১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

হাই কোর্টের সামনে খণ্ডিত লাশ: দুই আসামি ৫ দিনের রিমান্ডে

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জেনিফার জেরিন এ আদেশ দেন।

হাই কোর্টের সামনে খণ্ডিত লাশ: দুই আসামি ৫ দিনের রিমান্ডে
জরেজুল ইসলাম।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Nov 2025, 07:42 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:07 PM

ঢাকার হাই কোর্টের সামনে প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে আশরাফুল হক নামে রংপুরের এক ব্যবসায়ীর খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

তারা হলেন- আশরাফুলের বন্ধু ‘প্রধান সন্দেহভাজন’ জরেজুল ইসলাম ওরফে জরেজ এবং তার ‘প্রেমিকা’ শমীমা আক্তার ওরফে শামীমা ওরফে কহিনুর।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জেনিফার জেরিন তাদের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী এ তথ্য দিয়েছেন।

শুক্রবার রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকা থেকে জরেজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। একই জেলার লাকসাম এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শামীমাকে।

শনিবার তাদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির ধানমন্ডি জোনাল টিমের এসআই মো. এনামুল হাসান।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাই কোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের গেইটের কাছে নীল ড্রাম থেকে খণ্ড-বিখণ্ড লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

২৬ টুকরো লাশের প্রথমে পরিচয় পাওয়া না গেলেও আঙুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের ডেটাবেইজ থেকে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। জানা যায়, লাশটি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজলার গোপালপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের আশরাফুল হকের।

এ ঘটনায় শুক্রবার শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন নিহতের বোন। এ হত্যাকাণ্ডে নিহতের ‘বন্ধু’ জরেজ নামে একজনকে ‘প্রধান সন্দেহভাজন’ হিসেবে খোঁজার কথা বলেছিল পুলিশ।

রাতেই ডিবি পুলিশ জরেজকে এবং র‌্যাব কর্তৃক জরেজের `প্রেমিকা’ শামীমাকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায়।

শনিবার সকালে ঢাকার কারওয়ানবাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জরেজের সঙ্গে শামীমার সম্পর্ক তুলে ধরা হয়। 

শামীমাকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র‌্যাব-৩ এর অধিনায় লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেছেন, তাকে দিয়ে ‘প্রেমের ফাঁদে ফেলে’ আশরাফুলের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা আদায়ের পরিকল্পনা ছিল জরেজের। তবে আশরাফুলকে ঢাকায় আনার পর টাকা আদায় না করে কেন খুন করা হল, সেটির ‘স্পষ্ট ধারণা’ পাওয়া যায়নি।

এদিন দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসে জরেজকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, এটা আসলে একটা ‘ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী’।

দুইজনকে রিমান্ডে চেয়ে তদন্ত কর্মকর্তা যে আবেদন করেছেন সেখানে বলা হয়েছে, আশরাফুলকে হত্যার কারণ, আলামত নষ্ট ও লাশ গুম করতে কে বা কারা সহায়তা করেছে, হত্যকাণ্ডে কারা কীভাবে জড়িত এবং আশরাফুলের কাছ আর্থিক সুবিধা আদায় সংক্রান্ত তথ্য জানতে তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। 

শুনানিকালে আসামিদের এজলাসে তোলা হয়। তাদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। জরেজ ও শামীমার কিছু বলার আছে কি না, জানতে চান বিচারক। জবাবে আসামিরা বলেন, তাদের কিছু বলার নেই। 

পরে আদালত তাদের প্রত্যেকের পাঁচ দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেয়।

আরও পড়ুন:

হাই কোর্টের সামনে খণ্ডিত লাশডিবি বলছে, 'প্রেমঘটিত সংকট'

হাই কোর্টের সামনে খণ্ডিত লাশ: প্রেমিকার ‘ফাঁদে ফেলে’ ঢাকায় এনে বন্ধুকে খুন

হাই কোর্টের কাছে ড্রামে মিলল খণ্ডিত লাশ

হাই কোর্টের সামনে খণ্ডিত লাশ: 'প্রধান সন্দেহভাজন বন্ধুগ্রেপ্তার

হাই কোর্ট এলাকায় ড্রামে পাওয়া লাশটি বদরগঞ্জের আশরাফুলের