Published : 09 Sep 2025, 06:13 PM
‘মঞ্চ ৭১’ এর অনুষ্ঠানের ঘটনায় ‘সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সচিব ভূঁইয়া সফিকুল ইসলামকে জামিন দেয়নি আদালত।
ঢাকার শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এ মামলায় জামিন আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম মো. আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী এ তথ্য দিয়েছেন।
এদিন ভোরে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার আনন্দলোক ইকো রিসোর্ট থেকে সফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির ইন্সপেক্টর মো. আখতার মোর্শেদ তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
আসামিপক্ষে আইনজীবী লিটন মিয়া জামিন চেয়ে শুনানি করেন।
তিনি আদালতে বলেন, “সফিকুল ইসলাম কথিত মামলার সাথে কোনোক্রমে জড়িত না। যে ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। হয়রানি করতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি একজন বয়স্ক, অসুস্থ মানুষ। ‘মঞ্চ ৭১’ এর সদস্য না। ঘটনার সাথে তার বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা নেই। তার জামিন প্রার্থনা করছি।”
রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করেন।
তিনি বলেন, “সরকার উৎখাতে এ আসামিরা সেদিন জড়ো হয়েছিলেন। ৫ অগাস্ট মঞ্চ করে তারা ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে ফিরিতে আনতে চায়। তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হবে না। তার জামিনের বিরোধীতা করছি।”


শুনানি নিয়ে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে সফিকুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত ২৮ অগাস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মঞ্চ ৭১‘এর আয়োজনে মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান নিয়ে এক আলোচনা সভায় ‘মব’ হামলার হন সাবেক মন্ত্রী, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী কয়েকজন।
সেখান থেকে লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে তাদের শাহবাগ থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
এক দিন আগে আরেক সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খানকে এ মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়, যিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে নিয়মিত টেলিভিশনের আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন।
আবু আলমকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, তিনিও ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং ‘সরকাবিরোধী ষড়যন্ত্রের’ সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ভূঁইয়া সফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পরও অন্যদের সাথে তার ‘গোপন আঁতাতের’ তথ্য পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সফিকুল ইসলাম ২০১৩ সালে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব ছিলেন। ২০১৫ সালে তাকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব করা হয়।
এ মামলায় কারাগারে থাকা অপর আসামিরা হলেন-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন), গোলাম মোস্তফা, জাকির হোসেন, মো. তৌছিফুল বারী খাঁন, আমির হোসেন সুমন, মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, আব্দুল্লাহীল কাইউম, কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল, মো. মহিউল ইসলাম ওরফে বাবু, মো. আল আমিন, মো. নাজমুল আহসান, সৈয়দ শাহেদ হাসান, দেওয়ান মোহম্মদ আলী এবং মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, “মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্যে গত ৫ অগাস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়া। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ২৮ অগাস্ট সকাল ১০টায় একটি গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
“সেগুনবাগিচায় বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর মধ্যেই এক দল ব্যক্তি হট্টগোল করে স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে ঢুকে পড়েন। একপর্যায়ে তারা অনুষ্ঠানস্থলের দরজা বন্ধ করে দেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজনকে লাঞ্ছিত করেন। হট্টগোলকারীরা গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং আলোচনায় অংশ নেওয়াদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে অতিথিদের অনেককেই বের করে দেওয়া হলেও আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবং অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। পরে পুলিশ এসে ১৬ জনকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করেন এসআই আমিরুল ইসলাম। পরবর্তীতে এ মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।”
আরও পড়ুন: