির বাহুতে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। পোস্টে আছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেসের মতো বিশ্বস্ত মুখ। লাউতারো মার্তিনেস, হুলিয়ান আলভারেস আক্রমণভাগে। নিকোলাস ওতামেন্দি, নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর মতো অভিজ্ঞরা আগলে রাখছেন রক্ষণভাগ। রদ্রিগো দে পল, এন্সো ফের্নান্দেসরা বেঁধে দিচ্ছেন মাঝমাঠের সুর। এদের সবার পেছনে থাকা মানুষটি লিওনেল স্কালোনি, যিনি আর্জেন্টিনা নামের ‘অর্কেস্ট্রার’ আসল ‘কন্ডাক্টর’।
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে, আর্জেন্টিনার শক্তির জায়গাগুলো দেখিয়ে দিলেন, দলটির সহকারী কোচ পাবলো আইমার। ৩৯ ছুঁইছুঁই বয়সে দ্যুতি ছড়ানো মেসির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন। স্কালোনির কাজের ধরণ নিয়ে মুগ্ধতা ঝরল তার কণ্ঠে। বললেন, কোচ দলের আবহ তৈরি করেছেন এমনভাবে, যেখানে সবাই নিজেকে নিরাপদ ভাবতে পারে, অনুভব করে প্রশান্তি।
২০১৮ সালে, হোর্হে সাম্পাউলির বিদায়ের পর, স্কালোনি অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব নেন। তখন থেকেই তার সহকারী হিসেবে কাজ করছেন আইমার। এই জুটি অটুট এখনও। সাবেক এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার স্কালোনির ধ্যান-ধারণা, কাজের ধরণ, খুব কাছ থেকে দেখছেন দীর্ঘদিন ধরে। ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই অভিজ্ঞতাই তুলে ধরেন আইমার।
“স্কালোনি দুর্দান্ত একটি দল এবং দুর্দান্ত এক দল খেলোয়াড় তৈরি করেছে, যারা সবাই একই লক্ষ্যে ছুটছে। এটা অর্জন করা খুবই কঠিন। সর্বোপরি, যেটিকে আমি তার বড় গুণ বলে মনে করি, তা হচ্ছে, খেলোয়াড়দের মধ্যে নিরাপত্তা ও প্রশান্তি’র সঞ্চার করা, যেটি করা খুবই কঠিন।”
গুরুত্বপূর্ণ এই কাজটুকু করেই দলকে এক সুঁতোয় গেঁথেছেন স্কালোনি। ২০২২ সালে, ৩৬ বছরের খরা ঘুচিয়ে আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছেন তৃতীয় বিশ্বকাপ। মাঝে কিছুটা সময় উত্তাল গেলেও, উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে তার হাত ধরে আলবিসেলেস্তারা এসেছে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য পূরণে। যাত্রাও শুরু হয়েছে দুর্বার, আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে।
ডালাসে বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ১১টায় গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা। জিতলে নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়ে যাবে স্কালোনির দলের। তবে, আইমারের মনে হচ্ছে, ছেড়ে কথা বলবে না অস্ট্রিয়া।
“অস্ট্রিয়া খুবই কঠিন একটা প্রতিপক্ষ, যেটা আমরা এই বিশ্বকাপে অধিকাংশ দলের ক্ষেত্রেই দেখছি। আলজেরিয়ার চেয়ে ভিন্নভাবে মাঠে নামবে তারা, সম্ভবত তাদের খেলোয়াড়রা আরও বেশি শারীরিক শক্তি নির্ভর; কঠিন একটা ম্যাচ হতে যাচ্ছে।”
আলজেরিয়া ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে কঠিন সব বাধা পার হওয়ার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছেন মেসি। কাতার বিশ্বকাপে দুঃস্বপ্নের মতো শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা, সৌদি আরবের বিপক্ষে হেরেছিল ২-১ গোলে। সেই স্মৃতি আওড়ে আইমার প্রশংসায় ভাসালেন আলজেরিয়া ম্যাচে আলো ছড়ানো মেসিকে।
“ভালো শুরুর আনন্দ আছে, যেটা আমাদের বেলায় গত বিশ্বকাপে ঘটেনি। জয়ে শুরু এক ধরণের প্রশান্তি এনে দেয়, যদিও এটা শতভাগ নিশ্চয়তা নয়। সে (মেসি) অসাধারণ এবং সবার সেরা অ্যাথলেট।”