Published : 01 Jan 2026, 10:02 AM
বছর গড়ালেও বই ছাপা ও বিতরণের কাজ শেষ হয়নি; ফলে পৌনে ছয় কোটির বেশি বইয়ের অপেক্ষা নিয়েই বৃহস্পতিবার শিক্ষাবর্ষ শুরু হলো মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের।
নতুন বছরের জন্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মিলিয়ে ৩০ কোটি বই ছাপা ও বিতরণের লক্ষ্য ঠিক করেছিল জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড-এনসিটিবি। আর বই ছাপানোর দায়িত্ব পেয়েছিল কেবল দেশি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান।
প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৮ কোটি ৫৯ লাখ কপি নতুন বই ছাপা ও বিতরণের কাজ গত ১৬ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। আর মাধ্যমিক ও এবতেদায়ী পর্যায়ের (মাদ্রাসার প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত) শিক্ষার্থীদের ২১ কোটি ৪৩ লাখ বইয়ের মধ্যে বুধবার রাত পর্যন্ত উপজেলায় পৌঁছেছে ১৫ কোটি ৬১ লাখ বই।
বাকি পাঁচ কোটি ৮১ লাখ বইয়ের অপেক্ষা ‘মধ্য জানুয়ারিতে’ কাটবে বলে আশা এনসিটিবির কর্মকর্তাদের।
সংস্থার পাঠ্যপুস্তক উইংয়ের দায়িত্বে থাকা সদস্য অধ্যাপক রিযাদ চৌধুরী বুধবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রাত ৮টা পর্যন্ত মাধ্যমিক ও এবতেদায়ী পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মোট বইয়ের ৭২ দশমিক ৮৫ শতাংশ উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। রাতে আরও বই যাবে।
“বাদ বাকি বইগুলো আমরা দ্রুততম সময়ে উপজেলা পর্যায়ে পাঠানোর চেষ্টা করছি। আশা করছি, ১৫ জানুয়ারির মধ্যেই শতভাগ বই শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠানো সম্ভব হবে।”

কোন শ্রেণির কত বই পৌঁছেছে
এনসিটিবির তথ্য বলছে, ২১ কোটি ৪৩ লাখ বইয়ের মধ্যে ৩ কোটি ১১ লাখ বই এবতেদায়ীর। বাকি ১৮ কোটি ৩২ লাখ বই মাধ্যমিকের।
এনসিটিবির উপ-বিতরণ নিয়ন্ত্রক মাহমুদা খানম বুধবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রাত পর্যন্ত মাধ্যমিক ও এবতেদায়ী পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ১৫ কোটি ৬১ লাখ কপি বই পাঠানো হয়েছে। এগুলোর মধ্যে আছে মাধ্যমিকের ১২ কোটি ৬৫ লাখ কপি এবং এবতেদায়ী পর্যায়ের ২ কোটি ৯৫ লাখ কপি।
“এবতেদায়ীর মোট বইয়ের ৯৫ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং মাধ্যমিকের মোট বইয়ে ৬৯ দশমিক ০৭ শতাংশ বুধবার পর্যন্ত উপজেলাগুলোতে পৌঁছে গেছে।”
এনসিটিবির বিতরণ শাখার তথ্য বলছে, মাধ্যমিকের ষষ্ঠ শ্রেণির মোট ৪ কোটি ৪৩ লাখ বইয়ের মধ্যে বুধবার রাত পর্যন্ত ৮০ দশমিক ৫৬ শতাংশ বা ৩ কোটি ৫৭ লাখ কপি বই উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে।
এদিন রাত পর্যন্ত সপ্তম শ্রেণির মোট ৪ কোটি ১৫ লাখ কপি বইয়ের মধ্যে ২ কোটি ২৭ লাখ কপি বা ৫৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ, অষ্টম শ্রেণির ৪ কোটি ২ লাখ কপি বইয়ের মধ্যে ১ কোটি ৮৮ লাখ কপি বা ৪৬ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং নবম শ্রেণির তিন বিভাগের ৫ কোটি ৭০ লাখ কপি বইয়ের মধ্যে ৪ কোটি ৭৭ লাখ কপি বা ৮৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ উপজেলায় পৌঁছেছে।
এদিকে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য ৮ কোটি ৫৯ লাখ ২৪ হাজার কপি বইয়ের মুদ্রণ ও বাঁধাই শেষে উপজেলাগুলোতে গত ১৬ ডিসেম্বর পৌঁছে গেছে বলে জানিয়েছে এনসিটিবি।
সংস্থার জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম আসাদুজ্জামান রোববার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বছরের শুরু দিনেই প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ের সব শিক্ষার্থী হাতে নতুন বই হাতে পাবেন বলে আশা করছি। এই পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সব বই স্কুলে-স্কুলে ইতোমধ্যে চলে গেছে।”

মাধ্যমিকের বই ছাপার দেরির নেপথ্যে
নতুন বছরের প্রথম দিনে সব শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার রেওয়াজ ছিল সাম্প্রিতক বছরগুলোতে। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুরনো শিক্ষাক্রমে ফেরা এবং বই পরিমার্জনে ‘সময় লাগায়’ সদ্য বিদায় হওয়া বছরে মাধ্যমিকের সব বই হাতে পেতে শিক্ষার্থীদের মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এবার সেপ্টেম্বরে মাধ্যমিকে বই ছাপার কাজ শুরুর করার পরিকল্পনা করেছিল এনসিটিবি।
সংস্থার জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম আসাদুজ্জামান রোববার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটি প্রথম দফায় মাধ্যমিক পর্যায়ের ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বইয়ের দরপত্র প্রক্রিয়া বাতিল করে দেওয়ায় মাধ্যমিক পর্যায়ের বই ছাপার কাজ শুরু হতে ‘দুই মাস’ দেরি হয়। নভেম্বরে শুরু হয়েছিল মাধ্যমিক ও এবতেদায়ী পর্যায়ের ২১ কোটি ৪৩ লাখ কপি বই ছাপার। এ কারণে বছরের প্রথম দিনে মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষার্থীকে সবগুলো বিষয়ের নতুন বই দেওয়া যাচ্ছে না।”
আসাদুজ্জামানের ভাষ্য, শিক্ষার্থীরা কোনো বই পেতে দেরি হলেও যেন তারা অনলাইন থেকে ওই বইয়ের পিডিএফ সংস্করণ সংগ্রহ করতে পারে, সেজন্য এবার নতুন বছর শুরুর আগেই এনসিটিবির ওয়েবসাইটে বই প্রকাশ করা হয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণের মোট ৬৪৭টি পাঠ্যপুস্তকের পিডিএফ সংস্করণ ওয়েবসাইটে রয়েছে বলে জানান তিনি।